বাজেট যেন লুটপাটের হাতিয়ার না হয়: জামায়াত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ২০: ২৪
‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে জনবান্ধব, বৈষম্যহীন ও সংস্কারমুখী করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, বাজেট যেন সাধারণ মানুষকে শোষণের হাতিয়ার কিংবা দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের মাধ্যম না হয়।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়াসরেসুল করিম।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বাজেটের আকার ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও জনগণের জীবনমান ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত কেবল সমালোচনা নয়, সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়। এ লক্ষ্যে দলটি ইতোমধ্যে সাত থেকে আটটি প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করেছে, সেখান থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচিত সরকারের বাজেটে জনগণ পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখতে চায়। ঋণনির্ভর বাজেট থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান চেয়েছেন।

প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়াসরেসুল করিম রাজস্ব কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, আগামী বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে আসবে, যার বড় অংশ গরিব ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে আদায় করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন ও বিকল্প রাজস্ব উৎস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ওয়াসরেসুল করিম বলেন, করের হার বাড়ানো সহজ হলেও করের আওতা বাড়ানোই প্রকৃত দক্ষতার পরিচয়। যাঁরা নিয়মিত কর দেন, তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে, যাঁরা কর ফাঁকি দেন তাঁদের করের আওতায় আনতে গুরুত্ব দেন তিনি। বড় বাজেটের পরিবর্তে গুণগত ও বাস্তবমুখী বাজেট এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বাজেটের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অপচয় ও অনিয়মও বাড়বে, যা টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, দেশীয় সম্পদের ব্যবহার এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান, ডেইলি স্টারের ডেপুটি এডিটর অরুণ দেবনাথ, এসএটিভির বার্তা সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবলু, আউটলুক বাংলার সম্পাদক লুৎফুল কবির সাদী, বাংলাদেশ পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সদরুল হাসানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা।

সম্পর্কিত