আদালতে হাজিরা দিয়ে ডা. আইভীর দাবি, ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দেন ডা. সেলিনা আইভী। স্ট্রিম ছবি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগে করা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে তিনি জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজিরা দেন। হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের কাছে সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে ডা. আইভী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এদিকে মামলার চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত এই মামলায় ডা. আইভীর পক্ষে তার আইনজীবীদের হাজিরা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, পুলিশের ওপর হামলা মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিলে আদালত তার আগের জামিন বহাল রাখেন। শুধু এই মামলায় আদালতে আইভীর আইনজীবী তাঁর পক্ষে হাজিরা দেবে বলে আদালত অনুমতি দিয়েছে। বাকি মামলাগুলোতে এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফেরার পথে ডা. আইভী বলেন, ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। আমি সব সময় নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ করেছি। সর্বক্ষণ হত্যা, অত্যাচার, জুলুমের বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করেছি। আর আজকে আমিই কী অপরাধী! যাই হোক, বিচার আল্লাহ আছে, আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছে, তারা দেখবে।’

পরে ডা. আইভী গাড়িতে শহরের দেওভোগ এলাকার ‘চুনকা কুটির’ বাড়ির পথে রওয়ানা হন। এদিন তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের সকাল থেকে আদালত চত্বরে দেখা দেয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদালতের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ছিল।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ৯ মে সকালে দেওভোগের নিজ বাসা ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক মেয়র ডা. আইভী। পরে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা ১২টি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ সব মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ৩৯১ দিন বন্দি থাকার পর চলতি বছরের ৪ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান।

এ সব তথ্য নিশ্চিত করেন ডা. আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, আইভীকে গ্রেপ্তার দিন তাঁকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে নেওয়ার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশের করা একটি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল আজ মঙ্গলবার। এ মামলায় আইভী জামিনে থাকলেও তিনি আদালতের কার্যবিধি অনুযায়ী হাজিরা দিয়েছেন।

ডা. আইভীর অনুপস্থিতিতে মামলা চালানো সম্পর্কে আইনজীবী আওলাদ হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন, শারীরিকভাবেও অসুস্থ। আমরা আদালতে আবেদন করেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার বিচারকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আর সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরের দিকে শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও তিনবারের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইভীকে গ্রেপ্তার করতে আসা পুলিশের সঙ্গে রাতভর এলাকাবাসীর বাগ্‌বিতণ্ডা চলে। পরে ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে বাধা দেয় ও গাড়িবহরে হামলা চালায় তার সমর্থকেরা। পরে এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা একটি মামলায় আইভীকেও আসামি করা হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত