সরকারি চাপ থাকলেও ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো বজায় থাকবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ৪৪
প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান

সরকারের পক্ষ থেকে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ থাকলেও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছর থেকে কোনো ব্যক্তির আয় কম হলে অতিরিক্ত আগাম কর সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড বা ফেরত দেবে এনবিআর।

আজ রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর বাড়ানো এবং তামাক-অ্যালকোহলের মতো পণ্যে শুল্ক না কমানোর অনড় অবস্থানের কথাও জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ আছে। তবে আমরা আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করব। বিশেষ করে পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন পর্যায়ে যে অগ্রিম কর আদায় করা হয়, তাতে ব্যবসায়ীদের বড় অংকের মূলধন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। আগামী অর্থবছর থেকে যদি দেখা যায় কোনো ব্যক্তির আয় অনুযায়ী কর বেশি কেটে নেওয়া হয়েছে, তবে সেই অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে রিফান্ড করা হবে।’

দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থ সুরক্ষায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এছাড়া জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় তামাক, অ্যালকোহল ও কোমল পানীয় পণ্যে কর কমানোর সুযোগ নেই।’ বন্ডের মাধ্যমে আনা কাঁচামালের অবৈধ ব্যবহার রোধে আগামী বাজেটে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রোববারের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, উইমেন এন্টারপ্রেনারস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-সহ ছয়টি ব্যবসায়ী সংগঠন অংশ নেয়।

আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা সার চার্জ, টার্নওভার কর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, কাস্টমস জটিলতা এবং শুল্ক ও কর বিষয়ক নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান সব প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত