অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও চাপে বছরে সাড়ে ৮ লাখ মৃত্যু

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ১৩
প্রতিষ্ঠানের নীতি এবং সহকর্মীদের আচরণ সরাসরি কর্মীদের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। আইএলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া ছবি

অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপের কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে কাজের জায়গায় নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানি চিহ্নিত করেছে আইএলও। সংস্থাটির মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। অতিরিক্ত কাজের এই চাপ হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই সমস্যা বর্তমানে কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসিক চাপের কারণে কর্মক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে প্রতি বছর বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ লোকসান হচ্ছে।

আইএলওর গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ২৩ শতাংশ কর্মী কর্মজীবনে কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রযুক্তি এবং বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বর্তমান কাজের পরিবেশ দ্রুত বদলে দিচ্ছে। বাসায় বসে কাজ বা হাইব্রিড মডেল এখন নতুন তদারকি ও প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এই নতুন ধারা কর্মপরিবেশ উন্নত করার সুযোগ দিলেও কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে এই নতুন পদ্ধতিতে মানসিক চাপের ঝুঁকি আরও প্রকট হতে পারে।

আইএলও বলছে, প্রতিষ্ঠানের নীতি এবং সহকর্মীদের আচরণ সরাসরি কর্মীদের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। পাশাপাশি কর্মীদের কাজের দক্ষতা এবং শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে।

আইএলওর পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মানাল আজ্জি বলেন, কাজের জায়গায় মানসিক ঝুঁকি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থেই সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এটি কেবল কর্মীর অধিকার নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যের সঙ্গে জড়িত।

এই সংকট নিরসনে নিয়মিত গবেষণার পাশাপাশি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরির পরামর্শ দিয়েছে আইএলও। সংস্থাটি জানিয়েছে, কাজের ধরন ও ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনলে এই মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উচিত নিয়মিতভাবে কাজের চাপ এবং দায়িত্ব বণ্টন পর্যালোচনা করা। কর্মীদের সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং মানসিক চাপের মুখে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তদারকি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে কর্মীদের জন্য সুস্থ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সম্পর্কিত