দোকানের মালিকানা নিয়ে জাবিতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ১০

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাবির দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
জাবির দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হলসংলগ্ন দোকানের মালিকানাকে কেন্দ্র করে দুটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত মোট চার দফায় সংঘর্ষ চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নজরুল হলের সামনে অবস্থিত চারটি খাবারের দোকানের মালিকানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই সংঘর্ষ। ওই দোকানগুলো রবীন্দ্রনাথ হলের নিয়ন্ত্রণাধীন। নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা সেগুলোয় তালা লাগাবেন—এমন খবর পেয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা দোকানে সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। এর প্রতিক্রিয়ায় নজরুল হলের শতাধিক শিক্ষার্থী বের হন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই চারটি দোকানের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছেন নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় হলটির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেলমেট পরা অবস্থায় লাঠি হাতে দেখতে পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা দোকান ভাঙচুর ও হামলা ঠেকাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়।

এক পর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা বাঁশ, রড ও কাঠ হাতে মুখোমুখি অবস্থান নেন। এরপর চার দফায় চলে সংঘর্ষ। দুই হল সংসদের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই হলের একাধিক ছাত্রদল নেতা ও ছাত্রশিবির কর্মীরাও সংঘর্ষে যোগ দেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জাকির হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার জয়সহ নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হন।

এ সময় ইটের আঘাতে আহত হন রবীন্দ্রনাথ হলের ওয়ার্ডেন মির্জা এ টি এম তানভীর রহমান। তিনি জানান, ‘একটি ইটের টুকরা এসে আমার চশমায় লাগলে গ্লাস ভেঙে যায়। এতে চোখে আঘাত পাই। তবে আঘাত মারাত্মক নয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে রবীন্দ্রনাথ হলের পাঁচজন ও নজরুল হলের চারজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জাকির হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে উভয় হলের প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বৈঠক ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ হল উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালে। এরপর ওই এলাকায় তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে অন্তত ১৫টি দোকান বরাদ্দ দেন। এরপর ২০২৪ সালে ওই এলাকায় নজরুল হল উদ্বোধন হয়। এই হলের সামনে রবীন্দ্রনাথ হলের নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দকৃত কয়েকটি দোকান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে চারটি দোকানের নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত