ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল প্রমাণ, সেই মাদ্রাসা শিক্ষকই নবজাতকের বাবা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নেত্রকোনা

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৩৬
মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর, বর্তমানে কারাগারে। ছবি: সংগৃহীত
মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর, বর্তমানে কারাগারে। ছবি: সংগৃহীত

ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের পিতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর নুরুল কবীর রুবেল।

তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের বাবা হিসেবে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শরীরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা করান। সেখানে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে র‍্যাব তাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনেই নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের পরিচয় নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় আদালতে ডিএনএ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর মামলাটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। এখন দ্রুত বিচার শেষ করে ভুক্তভোগী ও নবজাতকের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত