জামালপুর সীমান্তে লাইট নিভিয়ে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জামালপুর

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১৭: ৪২
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে মুখোমুখি বিজিবি ও বিএসএফ। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা আটকে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (১০ জুন) ভোরে সীমান্তের শূন্য রেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দুই বাহিনীর পতাকা বৈঠকের পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এক বৃদ্ধ এখনো শূন্য রেখায় আটকে আছেন।

সীমান্তবর্তী সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, আজ ভোররাতে উপজেলার কামালপুরের রামরামপুর সীমান্তে আন্তর্জাতিক ১০৮২ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে ভোরের অন্ধকারে সীমান্তের আলো নিভিয়ে ৭ সন্দেহভাজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক বাংলাদেশের প্রবেশমুখে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিজিবি কামালপুর ক্যাম্পের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিজিবি ও বিএসএফের জওয়ানদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কাউকে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে বিজিবির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলে বিএসএফের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

পরে দীর্ঘসময় ধরে চলা এই বাগ্‌যুদ্ধের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর বাধার মুখে পুশইনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন ভারতে পালিয়ে যেতে পারলেও এক বৃদ্ধ শূন্য রেখায় আটকা পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সংকট সমাধানে সকালে জরুরি পতাকা বৈঠকে বসে বিজিবি ও বিএসএফ। তবে দীর্ঘ বৈঠক শেষেও বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে ভারতে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে প্রখর রোদ আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সীমান্তের শূন্য রেখায় আটকে আছেন তিনি।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিলো বিএসএফ। আমরা তাকে ফেরত পাঠিয়েছি। লোকটি এখনো শূন্য রেখায় রয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সম্পর্কিত