রংপুরে ৪ খুন: জিজ্ঞাসাবাদের পর সিদ্ধার্থের ভাইয়ের খোঁড়ানো নিয়ে প্রশ্ন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে ডিবি কার্যালয় থেকে বের হচ্ছেন সিদ্ধার্থের বড় ভাই। স্ট্রিম ছবি
অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে ডিবি কার্যালয় থেকে বের হচ্ছেন সিদ্ধার্থের বড় ভাই। স্ট্রিম ছবি

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যার আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও বড় ভাইকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর ডিবি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সিদ্ধার্থের ভাইয়ের খুঁড়িয়ে হাঁটা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সেন্ট্রাল রোডের কার্যালয় থেকে বের হন সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস। এ সময় পার্থকে বাবা ও আরেকজনের কাঁধে ভর করে হাঁটতে দেখা যায়।

পার্থের কাছে এ সময় ডিবি কার্যালয়ে কোনো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘কিছু হয় নাই আমাদের সঙ্গে। আমাদের সঙ্গে সুন্দরভাবে ব্যবহার করছে। আমি বাড়িতেই খুব ভয় পাইয়া ছুটাছুটি করছি, ওই কারণে আমার কোমরে লাগছে।’

তাঁর বাবা বিনয় দাস বলেন, ‘এখানে নিয়ে আসার পর কিছু ঘটেনি। যা ঘটার তো ওই দিকেই (বাড়িতে) হয়েছে। ওখানেই হইছে ধস্তাধস্তি। নির্যাতন করা হয় নাই।’

এর আগে বিকেলে মাছুয়াপাড়ায় নিজেদের বাসার সামনে থেকে বিনয় ও পার্থকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ডিবি কার্যালয়ে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানতে চাইলে পার্থ বলেন, ‘আইনি বিষয়ে, যেভাবে মারা গেছে না গেছে, এইটুকুই।’

বিনয় দাস বলেন, ‘আমাদের কাছে ওই তথ্যগুলোই নিয়েছে, যেগুলো আমরা সাংবাদিকদের বলছি, সবাইকে বলছি। সেই জিনিসগুলো আবার ওনারা জানলেন।’

তাদেরকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তারা জানান, চার খুনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আসামি সিদ্ধার্থের বাবা ও বড় ভাইকে আগে একাধিকবার কার্যালয়ে এসে সাক্ষাৎকার দিতে বলা হয়েছিল। তাঁরা না আসায় শনিবার হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা তাদেরকে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। আনার পর তাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেছি। কিছু তথ্য তাদের কাছ থেকে পেয়েছি। এই বিষয়গুলো আমরা আবার যাচাই-বাছাই করব।’

তিনি আরও বলেন, তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। প্রয়োজন হলে তাদের আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত সপ্তাহে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে খুন হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। এ ঘটনায় একই এলাকার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হত্যার কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন আসায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই মামলায় প্রথমে মহানগর পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখন তা করছে তাদের গোয়েন্দা শাখা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত