মাছ ধরতে সমস্যার ভয়, ইইউতে যোগ দিতে নারাজ আইসল্যান্ডবাসী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ০৫
গণভোটের আগে আইসল্যান্ডের পতাকা নিয়ে প্রচারণায় কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের আগে আইসল্যান্ডের পতাকা নিয়ে প্রচারণায় কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত

মাছ ধরার ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার আলোচনা নতুন করে শুরুর সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন আইসল্যান্ডবাসী। শনিবার দেশটিতে হওয়া গণভোটে এই রায় দিয়েছেন জনগণ।

রোববার (৩০ আগস্ট) দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভি জানিয়েছে, গণভোটে ইইউর বাইরে থাকার পক্ষেই ভোট পড়েছে বেশি। এখনো একটি এলাকার কিছু ভোট গণনা বাকি। তবে এতে চূড়ান্ত ফল বদলাবে না।

আরইউভি জানিয়েছে, ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করেন, ইইউতে যোগ দিলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার জলসীমা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণেই তারা সরকারি উদ্যোগ ফিরিয়ে দিয়েছেন।

ইউরোপের ২৭টি দেশের এই জোটের কিছু কর্মকর্তার ধারণা অবশ্য ছিল, আইসল্যান্ড সদস্য হলে আর্কটিক অঞ্চলে ইউরোপ কৌশলগতভাবে শক্তিশালী হবে।

আইসল্যান্ডের সরকারও ইইউর সদস্যপদকে বাণিজ্যযুদ্ধ ও আর্কটিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে সুরক্ষার একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরেছিল। গণভোটকে সরকার ‘এখন না হলে আর কখনো নয়’— এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও বর্ণনা করেছিল।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্তাদোত্তির বলেছিলেন, ‘না’ ভোট পড়লে ইইউ সদস্যপদের বিষয়টি আপাতত একপাশে সরিয়ে রাখা হবে।

কয়েক দশকের পুরোনো বিতর্ক

আইসল্যান্ড ২০০৯ সালে প্রথম ইইউতে যোগ দেওয়ার আবেদন করে। সে সময় অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের চাপে ছিল দেশটি। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী সরকার ২০১৩ সালে ক্ষমতায় বসলে যোগদানের আলোচনা বন্ধ করে দেয়।

এরপর ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্কসহ নানা ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ইইউতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।

ইইউতে যোগদানের পক্ষের প্রচারকারীদের দাবি, সদস্য হলে সুদের হার কমতে পারে এবং অস্থির বিশ্বে দেশটির নিরাপত্তা বাড়বে। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, ইইউবিরোধীরা বলছেন, সদস্যপদ নিলে আইসল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং দেশের মাছ ধরার জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে পড়বে।

মাছ ধরার জলসীমা নিয়ে উদ্বেগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, ঐতিহাসিকভাবে কোনো এলাকায় কতটা মাছ ধরা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে কোটা নির্ধারণ করা হয়।

আইসল্যান্ডের কিছু কর্মকর্তা অবশ্য মনে করেন, দেশটি ইইউতে যোগ দিলেও নিজেদের জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে। কারণ, কয়েক দশক ধরে কোনো ইইউ দেশ আইসল্যান্ডের জলসীমায় মাছ ধরছে না।

তবে বিরোধীদলীয় নেতা গুদরুন হাফস্টেইনসদোত্তির এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুরুর দিকে কিছুটা নমনীয়তার প্রতিশ্রুতি দেবে। কিন্তু আমরা জানি, এই নমনীয়তা স্থায়ী হবে না।

সূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত