নবাবগঞ্জে যুবদল নেতাকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক দুই

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

 ঢাকার নবাবগঞ্জে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম সেন্টুকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর কালীগঙ্গা নদীতে অভিযোগ। স্ট্রিম গ্রাফিক্স
ঢাকার নবাবগঞ্জে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম সেন্টুকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর কালীগঙ্গা নদীতে অভিযোগ। স্ট্রিম গ্রাফিক্স

ঢাকার নবাবগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু (৪০) নামে এক যুবদল নেতাকে ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যার পর তার লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে বলে দাবি করেছে পরিবার। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার মরদেহ লাশ উদ্ধার যায়নি।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আজ সকালে ৬টার দিকে মো. তামিম ও শাওন হোসেন নামে দুজনকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের খতিয়া এলাকায় জাহাঙ্গীরকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়ার পর আর বাড়ি ফিরেনি। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন নিহতের ছোটভাই বিপ্লব। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ওই ঘটনায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানিয়েছেন থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, এলাকায় কোন্দল থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পরে মরদেহ কালীগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু উপজেলার খতিয়া এলাকার আউশ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। সর্বশেষ তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোন পদে ছিলেন তা জানাতে পারেনি পরিবার।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার খতিয়া এলাকার বাদল মিয়া ফোনে সেন্টুকে বাড়ির বাইরে যেতে বলেন। স্ত্রীকে বাড়ির অদূরে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এ সময় মোবাইল ফোনে চার্জ কম থাকায় তা বাড়িতে রেখে যান। তবে দীর্ঘ সময় পরও বাড়িতে না আসায় সেন্টুর ছোট ভাই বিপ্লব গিয়ে নদীর পাড়ে অনেক রক্ত পড়ে দেখতে পান। এ সময় খোঁজাখুঁজি করে সেন্টুকে না পেয়ে থানায় খবর দেন তিনি।

পুলিশ জানায়, রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে সেন্টুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন লোকজনকে খুঁজতে কাজ শুরু করে তারা। হত্যার পর লাশ কালীগঙ্গা নদীতে ফেলে দিতে পারে— এমন আশঙ্কায় আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৪ ডুবুরি অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়। নদীতে স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আজ সকালে আটক স্থানীয় যুবককে তামিম ও শাওন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা করছে তারা। তবে কৌশলগত কারণে তাদের নাম প্রকাশ করেনি।

সেন্টুর স্ত্রী শম্পা আক্তার বলেন, খতিয়া জাগ্রত যুবসংঘ আয়োজিত ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকেলে ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে আমার স্বামীর কথা কাটাকাটি হয় বলে শুনেছি। রাত ৮টার দিকে বাদল আমার স্বামীর ফোন দিয়ে কথা বলে। তিনি ফোন রেখে বাইরে বের হওয়ার পর বাড়ি ফিরে না আসায় খোঁজ করে তাকে পাইনি। আমার স্বামীকে যারা হত্যার করেছে তাদের আমি উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

সেন্টুর মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কী অপরাধ করেছিল যে, তাকে হত্যা করল?’

নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ জানায়, জাহাঙ্গীর আলম সেন্টুর হত্যাকাণ্ডে থানায় একটি মামলা হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার আটক দুজনকে আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হবে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সেন্টুর মরদেহ উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কালীগঙ্গা নদীতে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান করতে পারেনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত