মহেশখালিতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, একজন আটক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ২৮
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে চুরির অভিযোগে মো. ফয়সাল (২৪) নামে এক যুবককে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রিফাত নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত ফয়সাল ফকিরাঘোনা এলাকার নুরুল আমিন ওরফে বাদশা মিস্ত্রির ছেলে। মারধরে অভিযুক্ত স্থানীয় ব্যবসায় কেফায়ত উল্লাহ ঘটনার পর গা-ঢাকা দিয়েছে। তার ছেলে রিফাত হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানান, মঙ্গলবার ভোরের দিকে এলাকার প্রধান সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ফয়সালকে চোর সন্দেহে মারধর করেন স্থানীয় ব্যবসায় কেফায়ত উল্লাহ ও তার ছেলে রিফাত। পরে তাঁকে সড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েক ঘণ্টা ধরে ফয়সালকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। কখনো পিঠে ইট দিয়ে এবং কখনো গলায় ইট ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফয়সালের বাঁধন খুলে দেন। পরে তাকে মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. সুলাইমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি একজন দফাদারকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। খুঁটির সঙ্গে বাঁধা ফয়সালের বাঁধন খুলে দেওয়ার পর তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। পরে কেফায়ত উল্লাহ ও তাঁর ছেলে রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে ফয়সালকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে অভিযুক্ত কেফায়ত উল্লাহ হাসপাতাল থেকে চলে গেলৌ রিফাতকে পুলিশ আটক করে।

বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল বলেন, ফয়সালের বিরুদ্ধে আগে চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ থাকলেও মঙ্গলবারের ঘটনায় তাঁর কাছ থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করা হয়নি। এভাবে নির্যাতন করে একজন মানুষকে হত্যা করা অমানবিক।

ফয়সালের বাবা নুরুল আমিন ওরফে বাদশা মিস্ত্রি বলেন, তার ছেলে দিনমজুরি করে স্ত্রী ও সন্তানের খরচ চালাত। কিন্তু সেই ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হলো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, ফয়সালকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মহেশখালী থানার ওসি আবদুস সোলতান বলেন, ফয়সালকে মারধরের সময় কেউ পুলিশকে খবর দেয়নি। হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণার পর পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। পরে হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে রিফাতকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত