নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনসিপির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৩৭
এনসিপির দলীয় লোগো। স্ট্রিম গ্রাফিক
এনসিপির দলীয় লোগো। স্ট্রিম গ্রাফিক

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর সরকারের অন্যায় হস্তক্ষেপ, কমিশনের অনুগত আচরণ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন ক্ষোভ ও নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার ইসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নেতারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ঘোষণার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।’

এরপর সরকারের ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য, এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাব না।’ এনসিপির নেতারা মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তারা বলেন, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ মেনে ইসি সচিবের বক্তব্য কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা পালনে অক্ষমতা ও সরকারের ওপর নির্ভরশীলতার চিত্র প্রকাশ করেছে।

তাদের অভিযোগ, সরকারের প্রভাব ও চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। এর ফলে কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম নিশ্চয়তাও নষ্ট হচ্ছে।

বিবৃতিতে এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচিত হয়ে আসার পর বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা ক্ষমতার লালসা ও অগণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এনসিপির দাবি, সরকারের নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ দলটির।

বিবৃতিতে এনসিপি আরও জানায়, নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সরকারি প্রভাব ও হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি নির্বাহী বিভাগের সামনে নতি স্বীকার করে কমিশনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার বিষয়ে ইসিকে দেশবাসীর কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

একই সঙ্গে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানায় দলটি।

নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনো মেরুদণ্ডহীন ক্যাডারতন্ত্রের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন জনগণ মেনে নেবে না।

সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দিলে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালনার অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটলে এনসিপি দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন দলটির নেতারা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত