যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হত্যা: ঘাতক হিশামের জামিন নামঞ্জুর

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
টাম্পা বে টাইমস

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৪৯
স্ট্রিম গ্রাফিক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী মার্কিন তরুণ হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) আসামীকে স্থানীয় একটি আদালতে তোলা হয়। আর সেখানে সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়া দেখতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঢল নামে।

বিচারক জে লোগান মারফি আসামি হিশাম সালেহ আবুঘরবেহর জামিন আবেদন সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে তাকে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে বন্দী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, নিহতদের কোনো স্বজন বা মামলার কোনো সাক্ষীর সঙ্গে আসামিকে যোগাযোগ না করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানির এই দিনে আসামি হিশাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার পক্ষে নিযুক্ত পাবলিক ডিফেন্ডার জেনিফার স্প্র্যাডলি এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশামের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি (সর্বোচ্চ মাত্রার) হত্যার দুটি অভিযোগসহ অবৈধ অস্ত্র রাখা, বেআইনিভাবে মৃতদেহ সরানো, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং শারীরিক লাঞ্ছনার মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ জানিয়েছেন, আগামী ৭ মে প্রসিকিউটররা মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রসিকিউটররা সিদ্ধান্ত নেবেন যে তারা আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাইবেন কি না। অপরাধ প্রমাণিত হলে হিশামের মৃত্যুদণ্ড হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আদালতে বন্ধুরা

আদালতকক্ষে উপস্থিত লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু আবীর আল হাসিব সৌরভ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিরা এখানে একটি পরিবারের মতো। একসঙ্গে খাই, ঘুরতে যাই। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য এই খুনিকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনা’

আরেক বন্ধু সালমান সাদিক শুভ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তা আমরা জানতে চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে বিচারের এই লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।’

রিফাতুল ইসলাম নামের এক তরুণ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘যে ঘরকে, নিজের রান্নাঘরকে আমরা সবচেয়ে নিরাপদ মনে করি, সেখানেই তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে! এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

শিক্ষার্থীদের এই সরব উপস্থিতি ও একতা দেখে স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি এত বন্ধু আসবে। পরিবার থেকে দূরে থাকা এই শিক্ষার্থীরা যেভাবে একে অপরকে আপন করে নিয়েছে এবং ন্যায়বিচারের অংশ হতে চাইছে, তা সত্যিই দারুণ।’

দেশে ফিরছে লিমনের মরদেহ

ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পুলিশ লিমনের মরদেহ টাম্পা ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

লিমনের পরিবারের সম্মতিক্রমে সম্পূর্ণ মুসলিম রীতিনীতি মেনে মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। দূতাবাস জানিয়েছে, সব প্রক্রিয়া শেষে লিমনের কফিন দেশে পৌঁছাতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে।

এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন করুণ মৃত্যু পুরো প্রবাসী সমাজকে কাঁদিয়েছে। এখন সবার চোখ আদালতের দিকে, যেন এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত এবং সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে, বৃষ্টির নিখোঁজ মরদেহের ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করছেন তার পরিবার ও বন্ধুরা।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত