জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

চাহিদার তুলনায় তেল কম, পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জ্বালানি তেলের প্রত্যাশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। স্ট্রিম ছবি

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ কম, এমনকি কোনো কোনোটিতে একেবারেই সরবরাহ বন্ধ থাকছে। যেগুলোতে একটু-আধটু মিলছে, সেগুলোতে সকাল থেকেই লেগে থাকছে দীর্ঘ লাইন। সরবরাহ কম থাকায় আগেই ঘোষণা দিয়ে তেল কেনার পরিমাণ সীমিত করে দিচ্ছে পাম্পগুলো। তেল কম পাওয়া যাবে জেনেও অনেকেই অপেক্ষা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর, দারুস সালাম ও আসাদ গেট এলাকায় বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। অধিকাংশ পাম্পেই ব্যারিকেড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে রাখা হয়েছে যানবাহন। সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হতে শুরু করে গাড়ি ও মোটরসাইকেল। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তেলের গাড়ি এসে পৌঁছাতে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনেই সকাল থেকে বেরিকেড দেওয়া। স্ট্রিম ছবি
রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনেই সকাল থেকে বেরিকেড দেওয়া। স্ট্রিম ছবি

মিরপুরের স্যাম অ্যাসোসিয়েটস ফিলিং স্টেশনের মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানকার তেলের গাড়ি ভোর ৫টায় চলে গেছে তেল আনতে। সেখানে গিয়ে তেল নিতে সময় লাগবে। ডিপোতে ম্যাজারমেন্ট নেবে, তারপর তেল দেবে। আমাদের গাড়ি ১টার মধ্যে চলে আসবে, তারপর এখানে আবার ম্যাজারমেন্ট করে আমরা তেল মিটারে দিবো। সব কাজ শেষ হতে হতে দুপুর ২টা বাজবে।’

একই পাম্পের ক্যাশিয়ার আরাফাত বলেন, ‘গতকাল আমরা চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল পেয়েছিলাম, সাড়ে ৪ হাজার লিটার। সেগুলো আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। আমরা মোটরবাইকের ক্ষেত্রে মোট আড়াই লিটার, গাড়িতে ১০ লিটার, আর অ্যাম্বুলেন্স বা ইমারজেন্সি গাড়িগুলোর যতটুকু লাগে ততটুকু দিবো।’

ডিপো থেকে তেল আসার অপেক্ষায় আছেন পাম্পের কর্মীরাও
ডিপো থেকে তেল আসার অপেক্ষায় আছেন পাম্পের কর্মীরাও

পাম্পের বাইরে অপেক্ষমাণ গাড়িচালক মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘আমি সকাল পৌনে ৯টায় আসছি, এখানে এসে শুনলাম দুপুরে তেল পাবো। আশাকরি তেল নিয়েই ফিরতে পারব।’

অপেক্ষারত আরেক চালক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমি ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে এসে সিরিয়াল ধরলাম, শুনলাম গাড়িতে নাকি ১০ লিটার তেল দেবে। যতটুকুই পাওয়া যায়, নিবো।’

মিরপুর মাজার রোডের এসপি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমাদের গাড়ি গেছে তেল নিতে, গতকাল লিস্টে আমাদের পাম্পের নাম না থাকায় তেল পাইনি। আজ হয়তো পাবো কিন্তু দেড়টা বা ২টা বাজতে পারে গাড়ি আসতে। আগেরবার সাড়ে ৪ হাজার লিটার তেল পেয়েছিলাম, যা ৬ ঘণ্টায় শেষ হয়ে গেছে। আমরা যার যতটুকু লাগে, ততটুকুই দেই। আর শেষ হলে পাম্প বন্ধ করে দেই।’

দারুস সালাম রোডের খালেক পাম্পের ম্যানেজার তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘আমরা সবশেষ ২১ মার্চ তেল পেয়েছি। আজ আমাদের গাড়ি গেছে, কখন আর কতটুকু তেল পাবো—তা মেইন ডিপো নির্ধারণ করে। আমাদের পাম্পে তেলের চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার লিটার, আমি যদি এখন সাড়ে ৪ বা ১০ হাজার লিটার তেল পাই আমি পাবলিকদের কি চাহিদামতো দিতে পারবো? আমাদের এখান থেকে জনগণ খালি হাতে গেলে তো আমাদের খারাপ লাগে, আমরা গতকালও তেল পাইনি। গতকাল কতজন এসেছিল তেলের জন্য, তারা পায়নি। পরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বিকালে খালি হাতে ফিরে গেছে কষ্ট নিয়ে। আমরাও চাই চাহিদা অনুযায়ী তেল পেতে। নিজেদের ব্যবসাও তো টিকিয়ে রাখতে হবে। আমরা মোটরবাইকে ১ হাজার টাকার ও গাড়ির ক্ষেত্রে ২০ লিটারের সীমা রাখছি, সবাইকে দিতে হলে আসলে এই সীমাটা নির্ধারণ করতে হবে।’

ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে আসাদগেটের সোনার বাংলা পাম্পে। সকাল থেকেই তেল দেওয়া হচ্ছে এখানে।
ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে আসাদগেটের সোনার বাংলা পাম্পে। সকাল থেকেই তেল দেওয়া হচ্ছে এখানে।

তালুকদার পাম্পের ক্যাশিয়ার ফাত্তা বলেন, ‘দুপুর ১টার পর আমরা হয়তো তেল পাবো। আজকে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেল পেতে পারি, যা আমাদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম।’

গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘আমরা ঈদের পর মাত্র ১ দিন তেল পাইছি। গতকালও পাইনি, আজ হয়তো পাবো না। যার ফলে আমাদের এখানে সমস্যা হয়েছিল। আগে যেটা পেয়েছিলাম, তাও সাড়ে ৪ হাজার লিটার। যদিও আমরা কিছু তেল বাঁচিয়ে রাখছি অ্যাম্বুল্যান্স, র‍্যাব ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (মশক) গাড়িগুলোর জন্য। আশপাশের থানা, হাসপাতাল আমাদের এখান থেকে তেল নেয়। এগুলা তো ইম্পর্ট্যান্ট গাড়ি তারা যদি না পায় এতে রোগীরা বিপদে পড়বে, তেমনে আইনশৃঙ্খলা তাদেরও তো প্রয়োজন এইগুলো মাথায় রাখতে হয়।’

সোনার বাংলা পাম্পে সকাল থেকেই মিলছে তেল
সোনার বাংলা পাম্পে সকাল থেকেই মিলছে তেল

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে আসাদগেটের সোনার বাংলা পাম্পে। পাম্পটির কর্মচারী সজল বলেন, ‘আমরা আজ সকালে তেল দিতে পেরেছি। তার কারণ গতকাল আমরা আনুমানিক ৪৯ হাজার লিটার তেল পেয়েছিলাম। যার ফলে আমরা আজও সকাল থেকে তেল দিতে পারতেছি। যেদিন থেকে সরকারি লিমিটেশন শেষ হয়েছিল, সেদিন থেকে আমরা গ্রাহকদের চাহিদামতো তেল দিতে সক্ষম হচ্ছি। সকালে পাশে থাকা তালুকদার পাম্প বন্ধ থাকায় আমাদের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আর অন্যান্য পাম্পগুলাতে তেল সরবারহ ঠিকঠাক হলে বা চালু হলে তেলের এই ক্রাইসিস বা দীর্ঘ লাইনও থাকবে না। আজকে দুপুরে বা বিকেলের দিকে আমাদের তেলের গাড়ি ডিপো থেকে আসবে।’

সোনার বাংলা পাম্পে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন
সোনার বাংলা পাম্পে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন

এই পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহী সুমন বলেন, ‘আমি খুশি দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফুল ট্যাংকি নিতে পারছি।’ আরেক মোটরবাইকার সাদ্দামও ফুল ট্যাংক তেল নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রাইভেট গাড়িচালক সৈকত বলেন, ‘আগে তো ১০ লিটার তেল দিতো, কিন্তু আজ ২০ লিটার পাইলাম। ঘণ্টা খানেকের ওপর অপেক্ষা করার পর আগের থেকে বেশি তেল নিতে পারলাম, আমি তাতেই খুশি।’

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে এক বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান এবং বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন।

সম্পর্কিত