এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বডিগার্ড দাবি করে প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ২১
গ্রেপ্তার যুবক। ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি বানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বডিগার্ড পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে রিয়াদ বিন সেলিম (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে পটিয়া পৌরসভার পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে তাঁর নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রিয়াদ নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার সঙ্গে যুক্ত এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ট পরিচয় দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লায়ন রিয়াদ সেলিম’ নামে ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে মন্ত্রী ও রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন ছবি পোস্ট করতেন। প্রাথমিকভাবে এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিয়াদ ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলেও জানায় পুলিশ। সংস্থাটি বলছে, একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় কুমিল্লার দেবিদ্বারের বাসিন্দা মো. কামরুল হাসান কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন রিয়াদ। দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি প্রথমে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরে নগদ ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ভুয়া আইডি কার্ড, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, ওয়াকিটকি সেট, সিগন্যাল লাইট, মনিটরিং সেলের আরেকটি কার্ড এবং একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রিয়াদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে আকবরশাহ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এবং ২০২৩ সালে চান্দগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ নিয়েছেন। এছাড়া ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণাকে পেশা হিসেবে নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছিলেন। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত