মামলা না নেওয়ায় লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও জনতার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নীলফামারী

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১৮: ৪০
সৈয়দপুর থানার সামনে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ। সংগৃহীত ছবি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন আফাজ উদ্দিন (৬২)। চার দিন পর গত শনিবার দুপুরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় হত্যা মামলা করতে গেলে থানা নেয়নি। তারা প্রতিপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেয়– এমন অভিযোগ তুলে আফাজের লাশ নিয়ে সোমবার (৮ জুন) শহরে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। পুলিশ এজাহার নথিভুক্ত করলেও আন্দোলন অব্যাহত রাখেন বিক্ষুব্ধরা। তারা ওসির অপসারণ দাবি করছেন।

আফাজ উদ্দিন উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ার বাসিন্দা। গত ৩ জুন ভোরে তাঁর বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এ ঘটনায় আজ উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর শহরে বিক্ষোভ করে শতাধিক মানুষ।

আফাজের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নেয়নি। উল্টো ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে আমরা লাশ নিয়ে থানায় এসেছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সৈয়দপুর থানার সামনে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ। সংগৃহীত ছবি
সৈয়দপুর থানার সামনে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ। সংগৃহীত ছবি

থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে। তবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। একটি এজাহার জমা দেওয়া হলেও, তাতে ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ সকালে আফাজ উদ্দিনের পরিবারকে আসতে বললে, তারা লাশ ও লোকজন নিয়ে থানা ঘেরাও করে। ইতোমধ্যে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে গাছের পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুস সালাম চঞ্চলের (৫০) সঙ্গে তাদের বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় নুর হোসেনকে মারধর করেন চঞ্চল ও তার সহযোগীরা।

এরই জেরে ৩ জুন পার্শ্ববর্তী রংপুরের তারাগঞ্জ বাজারে চঞ্চলের ভাইকে আটকে মারধর করে নুর হোসেনের অনুসারীরা। পরে রাতেই নুর হোসেনের নির্মাণাধীন ঘরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে নুর হোসেনের বাবা দগ্ধ হন।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস সালাম চঞ্চল জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত