নওগাঁয় হামের প্রাদুর্ভাব, ৮ জন শনাক্ত, হাসপাতালে শয্যা সংকট

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নওগাঁ

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০: ২৭
হাম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও জেলা সদর হাসপাতালে দেখা দিয়েছে চরম শয্যা সংকট। স্ট্রিম ছবি।

নওগাঁয় সংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। জেলায় এ পর্যন্ত আটজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নওগাঁর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও জেলা সদর হাসপাতালে দেখা দিয়েছে চরম শয্যা সংকট; ফলে বাধ্য হয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্তদের রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করছেন উদ্বিগ্ন স্বজনরা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হামের উপসর্গ থাকা ৪১ জনের মধ্যে ল্যাব টেস্টে আটজনের পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তরা নওগাঁ সদর, পোরশা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বাসিন্দা। সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ও নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে। এছাড়া নওগাঁ শহরের এক শিশু সন্দেহভাজন হিসেবে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ২০ শয্যার বিপরীতে সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে ৭০ জন রোগী। স্বজনদের অভিযোগ, একই বিছানায় দুই-তিনজন রোগী থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। মান্দা থেকে আসা এক শিশুর মা পারুল আক্তার জানান, স্থানীয়দের পরামর্শে হামের সন্দেহ নিয়ে তিনি ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। রানীনগরের জোবেদা বেগম জানান, শয্যা না পেয়ে তাঁর নাতিকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নওগাঁ শহরের বাসিন্দা মিশন অভিযোগ করেন, ডায়রিয়া, জ্বর ও হামের রোগীদের একই ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। এমনকি হাসপাতালে জ্বর মাপার থার্মোমিটার না থাকায় চিকিৎসকেরা হাত দিয়ে তাপমাত্রা মেপে ওষুধ দিচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ জেনাত রেহেনা জানান, জ্বরের সঙ্গে কাশি ও শরীরে লালচে র‍্যাশ থাকা রোগীর চাপ বাড়ায় তাঁরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে একজন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি আছেন, যার জন্য একটি কেবিনকে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার আশপাশের শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়া মে মাসে হামের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত