সংসদে মির্জা ফখরুল

জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৪৭
সংসদ অধিবেশনে কথা বলছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত।

বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল জানান, উত্তর সিটিতে কিউলেক্স ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে লার্ভিসাইডিং করা হচ্ছে। সন্ধ্যায় নিয়মিতভাবে ফগিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ড্রেন ও নালাসহ হটস্পট এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। উত্তর সিটির আওতাধীন ৬ হাজার বিঘা জলাশয় পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রতি শনিবার ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। হাসপাতালের তথ্য নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে বিশেষ টিম কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, দক্ষিণ সিটিতে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করতে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নিয়ম অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজও চলছে।

মির্জা ফখরুল আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট ও কাজলা খাল পরিষ্কার করা হচ্ছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত সরাতে নতুন ছয়টি পোর্টেবল পাম্প কেনা হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ সিটির পানি ৩টি আউটলেট দিয়ে বের করা হচ্ছে। আরও একটি আউটলেট নির্মাণের কাজ চলছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত নতুন একটি বড় নর্দমা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আউটলেট নির্মাণের সমীক্ষা চলছে। সম্ভাব্য সব কারিগরি দিক বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা লাঘব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত