চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম আক্রান্ত শিশুর বেশির ভাগই নেয়নি টিকা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৯: ৩৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। স্ট্রিম ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গত তিন মাসে প্রায় ৩০০ শিশুর হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ মাসের অধিক বয়সি শিশুর বেশিরভাগই হামের টিক নেয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রেজাউল করিম।

এদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। গতকাল সোমবার (৩১ মার্চ) রাত ১২টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় তারা ভর্তি হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৭৪ শিশু। তাদের মধ্যে সোমবার রাত ১২টার আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ভর্তি থাকা ১৩ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রেজাউল করিম বলেন, শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সের পর। কিন্তু এর চেয়েও কম বয়সি শিশুরাও হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে হাম উপসর্গ নিয়ে ৯ মাসের বেশি বয়সি যে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, তাদের বেশি ভাগই টিকা নেয়নি।

গত তিন মাসে হামের উপসর্গ দিয়ে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ২৯৩ শিশু। তাদের মধ্যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসক রেজাউল করিম বলেন, স্বল্প জনবল নিয়ে এত শিশু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন চিকিৎসা দিতে। তবে কিছু শিশুকে জটিল অবস্থাতেই পাচ্ছেন তারা। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি হাসপাতালে হামের উপসর্গ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে আমাদের প্রচণ্ড হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপরও বিকল্প উপায়ে লোকবল নিয়োগ দিয়ে আমরা চিকিৎসা অব্যাহত রেখেছি। সংক্রমণ রোধে পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় একটি আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।’

জেলায় হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্ত করছেন। তাদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনছেন। এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তাই অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে।’

সম্পর্কিত