সাভারে দেড় মাস জ্বলছে না চুলা, ফিলিং স্টেশনে লাইন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার

গ্যাস সংকটে জ্বলছে না চুলা। ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস সংকটে জ্বলছে না চুলা। ছবি: সংগৃহীত

সাভারে প্রায় দেড় মাস ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহক থেকে শুরু করে সিএনজি-চালক ও শিল্পকারখানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস মিলছে না।

রোববার সাভার পৌরসভার কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিন কিংবা রাত—কোনো সময়ই তাঁরা ঠিকমতো গ্যাস পান না। বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। কেউ কেউ সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলাও ব্যবহার করছেন। প্রায় দেড় মাস ধরে পুরো সাভারেই গ্যাসের এমন সংকট চলছে।

সাভারের রেডিও কলোনি এলাকার নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘দুই মাস ধরে গ্যাস নাই। লাকড়ি কিনতে হয়, লাকড়ির সংকটও দেখা দিয়েছে।’

আরেক বাসিন্দা তানিয়া আক্তার বলেন, ‘সিলিন্ডারও কেনার মতো সামর্থ্য নাই। মাস শেষে গ্যাস বিল দিতে হচ্ছে। গ্যাসের কারণে এক রান্না করলে দুই বেলা রান্না করতে পারি না।’

শুধু আবাসিক এলাকাতেই নয়, গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। আমিনবাজার, হেমায়েতপুর ও সাভার পৌরসভা এলাকার সাতটি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে পাঁচটিতে গ্যাসের চাপ কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ফলে গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

সিএনজি চালক নুর আলম বলেন, ‘সকাল ৮টার সময় এসে বেলা ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, গ্যাস পাইনি।’

বাসচালক শহীদুল ইসলাম জানান, তিনি মানিকগঞ্জ থেকে সাভারে গ্যাস নিতে এসেছেন। কিন্তু কোথাও গ্যাস পাচ্ছেন না। তাঁর ভাষ্য, দিন-রাত সব সময়ই একই অবস্থা।

ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের চাপ ৮ থেকে ১০ পিএসআই থাকলেও বর্তমানে তা ২ থেকে ৩ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে।

সাভারের একটি সিএনজি স্টেশনের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, সাধারণত একটি সিএনজি স্টেশন চালাতে গ্যাসের চাপ ৮ থেকে ১০ পিএসআই লাগে। সেখানে সিএনজি স্টেশনগুলোতে আছে ৩ পিএসআই।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় শিল্পকারখানাগুলোতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের সংকটও তৈরি হয়েছে। সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা খায়রুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে জেনারেটর চালাতে গিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আমাদের আশপাশে যেসব ইন্ডাস্ট্রি আছে, সেগুলোও একই সঙ্গে জেনারেটর চালু রাখছে। ফলে তাদেরও সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।’

গ্যাসের সংকটের কারণ বা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সাভার তিতাস গ্যাসের কোনো কর্মকর্তা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত