যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণে আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ১৯: ৪১
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি বুঝতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর চুক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এটিকে যদি আপনারা অন্য দেশের চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে পড়েন, তাহলে বুঝতে পারবেন আমরা কী পেয়েছি।’

মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আলাপে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় ৬ শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত। আর বাংলাদেশ ১৩১টিতে ‘শ্যাল’ বলার যে বিষয়টি, আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্য দেশগুলো করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টিতে ‘শ্যাল’ বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটির সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্যদের চুক্তিও পড়লে বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা যাবে।

আরেক প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে প্রথমে বলেছে, তোমাদের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ এত। এরপর ওই সব দেশ নেগোশিয়েট করেছে। এতে কেউ ২০ পেয়েছে; ভিয়েতনাম। আমরা ১৯ পেয়েছি। এখন কে কী পেয়েছে—সবার অ্যাগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও অন্য দেশের চুক্তিগুলো তুলনা করে পড়তে বলে তিনি বলেন, ‘তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি। পলিসিতে আমরা কোন কোন বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি, অন্যরাও কী চুক্তি করেছে। অন্যদের পারচেজ কমিটমেন্ট কত, আমাদের পারচেজ কমিটমেন্ট কত—সব মিলিয়ে দেখেন।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় করা এই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী অভিযোগে চুক্তিটি বাতিলে জাতীয় সংসদে দাবি উঠেছে।

গতকাল সোমবার এই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিটও হয়েছে। সেখানে চুক্তিটিকে ‘সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক এবং কাঠামোগতভাবে অসম’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর।

সম্পর্কিত