স্ট্রিম প্রতিবেদক

কড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যে শরীর পুড়িয়ে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন জনা ত্রিশেক মানুষ। লাইনের মাথায় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে বিতরণ করা হচ্ছে খাবারের প্যাকেট। একটু দূরেই সামান্য ছায়া খুঁজে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন কয়েকজন নারী ও শিশু।
রাস্তা ধরে সামনে এগোতেই চোখে পড়ে খাবার বিতরণের এমন আরও দুটি লাইন। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ, যাদের অর্ধেকই নারী-শিশু। খাবার নিয়ে কোনো গাড়ি এলেই সেদিকে দৌড়ে যাচ্ছেন তারা।
বুধবার পল্লবীর কালশী বস্তি এলাকায় এমনই চিত্র দেখা গেছে। ঈদের তিন দিন আগে (২৫ মে) ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এখানকার প্রায় ২৫০টি বসতঘর ও ৫০টির বেশি দোকান। বাস্তুচ্যুত হয়ে রাস্তায় ঠাঁই হয়েছে প্রায় হাজারখানেক মানুষের। খোলা আকাশের নিচে, কালশী ফ্লাইওভারের নিচে রাত কাটছে তাদের। পরনের এক কাপড়েই কাটছে দিন, জোটেনি গোসলের সুযোগ। মাঝে মাঝে পিকআপ ভ্যানে আসা ত্রাণই তাদের একমাত্র ভরসা। ঈদের সকালে কী খাবেন, তা-ও জানা নেই এই মানুষগুলোর।
ধ্বংসস্তূপের পাশেই একটি ভাঙা ইটের দেয়ালে বসে শূন্য দৃষ্টিতে ত্রাণের লাইনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন নূর আলী মিয়া। ১৫ বছর ধরে কালশী বস্তিতে তার বসবাস। ভাঙারির দোকান চালিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন সংসার। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি নিরাশ্রয়।
তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘর থেকে একটা সুতোও বের করতে পারিনি। এক কাপড়ে তিনদিন ধরে রাস্তায় আছি। সন্তানদের জন্য ঈদের যে জামা কিনেছিলাম, সেগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
তার স্ত্রী আমেনা খাতুনের কণ্ঠেও একই হাহাকার। তিনি বলেন, ‘এতদিনের সাজানো সংসার নিমেষেই শেষ হয়ে গেল। বাচ্চাদের নিয়ে কী খেয়ে বাঁচব, কোথায় যাব, কিছুই জানি না।’
কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা নাদিরা খাতুন প্রায় ২০ বছর ধরে এই বস্তিতে থাকেন। এখানেই তার মা ও নানি হওয়া। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে দুটি ছোট ঘরে থাকতেন। রাস্তায় কাজ করে সংসার চালাতেন, থাকতেন মাসে তিন হাজার টাকা ঘরভাড়া দিয়ে।
তিনি বলেন, ঈদে বাচ্চাদের নিয়ে গ্রামে যাব বলে সব গোছাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই আগুনে পুড়ে সব শেষ। এখন ঈদ করব কীভাবে? বাড়ি যাওয়ার ভাড়াও তো নেই।
বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। জানা গেছে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার প্রতি ১০ হাজার টাকা করে সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তবে অনেকে অভিযোগ করেন তাদের ঘর পুড়ে গেলেও সাহায্যের টাকা পাননি।
ঝুমা নামের এক নারী জানান, তিনি সহযোগিতার টাকা পেয়েছেন। তবে তার পাশের আরও কয়েকজন নারী জানান তারা কোনো টাকা পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অর্থ সাহায্যের জন্য লিস্ট করা হলেও পরে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যাদের ঘর পোড়েনি—আশপাশের এমন অনেককে তালিকায় ঢোকানো হয়েছে।
এ দিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ত্রাণ দেওয়া হয়। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে প্রায় ৫০ জনকে এক হাজার টাকা করে দেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে সবুজ কার্ড ছিল। তবে, এই ৫০ জনকে কীভাবে বাছাই করা হলো, সে বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকরা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বস্তিবাসী।
আগুনে ঘর হারানো মো. আলমগীর বলেন, তারা ২৫০-৩০০ জনের নামের লিস্ট করলেও কার্ড দিয়েছে মাত্র ৫০ জনকে। বাকিদের কোনো খোঁজ নেই।
আগুনে যাদের ঘর পোড়েনি, তারাও রক্ষা পাননি দুর্যোগের এই সুযোগসন্ধানীদের হাত থেকে। রবিউল মিঞা নামের এক ব্যক্তি জানান, আগুন লাগার সময় যখন হাজার হাজার মানুষের হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন একদল দুর্বৃত্ত তার এবং আশপাশের কয়েকটি ঘরে লুটপাট চালায়। ঘর আগুনে না পুড়লেও লুটপাটের কারণে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার মালামাল হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব।
রেহানা নামের আরেক নারী বলেন, ‘আগুন লাগার ঠিক দুদিন আগেই সরকারের লোকজন আমাদের উচ্ছেদ করতে এসেছিল। তখন বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আর এর ঠিক দুদিন পরই এই রহস্যজনক আগুন। আমাদের মনে হচ্ছে এর পেছনে কোনো কারণ আছে।’

কড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যে শরীর পুড়িয়ে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন জনা ত্রিশেক মানুষ। লাইনের মাথায় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে বিতরণ করা হচ্ছে খাবারের প্যাকেট। একটু দূরেই সামান্য ছায়া খুঁজে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন কয়েকজন নারী ও শিশু।
রাস্তা ধরে সামনে এগোতেই চোখে পড়ে খাবার বিতরণের এমন আরও দুটি লাইন। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ, যাদের অর্ধেকই নারী-শিশু। খাবার নিয়ে কোনো গাড়ি এলেই সেদিকে দৌড়ে যাচ্ছেন তারা।
বুধবার পল্লবীর কালশী বস্তি এলাকায় এমনই চিত্র দেখা গেছে। ঈদের তিন দিন আগে (২৫ মে) ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এখানকার প্রায় ২৫০টি বসতঘর ও ৫০টির বেশি দোকান। বাস্তুচ্যুত হয়ে রাস্তায় ঠাঁই হয়েছে প্রায় হাজারখানেক মানুষের। খোলা আকাশের নিচে, কালশী ফ্লাইওভারের নিচে রাত কাটছে তাদের। পরনের এক কাপড়েই কাটছে দিন, জোটেনি গোসলের সুযোগ। মাঝে মাঝে পিকআপ ভ্যানে আসা ত্রাণই তাদের একমাত্র ভরসা। ঈদের সকালে কী খাবেন, তা-ও জানা নেই এই মানুষগুলোর।
ধ্বংসস্তূপের পাশেই একটি ভাঙা ইটের দেয়ালে বসে শূন্য দৃষ্টিতে ত্রাণের লাইনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন নূর আলী মিয়া। ১৫ বছর ধরে কালশী বস্তিতে তার বসবাস। ভাঙারির দোকান চালিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন সংসার। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি নিরাশ্রয়।
তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘর থেকে একটা সুতোও বের করতে পারিনি। এক কাপড়ে তিনদিন ধরে রাস্তায় আছি। সন্তানদের জন্য ঈদের যে জামা কিনেছিলাম, সেগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
তার স্ত্রী আমেনা খাতুনের কণ্ঠেও একই হাহাকার। তিনি বলেন, ‘এতদিনের সাজানো সংসার নিমেষেই শেষ হয়ে গেল। বাচ্চাদের নিয়ে কী খেয়ে বাঁচব, কোথায় যাব, কিছুই জানি না।’
কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা নাদিরা খাতুন প্রায় ২০ বছর ধরে এই বস্তিতে থাকেন। এখানেই তার মা ও নানি হওয়া। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে দুটি ছোট ঘরে থাকতেন। রাস্তায় কাজ করে সংসার চালাতেন, থাকতেন মাসে তিন হাজার টাকা ঘরভাড়া দিয়ে।
তিনি বলেন, ঈদে বাচ্চাদের নিয়ে গ্রামে যাব বলে সব গোছাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই আগুনে পুড়ে সব শেষ। এখন ঈদ করব কীভাবে? বাড়ি যাওয়ার ভাড়াও তো নেই।
বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। জানা গেছে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার প্রতি ১০ হাজার টাকা করে সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তবে অনেকে অভিযোগ করেন তাদের ঘর পুড়ে গেলেও সাহায্যের টাকা পাননি।
ঝুমা নামের এক নারী জানান, তিনি সহযোগিতার টাকা পেয়েছেন। তবে তার পাশের আরও কয়েকজন নারী জানান তারা কোনো টাকা পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অর্থ সাহায্যের জন্য লিস্ট করা হলেও পরে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যাদের ঘর পোড়েনি—আশপাশের এমন অনেককে তালিকায় ঢোকানো হয়েছে।
এ দিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ত্রাণ দেওয়া হয়। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে প্রায় ৫০ জনকে এক হাজার টাকা করে দেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে সবুজ কার্ড ছিল। তবে, এই ৫০ জনকে কীভাবে বাছাই করা হলো, সে বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকরা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বস্তিবাসী।
আগুনে ঘর হারানো মো. আলমগীর বলেন, তারা ২৫০-৩০০ জনের নামের লিস্ট করলেও কার্ড দিয়েছে মাত্র ৫০ জনকে। বাকিদের কোনো খোঁজ নেই।
আগুনে যাদের ঘর পোড়েনি, তারাও রক্ষা পাননি দুর্যোগের এই সুযোগসন্ধানীদের হাত থেকে। রবিউল মিঞা নামের এক ব্যক্তি জানান, আগুন লাগার সময় যখন হাজার হাজার মানুষের হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন একদল দুর্বৃত্ত তার এবং আশপাশের কয়েকটি ঘরে লুটপাট চালায়। ঘর আগুনে না পুড়লেও লুটপাটের কারণে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার মালামাল হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব।
রেহানা নামের আরেক নারী বলেন, ‘আগুন লাগার ঠিক দুদিন আগেই সরকারের লোকজন আমাদের উচ্ছেদ করতে এসেছিল। তখন বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আর এর ঠিক দুদিন পরই এই রহস্যজনক আগুন। আমাদের মনে হচ্ছে এর পেছনে কোনো কারণ আছে।’

দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
১ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে এবার ক্রেতা সংকট ও দরপতনে দিশাহারা বিক্রেতারা। বড় গরু থেকে শুরু করে ছাগল—সবখানেই লোকশানের কথা বলছেন তারা। এরমধ্যে যোগ হয়েছে ইজারাদারদের নিয়মবহির্ভূত জায়গা ও খুঁটিভাড়া আদায়।
২ ঘণ্টা আগে
ঈদযাত্রার শেষ সময়ে গাবতলী টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় নেই। তবে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন বাস, যানজট ও বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
৩ ঘণ্টা আগে