-018115-480x270.webp)
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে হামের প্রথম টিকা দেওয়ার নির্ধারিত বয়স ৯ মাস। তবে এর আগেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে ৪৬ শতাংশ শিশু। এমন তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) কনফারেন্স হলে ‘মিজলস আউটব্রেক ২০২৬ ইন সাদার্ন বাংলাদেশ : এপিডেমিওলজিক্যাল প্রোফাইল, ক্লিনিক্যাল ক্যারেক্টারিস্টিকস, জেনেটিক অ্যানালাইসিস উইথ ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড অ্যান্টিবডি স্ট্যাটাস’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
গবেষণাটি এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এআরএফ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চাইল্ড রিসার্চ টিম যৌথভাবে পরিচালনা করে। এতে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
গবেষণায় দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের ৮৫ দশমিক ২ শতাংশই সম্পূর্ণ টিকাবিহীন। আক্রান্তদের ১১ শতাংশের বয়স ছিল ছয় মাসের কম। বয়স হওয়ার পরও টিকা না নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং শিশু ও মায়ের অসুস্থতাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের ৭৮ দশমিক ১ শতাংশ নিউমোনিয়ায় ভুগছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সাত শিশুই ছিল সম্পূর্ণ টিকাবিহীন এবং তাদের নিউমোনিয়া হয়েছিল। গবেষণায় বলা হয়, আগে টিকা নেওয়া কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
গবেষণায় ১৭টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে প্রতিটিতেই ‘বি-৩’ জিনোটাইপ পাওয়া গেছে। গবেষকদের ভাষ্য, বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত টিকা এই জিনোটাইপ প্রতিরোধে সক্ষম।
নির্ধারিত বয়সের আগেই আক্রান্ত হওয়া বিবেচনায় নিয়ে গবেষণায় ইপিআই শিডিউল পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৯ মাসের পরিবর্তে ছয় মাস বয়স থেকে প্রথম ডোজ এমআর টিকা (সম্মিলিত হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা) দেওয়া এবং মাতৃ-সুরক্ষার জন্য ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি নারীদের এমআর টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন গবেষকরা। পাশাপাশি জাতীয় টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের ওপরে নেওয়া, দুর্গম এলাকায় ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন এবং শিশুদের অপুষ্টি কমাতে নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহারের নেতৃত্বে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চারটি বড় হাসপাতালের ১৯৬ জন ল্যাব-পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়। এর মধ্যে চমেক হাসপাতালে ৯৭ জন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৪ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৪৫ জন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল।
গবেষণা সহযোগী হিসেবে ছিলেন, ডা. সেলিনা হক, ডা. আয়েশা বেগম, ডা. মোহাম্মদ জাবেদ বিন আমিন চৌধুরী, ডা. সায়েদা হুমায়দা হাসান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. আসমা ফেরদৌসী ও ডা. সানজানা ইসলাম, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এবং কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. এম এস জামান।
.png)
-40e58c.jpeg)




-92d8ff-256x144.webp)
-a8f65e-256x144.webp)