গাজীপুরে গ্যাস সংকট কাটার অপেক্ষায় কারখানা মালিকরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাজীপুর

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ১১
গাজীপুরে গ্যাস-নির্ভরশীল কারখানা । ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে গ্যাস-নির্ভরশীল কারখানা । ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে সংকট কাটেনি। কম চাপের কারণে অনেক কারখানা এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তবে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতির আশা করছেন কারখানা মালিকরা।

বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী বিসিক, পাগাড়, গাছা, বাসন, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় বয়লার ও গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কোথাও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখা হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট। শিল্পকারখানায় চাহিদা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্প খাতে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট।

তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আসায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

তিতাস সূত্র জানায়, মেঘনাঘাট পয়েন্টে চাপ বাড়ায় নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে গাজীপুরের ধনুয়া পয়েন্টে গ্যাসের চাপ আশানুরূপ বাড়েনি। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকায় সরবরাহ বাড়লেও পুরো নেটওয়ার্ক এখনো গ্যাসে পূর্ণ হয়নি।

তিতাসের কর্মকর্তাদের আশা, শুক্র ও শনিবার ছুটির কারণে গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় নেটওয়ার্কে গ্যাস জমা হতে পারে। এরপর গাজীপুরসহ সংকটে থাকা এলাকাগুলোতে গ্যাসের চাপ আরও বাড়তে পারে।

পাগাড় এলাকার শিশির নিটিং অ্যান্ড ডাইং ফ্যাক্টরির প্রশাসনিক কর্মকর্তা শিবলী সরকার বলেন, তীব্র গ্যাস সংকটে তাঁদের ডাইং ইউনিটের যন্ত্রপাতি দীর্ঘ সময় অচল ছিল। গত দুই দিনে চাপ কিছুটা বাড়লেও এখনো সব মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

ফু ওয়াং সিরামিকের মহাব্যবস্থাপক হামিদুর রহমান বলেন, তাঁদের উৎপাদন চালাতে ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১ থেকে ১ দশমিক ৫ পিএসআই। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

তবে কিছু কারখানায় পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক। স্মাইল অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাবুর হোসেন সরদার জানান, তাঁদের বয়লার সচল রাখার মতো পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের উৎপাদন বিঘ্ন এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কোনো কোনো কারখানা বিকল্প ব্যবস্থায় যাচ্ছে। এপিক গার্মেন্টস লিমিটেডের কারখানা ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, তাঁদের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ডিজেলচালিত হলেও স্টিম আয়রনিংয়ের জন্য গ্যাস প্রয়োজন। বয়লার চালাতে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন ব্যবস্থা থাকায় উৎপাদন সচল রাখা গেলেও পরিচালন ব্যয় বেড়েছে।

এদিকে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, শিল্পকারখানার পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে আগামী দুই দিনের মধ্যে শিল্প এলাকাগুলো পরিদর্শন করবেন তারা।

নতুন এলএনজি কার্গো খালাসের পর সোমবার রাত থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২৬২ কোটি ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। তবে দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে সরবরাহ বাড়লেও এখনো প্রায় ১১৮ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত