স্ট্রিম প্রতিবেদক

রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। কাদা আর প্রতিকূল আবহাওয়ায় অনেক বিক্রেতা কিছুটা কম দামে পশু বিক্রি করছেন। তবে দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা। হাটে আজ উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
ঈদুল আজহার আর মাত্র এক দিন বাকি। মঙ্গলবার হাটে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল এবং দুপুরের আগে থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে হাটের ভেতরের জায়গাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে পশু রাখা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লোকসান এড়াতে ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা।
হাটে আসা সেলিম নামের এক ক্রেতা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বড় আকারের গরু কিনেছেন। প্রথম দিন হাটে এসেই পছন্দের গরু কিনতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত। সেলিম বলেন, 'প্রথম দিন এসেই গরুটি কিনলাম। আবহাওয়া খারাপ থাকায় বিক্রেতারা দাম কিছুটা কম চাচ্ছিলেন। আমার মনে হয়, গরু কিনে আমার লাভই হয়েছে। বাজারে গরুর সরবরাহ ভালো, তবে বৃষ্টির কারণে বিক্রেতারা কিছুটা চাপে আছেন।'
সেলিমের কাছে গরুটি বিক্রি করেছেন সিঙ্গাইর থেকে আসা গৃহস্থ আব্দুল মজিদ। তবে গরু বিক্রি করলেও মজিদের মুখে হাসির চেয়ে বিষাদের ছায়াই বেশি দেখা গেল। তিনি বলেন, 'বৃষ্টি-বাদলের দিন, হাটে গরু বেশি সময় ধরে রাখাও কঠিন। কাদার মধ্যে গরু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তাই কম দামেই গরুটি বিক্রি করে দিলাম। এত বড় গরু এত কম দামে বিক্রি করে মনটা কেমন কেমন করছে। তবে আমি দুটি গরু এনেছিলাম। একটার দাম মোটামুটি ভালো পেলেও এই দ্বিতীয় গরুটায় বেশ কিছু লোকসানই করতে হলো।'
কুষ্টিয়া থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে গাবতলীর হাটে এসেছেন আরেক ব্যবসায়ী লিটন। তিনি হাটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, বৃষ্টির জন্যই এবারের হাটে গরুর দামে এই মন্দাভাব। লিটন বলেন, 'আমরা অনেক আশা নিয়ে দূর থেকে গরু নিয়ে আসি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মানুষ হাটে এসে কাদা মাড়িয়ে বেশি ঘুরতে চাচ্ছে না। আবার আমরাও গরু নিয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে পারছি না। যে গরুর দাম অন্তত তিন লাখ টাকা হওয়া উচিত ছিল, বাজারে এখন ক্রেতারা সেটির দাম দুই লাখ ২০ বা আড়াই লাখের বেশি বলতে চাচ্ছেন না। বৃষ্টির কারণে আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই কম দামে গরু ছাড়ছি।'
একই সুর শোনা গেল পাবনা থেকে আসা আরেক বিক্রেতা আবদুর রশিদের কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'হাটে কাদার কারণে গরু দাঁড়াতে পারছে না। গরুর পেছনে প্রতিদিন যে খরচ হচ্ছে, তা কমানোর জন্য এবং গরুর শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে আমরা লোকসান মেনে নিয়ে হলেও বিক্রি করে দিচ্ছি। বৃষ্টি হওয়ার পর ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন, কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই।'
এদিকে বৃষ্টির কারণে বড় গরুর দাম কিছুটা কমলেও মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা এখনো অনেক বেশি। ধানমন্ডি থেকে গাবতলী হাটে গরু কিনতে এসেছেন মীর হাবিব। সঙ্গে এসেছেন তাঁর দুই ছেলে। তিনি মূলত মাঝারি আকারের গরুর সন্ধান করছেন। মীর হাবিব জানান, 'বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর দামের ক্ষেত্রে বিক্রেতারা কিছুটা শক্ত অবস্থানে আছেন। তবে সার্বিকভাবে গরুর দাম খুব একটা বেশি মনে হচ্ছে না। আমরা এক লাখ টাকার মধ্যে একটি গরু কেনার চেষ্টা করছি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলছি, আশা করছি এই বাজেটের মধ্যে একটি ভালো গরু পেয়ে যাব।'
হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গাবতলী পশুর হাটে কর্তব্যরত শাহবাগ থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন, 'টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা হাটের ভেতরে বালি ফেলে কাদা কমানোর চেষ্টা করছি। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিক্রেতারা যে সংকটে পড়েছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা আশা করছি, আবহাওয়ার উন্নতি হলে বিক্রেতারা শেষ মুহূর্তে ভালো দাম পাবেন।'
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এই আশঙ্কায় খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হাটে পশু ধরে রাখার চেয়ে দ্রুত বিক্রি করে দেওয়াকেই নিরাপদ মনে করছেন। ফলে আগামী দিনগুলোতেও ক্রেতারা কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে গরু কিনতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের এই দরকষাকষি আর হাটের কোলাহল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। কাদা আর প্রতিকূল আবহাওয়ায় অনেক বিক্রেতা কিছুটা কম দামে পশু বিক্রি করছেন। তবে দামে সন্তুষ্ট ক্রেতারা। হাটে আজ উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
ঈদুল আজহার আর মাত্র এক দিন বাকি। মঙ্গলবার হাটে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল এবং দুপুরের আগে থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে হাটের ভেতরের জায়গাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে পশু রাখা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লোকসান এড়াতে ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা।
হাটে আসা সেলিম নামের এক ক্রেতা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বড় আকারের গরু কিনেছেন। প্রথম দিন হাটে এসেই পছন্দের গরু কিনতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত। সেলিম বলেন, 'প্রথম দিন এসেই গরুটি কিনলাম। আবহাওয়া খারাপ থাকায় বিক্রেতারা দাম কিছুটা কম চাচ্ছিলেন। আমার মনে হয়, গরু কিনে আমার লাভই হয়েছে। বাজারে গরুর সরবরাহ ভালো, তবে বৃষ্টির কারণে বিক্রেতারা কিছুটা চাপে আছেন।'
সেলিমের কাছে গরুটি বিক্রি করেছেন সিঙ্গাইর থেকে আসা গৃহস্থ আব্দুল মজিদ। তবে গরু বিক্রি করলেও মজিদের মুখে হাসির চেয়ে বিষাদের ছায়াই বেশি দেখা গেল। তিনি বলেন, 'বৃষ্টি-বাদলের দিন, হাটে গরু বেশি সময় ধরে রাখাও কঠিন। কাদার মধ্যে গরু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তাই কম দামেই গরুটি বিক্রি করে দিলাম। এত বড় গরু এত কম দামে বিক্রি করে মনটা কেমন কেমন করছে। তবে আমি দুটি গরু এনেছিলাম। একটার দাম মোটামুটি ভালো পেলেও এই দ্বিতীয় গরুটায় বেশ কিছু লোকসানই করতে হলো।'
কুষ্টিয়া থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে গাবতলীর হাটে এসেছেন আরেক ব্যবসায়ী লিটন। তিনি হাটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, বৃষ্টির জন্যই এবারের হাটে গরুর দামে এই মন্দাভাব। লিটন বলেন, 'আমরা অনেক আশা নিয়ে দূর থেকে গরু নিয়ে আসি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মানুষ হাটে এসে কাদা মাড়িয়ে বেশি ঘুরতে চাচ্ছে না। আবার আমরাও গরু নিয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে পারছি না। যে গরুর দাম অন্তত তিন লাখ টাকা হওয়া উচিত ছিল, বাজারে এখন ক্রেতারা সেটির দাম দুই লাখ ২০ বা আড়াই লাখের বেশি বলতে চাচ্ছেন না। বৃষ্টির কারণে আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই কম দামে গরু ছাড়ছি।'
একই সুর শোনা গেল পাবনা থেকে আসা আরেক বিক্রেতা আবদুর রশিদের কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'হাটে কাদার কারণে গরু দাঁড়াতে পারছে না। গরুর পেছনে প্রতিদিন যে খরচ হচ্ছে, তা কমানোর জন্য এবং গরুর শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে আমরা লোকসান মেনে নিয়ে হলেও বিক্রি করে দিচ্ছি। বৃষ্টি হওয়ার পর ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন, কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই।'
এদিকে বৃষ্টির কারণে বড় গরুর দাম কিছুটা কমলেও মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা এখনো অনেক বেশি। ধানমন্ডি থেকে গাবতলী হাটে গরু কিনতে এসেছেন মীর হাবিব। সঙ্গে এসেছেন তাঁর দুই ছেলে। তিনি মূলত মাঝারি আকারের গরুর সন্ধান করছেন। মীর হাবিব জানান, 'বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর দামের ক্ষেত্রে বিক্রেতারা কিছুটা শক্ত অবস্থানে আছেন। তবে সার্বিকভাবে গরুর দাম খুব একটা বেশি মনে হচ্ছে না। আমরা এক লাখ টাকার মধ্যে একটি গরু কেনার চেষ্টা করছি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলছি, আশা করছি এই বাজেটের মধ্যে একটি ভালো গরু পেয়ে যাব।'
হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গাবতলী পশুর হাটে কর্তব্যরত শাহবাগ থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন, 'টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা হাটের ভেতরে বালি ফেলে কাদা কমানোর চেষ্টা করছি। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিক্রেতারা যে সংকটে পড়েছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা আশা করছি, আবহাওয়ার উন্নতি হলে বিক্রেতারা শেষ মুহূর্তে ভালো দাম পাবেন।'
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এই আশঙ্কায় খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হাটে পশু ধরে রাখার চেয়ে দ্রুত বিক্রি করে দেওয়াকেই নিরাপদ মনে করছেন। ফলে আগামী দিনগুলোতেও ক্রেতারা কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে গরু কিনতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের এই দরকষাকষি আর হাটের কোলাহল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
১৮ মিনিট আগে
হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে এক এবং সন্দেহজনক হাম নিয়ে মারা গেছে নয় শিশু।
৩৯ মিনিট আগে
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের ঔদ্ধত্য আচরণ, দুঃসাহস কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে নারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুরোনো মামলার আসামি ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও রয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে