ট্যানারিতে ৬ লাখ ৪০ হাজার কাঁচা চামড়া, প্রক্রিয়াজাতে ব্যস্ত শ্রমিকরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১০: ২৫
চামড়ায় লবণ মাখিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত ট্যানারির শ্রমিকরা। স্ট্রিম ছবি

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে এসেছে ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া। এগুলোতে লবণ মাখানো এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ট্যানারিগুলো।

চামড়া শিল্পনগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহরাজুল মাইয়ান জানান, গত ২৮ মে দুপুর থেকে ৩ জুন রাত ১১টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে ৬ লাখ ৪০ হাজার ৪৩০টি কাঁচা চামড়া ঢুকেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৯টি এবং ছাগল-ভেড়ার ৫৫ হাজার ৮৪১টি।

সরেজমিনে শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ট্যানারিতে এখনও চামড়া নামানো ও সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজ চলছে। লবণ মাখানোসহ বিভিন্ন কাজে শ্রমিকরা দম ফেলার ফুসরত পাচ্ছেন না। শিল্পনগরীর প্রধান ফটক থেকে পুরো এলাকায় ব্যস্ততা চোখে পড়ে।

বিসিক কর্মকর্তা মেহরাজুল মাইয়ান বলেন, চামড়া এখনও আসছে। ঈদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

শিল্পনগরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ঈদের দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে প্রথম ট্রাক শিল্পনগরীতে ঢুকে। এরপর থেকে চামড়াবাহী ট্রাক আসার পরিমাণ বাড়ছে।

ট্যানারি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদেই বছরের সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এজন্য চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অনেক ট্যানারি আগে থেকেই প্রস্তুতি শেষ করেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে এ বছর ১ কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়েছে।

সেই হিসাবে ট্যানারিতে চামড়া আসার পরিমাণ বেশ কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর পেছনে বড় কারণ, এই বছরও চামড়ার যথাযথ দাম মেলেনি। সরকার দর নির্ধারণ করে দিলেও চামড়া সংগ্রহকারীরা সেই দাম দেননি। এতে অনেক চামড়া বিক্রি না করে ফেলে দিয়েছেন।

সম্পর্কিত