কে এম মহিউদ্দিন

রাষ্ট্রপতি রাজা নন, কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর মর্যাদা, আনুষ্ঠানিকতা, প্রাসাদের মতো সরকারি বাসভবন, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং সম্বোধন রীতি অনেক ক্ষেত্রেই রাজা বা ঔপনিবেশিক আমলের গভর্নরের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর অবস্থান, আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার প্রয়োগ এবং সাংবিধানিক মর্যাদা তাঁকে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্বতন্ত্র একটি অবস্থান প্রদান করে। অথচ এই বাহ্যিক জাঁকজমক ও উচ্চ মর্যাদার আড়ালে রাষ্ট্রপতি পদের প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতা, দায়িত্ব, কার্যকারিতা ও প্রভাব অনেক সময় প্রত্যাশার তুলনায় ভিন্নতর।
বিশেষ করে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক মর্যাদা যতটা দৃশ্যমান, তাঁর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা ততটা নয়। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ হলেও তাঁর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিন্তু এখানেই রাষ্ট্রপতি পদটির বিশেষত্ব—ক্ষমতা সীমিত মানেই গুরুত্ব সীমিত নয়।
ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও তাঁর রাজনৈতিক, নৈতিক ও প্রতীকী প্রভাব একেবারে অস্বীকার করা যায় না। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সাধারণত প্রত্যাশা করা হয়, তিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবেন, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন। সরকারের প্রতিদিনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা তাঁর দায়িত্ব নয়; কিন্তু রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় ঐক্য রক্ষায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে রাষ্ট্রপতির নৈতিক কর্তৃত্ব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একজন রাষ্ট্রপতি কতটা জনপ্রিয়, তা শুধু তাঁর ক্ষমতার পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। তাঁর নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক আচরণ, সততা, সংযম এবং সংকটকালে তাঁর ভূমিকা জনমনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারে। সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তে নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নির্ভর করতে পারে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের ইতিহাস একরৈখিক নয়। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি পদটি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক তাৎপর্য ধারণ করেছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির পদ ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রপতি পদ শক্তিশালী নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছিল। আবার ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতি পুনরায় অপেক্ষাকৃত সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের অবস্থানে ফিরে আসেন। আজকের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সরকারের প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু তাই বলে তাঁর গুরুত্বও সীমিত-এমনটি বলা যায় না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়া অন্য অনেক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের চেয়ে একটি দিক থেকে আলাদা। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন সক্রিয় দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর এখন তাঁকে এমন একটি সাংবিধানিক পদে আসীন হতে হচ্ছে, যার অন্যতম প্রধান প্রত্যাশাই হলো দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা। এখানেই তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় সুযোগ।
একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে। রাজনৈতিক দল, সংসদ, সরকার, বিরোধী মত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সংকটকালে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে মূল্যবান হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এই রাজনৈতিক অতীতই তাঁর নিরপেক্ষতার প্রতি জনআস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর কাছে নাগরিকদের প্রত্যাশা তাই শুধু একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের নয়; বরং একজন নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপ্রধানের।
সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতির শপথের ভাষ্যে তিন ধরনের দায়বদ্ধতা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে—সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা। এসব দায়বদ্ধতা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ক্ষমতা প্রয়োগ এবং জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের একটি মৌলিক কাঠামো তৈরি করে। আজ ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথের মাধ্যমে তিনি যে দায়িত্ব ও অঙ্গীকার গ্রহণ করবেন, তার আলোকে রাষ্ট্রপতির কাছে নাগরিক প্রত্যাশার পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করা যায়-
প্রথমত, নাগরিকরা প্রত্যাশা করেন যে রাষ্ট্রপতি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক অতীত বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পূর্ববর্তী সম্পর্ক থাকা অস্বাভাবিক নয়; কিন্তু রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁর আচরণে সেই দলীয় পরিচয়ের প্রভাব দৃশ্যমান না হওয়াই প্রত্যাশিত। বিশেষত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নির্বাচন, সরকার গঠন কিংবা রাজনৈতিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা তাঁর সাংবিধানিক বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম প্রধান পরীক্ষা।
দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রত্যাশা থাকবে তিনি সংবিধানের মর্যাদা ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা রক্ষায় দৃঢ় থাকবেন। রাষ্ট্রপতির শপথে সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা-বিধানের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা তাঁকে কেবল সাংবিধানিক ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক প্রয়োগকারী নয়, বরং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে সংসদীয় ব্যবস্থায় এই ভূমিকার অর্থ নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্প্রসারণ নয়; বরং সংবিধান যে সীমা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যেই দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ ভূমিকা পালন করা।
তৃতীয়ত, নাগরিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা হলো সংকটকালে রাষ্ট্রপতির নৈতিক ও সাংবিধানিক নেতৃত্ব। স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেকাংশে আনুষ্ঠানিক মনে হলেও রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটের সময়ে তাঁর নিরপেক্ষতা, ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সংলাপ-উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে আস্থা ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হওয়া।
চতুর্থত, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রত্যাশা থাকবে তিনি জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করবেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য, আচরণ, নিয়োগ-সংক্রান্ত ভূমিকা এবং সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত—সবকিছুতেই সততা, সংযম, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ রাষ্ট্রপতির পদটির রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হলেও এর প্রতীকী ও নৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত আচরণও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
পঞ্চমত, নাগরিকরা এমন একজন রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন যিনি জাতীয় বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করবেন। রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ, অঞ্চল, ধর্ম, শ্রেণি বা সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকল নাগরিকের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা তাঁর নৈতিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষত বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও আচরণে সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সাংবিধানিক দেশপ্রেমের প্রকাশ জনস্বীকৃতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয় হলো—রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত হলেই তাঁর প্রতি নাগরিকের প্রত্যাশা সীমিত হবে, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। বরং সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও তাঁর নৈতিক, প্রতীকী ও সাংবিধানিক কর্তৃত্ব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে তাঁর জনস্বীকৃতি মূলত সরকারের কার্যসম্পাদনের ওপর সরাসরি নির্ভর না করে নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক আনুগত্য, নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জাতীয় ঐক্যে তাঁর ভূমিকার ওপর গড়ে উঠতে পারে।
অতএব, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে নাগরিক প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত “ক্ষমতার সম্প্রসারণ” নয়, বরং “সাংবিধানিক দায়িত্বের যথাযথ প্রয়োগ”। একজন রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক অতীত থাকতে পারে, রাজনৈতিক পরিচয়ও থাকতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সর্বোচ্চ পরিচয় হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি আনুগত্য।
তিনি যদি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা, নৈতিক সততা, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের আস্থা রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন, তবে সীমিত আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার মধ্যেও রাষ্ট্রপতির পদটি একটি শক্তিশালী নৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন, তখন সেটি শুধু একটি নতুন পদে প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা হবে না; বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি নতুন সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হবে।
মির্জা ফখরুলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি কতটা ক্ষমতাবান হবেন—তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, তিনি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ ও সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে উঠতে পারবেন। একজন রাজনৈতিক অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় রূপান্তর। দলীয় রাজনীতিতে যেখানে পক্ষ নেওয়া স্বাভাবিক, রাষ্ট্রপতির পদে সেখানে নিরপেক্ষ থাকাই দায়িত্ব। রাজনৈতিক জীবনে যেখানে মতাদর্শ ও দলের পক্ষে অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে সেখানে সংবিধান ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
তাঁর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি যদি সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং জাতীয় ঐক্যের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও তিনি রাষ্ট্রপতি পদটির মর্যাদা ও জনআস্থা নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি রাজা নন, কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর মর্যাদা, আনুষ্ঠানিকতা, প্রাসাদের মতো সরকারি বাসভবন, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং সম্বোধন রীতি অনেক ক্ষেত্রেই রাজা বা ঔপনিবেশিক আমলের গভর্নরের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর অবস্থান, আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার প্রয়োগ এবং সাংবিধানিক মর্যাদা তাঁকে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্বতন্ত্র একটি অবস্থান প্রদান করে। অথচ এই বাহ্যিক জাঁকজমক ও উচ্চ মর্যাদার আড়ালে রাষ্ট্রপতি পদের প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতা, দায়িত্ব, কার্যকারিতা ও প্রভাব অনেক সময় প্রত্যাশার তুলনায় ভিন্নতর।
বিশেষ করে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক মর্যাদা যতটা দৃশ্যমান, তাঁর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা ততটা নয়। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ হলেও তাঁর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিন্তু এখানেই রাষ্ট্রপতি পদটির বিশেষত্ব—ক্ষমতা সীমিত মানেই গুরুত্ব সীমিত নয়।
ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও তাঁর রাজনৈতিক, নৈতিক ও প্রতীকী প্রভাব একেবারে অস্বীকার করা যায় না। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সাধারণত প্রত্যাশা করা হয়, তিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবেন, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন। সরকারের প্রতিদিনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা তাঁর দায়িত্ব নয়; কিন্তু রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় ঐক্য রক্ষায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে রাষ্ট্রপতির নৈতিক কর্তৃত্ব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একজন রাষ্ট্রপতি কতটা জনপ্রিয়, তা শুধু তাঁর ক্ষমতার পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। তাঁর নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক আচরণ, সততা, সংযম এবং সংকটকালে তাঁর ভূমিকা জনমনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারে। সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তে নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নির্ভর করতে পারে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের ইতিহাস একরৈখিক নয়। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি পদটি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক তাৎপর্য ধারণ করেছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির পদ ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রপতি পদ শক্তিশালী নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছিল। আবার ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতি পুনরায় অপেক্ষাকৃত সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের অবস্থানে ফিরে আসেন। আজকের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সরকারের প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু তাই বলে তাঁর গুরুত্বও সীমিত-এমনটি বলা যায় না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়া অন্য অনেক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের চেয়ে একটি দিক থেকে আলাদা। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন সক্রিয় দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর এখন তাঁকে এমন একটি সাংবিধানিক পদে আসীন হতে হচ্ছে, যার অন্যতম প্রধান প্রত্যাশাই হলো দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা। এখানেই তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় সুযোগ।
একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে। রাজনৈতিক দল, সংসদ, সরকার, বিরোধী মত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সংকটকালে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে মূল্যবান হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এই রাজনৈতিক অতীতই তাঁর নিরপেক্ষতার প্রতি জনআস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর কাছে নাগরিকদের প্রত্যাশা তাই শুধু একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের নয়; বরং একজন নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপ্রধানের।
সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতির শপথের ভাষ্যে তিন ধরনের দায়বদ্ধতা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে—সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা। এসব দায়বদ্ধতা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ক্ষমতা প্রয়োগ এবং জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের একটি মৌলিক কাঠামো তৈরি করে। আজ ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথের মাধ্যমে তিনি যে দায়িত্ব ও অঙ্গীকার গ্রহণ করবেন, তার আলোকে রাষ্ট্রপতির কাছে নাগরিক প্রত্যাশার পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করা যায়-
প্রথমত, নাগরিকরা প্রত্যাশা করেন যে রাষ্ট্রপতি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক অতীত বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পূর্ববর্তী সম্পর্ক থাকা অস্বাভাবিক নয়; কিন্তু রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁর আচরণে সেই দলীয় পরিচয়ের প্রভাব দৃশ্যমান না হওয়াই প্রত্যাশিত। বিশেষত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নির্বাচন, সরকার গঠন কিংবা রাজনৈতিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা তাঁর সাংবিধানিক বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম প্রধান পরীক্ষা।
দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রত্যাশা থাকবে তিনি সংবিধানের মর্যাদা ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা রক্ষায় দৃঢ় থাকবেন। রাষ্ট্রপতির শপথে সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা-বিধানের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা তাঁকে কেবল সাংবিধানিক ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক প্রয়োগকারী নয়, বরং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে সংসদীয় ব্যবস্থায় এই ভূমিকার অর্থ নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্প্রসারণ নয়; বরং সংবিধান যে সীমা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যেই দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ ভূমিকা পালন করা।
তৃতীয়ত, নাগরিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা হলো সংকটকালে রাষ্ট্রপতির নৈতিক ও সাংবিধানিক নেতৃত্ব। স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেকাংশে আনুষ্ঠানিক মনে হলেও রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটের সময়ে তাঁর নিরপেক্ষতা, ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সংলাপ-উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে আস্থা ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হওয়া।
চতুর্থত, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রত্যাশা থাকবে তিনি জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করবেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য, আচরণ, নিয়োগ-সংক্রান্ত ভূমিকা এবং সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত—সবকিছুতেই সততা, সংযম, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ রাষ্ট্রপতির পদটির রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হলেও এর প্রতীকী ও নৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত আচরণও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
পঞ্চমত, নাগরিকরা এমন একজন রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন যিনি জাতীয় বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করবেন। রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ, অঞ্চল, ধর্ম, শ্রেণি বা সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকল নাগরিকের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা তাঁর নৈতিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষত বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও আচরণে সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সাংবিধানিক দেশপ্রেমের প্রকাশ জনস্বীকৃতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয় হলো—রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত হলেই তাঁর প্রতি নাগরিকের প্রত্যাশা সীমিত হবে, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। বরং সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও তাঁর নৈতিক, প্রতীকী ও সাংবিধানিক কর্তৃত্ব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে তাঁর জনস্বীকৃতি মূলত সরকারের কার্যসম্পাদনের ওপর সরাসরি নির্ভর না করে নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক আনুগত্য, নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জাতীয় ঐক্যে তাঁর ভূমিকার ওপর গড়ে উঠতে পারে।
অতএব, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে নাগরিক প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত “ক্ষমতার সম্প্রসারণ” নয়, বরং “সাংবিধানিক দায়িত্বের যথাযথ প্রয়োগ”। একজন রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক অতীত থাকতে পারে, রাজনৈতিক পরিচয়ও থাকতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সর্বোচ্চ পরিচয় হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি আনুগত্য।
তিনি যদি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা, নৈতিক সততা, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের আস্থা রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন, তবে সীমিত আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার মধ্যেও রাষ্ট্রপতির পদটি একটি শক্তিশালী নৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন, তখন সেটি শুধু একটি নতুন পদে প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা হবে না; বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি নতুন সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হবে।
মির্জা ফখরুলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি কতটা ক্ষমতাবান হবেন—তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, তিনি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ ও সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে উঠতে পারবেন। একজন রাজনৈতিক অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় রূপান্তর। দলীয় রাজনীতিতে যেখানে পক্ষ নেওয়া স্বাভাবিক, রাষ্ট্রপতির পদে সেখানে নিরপেক্ষ থাকাই দায়িত্ব। রাজনৈতিক জীবনে যেখানে মতাদর্শ ও দলের পক্ষে অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে সেখানে সংবিধান ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
তাঁর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি যদি সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং জাতীয় ঐক্যের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও তিনি রাষ্ট্রপতি পদটির মর্যাদা ও জনআস্থা নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে পারেন।
.png)

‘আনন্দ নিয়ে শেখা’—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে আবার পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায়।
৪ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেতে যাচ্ছি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠনকারী বিএনপি থেকে মনোনয়ন লাভের পর তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়াটা অবশ্য ছিল সময়ের ব্যাপার। সেই পর্ব অতিক্রান্ত হয়েছে। অচিরেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে শপথ
১৮ ঘণ্টা আগে
জঙ্গি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের অস্বীকারের সংস্কৃতি যেমন আছে। প্রতিপক্ষ দমনে জঙ্গি কার্ড ব্যবহারের অভিযোগও বেশ পুরোনো। এরকম সব কারণে কখনোই প্রকৃত অর্থে জঙ্গি নির্মূল করা যায়নি। বরং জঙ্গিরা নানা ফর্মে সমাজের নানা পরিসরে মিশেছিল। এখনও আছে। কেউ একদিনে জঙ্গি হয়ে ওঠে