লেখা:

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই প্রণালিতে চলা যেকোনো জাহাজকেই ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে দেশটি। ইরানের এই হুমকি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক ধরনের পাল্টা আঘাত। তবে এই হুমকি দেওয়ার পদ্ধতি ইরান আসলে শিখেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই। আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এই কাজ করে আসছে। মার্কিনিদের দেখানো পদ্ধতিতেই ইরান বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান চোকপয়েন্ট হরমুজ প্রণালিকে অস্ত্রে পরিণত করেছে। প্রতিপক্ষকে আলোচনা কিংবা সমঝোতায় আসতে বাধ্য করাই দেশটির প্রধান উদ্দেশ্য।
ট্রাম্প প্রশাসন এবারই প্রথম এমন পাল্টা আঘাতের মুখে পড়েনি। এর আগেও প্রতিপক্ষরা নিজেদের অর্থনৈতিক অস্ত্র দিয়ে আমেরিকাকে জবাব দিয়েছে। দ্বিতীয়বার বসে ট্রাম্প বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের হামলা চালান। তিনি বন্ধু ও শত্রু সবার ওপরই চড়া শুল্ক বসান। আমেরিকার অনেক মিত্র দেশ সেই চাপের কাছে মাথা নত করেছিল। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বাঁচাতে তারা দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সই করে। তবে সব দেশ চুপচাপ মেনে নেয়নি। চীন শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং পাল্টা আক্রমণ চালায়। ২০২৫ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতি ঘোষণা করে। জবাবে বেইজিং তাদের পরিশোধিত ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল মৃত্তিকা রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
গত শতকে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরের কয়েক দশক পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য বা মনোপলি ছিল। এখন আর সেই দিন নেই। ইরান ও চীন পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করেছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধে আমেরিকার একক আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে।
চীনের এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের ওপর বড় আঘাত হানে। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও গাড়ি নির্মাণ শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। এর ফলে উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য জায়গায় উৎপাদন কমে যায়। মার্কিন সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চীনের এই চাপ শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করে। তিনি অর্থনৈতিক উত্তেজনা কমাতে বাধ্য হন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক জবরদস্তির ক্ষেত্রে চীন-মার্কিন এক ধরনের যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনো সেই চুক্তি টিকে আছে বলেই মনে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে ট্রাম্প অনেক বড় ঝুঁকির দরজা খুলে দিয়েছেন। ব্যাপকহারে অর্থনৈতিক জবরদস্তি কতটা ক্ষতি করতে পারে, তা এখন পুরো বিশ্ব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বা ম্যাক্সিমাম প্রেসারের নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ শুরু করেছে। এর ফলে ইরানিরা নিজেদের অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। বিশ্বের মোট সার বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশও এই পথেই চলে। ইরান সেই সরবরাহ পথ কেটে দিয়েছে। মিসাইল, ড্রোন ও মাইন ব্যবহার করে তারা এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে।
ইরানের পাল্টা আঘাতে সৃষ্ট পরিস্থিতি একটা ব্যাপার নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এখন আপস করতে হবে। বিশেষ করে তেলের বাজারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বারবার ভাবতে হবে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ জ্বালানির দামে বিশাল এক ধাক্কা দিয়েছে। এই ধাক্কা সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিছুদিন আগেই রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোয় উৎসব করেছিল। অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে এখন তাদের হয়তো আবারও রাশিয়ার কাছ থেকেই জ্বালানি কিনতে হবে। তেহরানের ব্যবহার করা জ্বালানি অস্ত্র ঠেকানোর জন্য মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থায়ন ও সমর্থনের অভিযোগ এনে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কাতারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়েছিল উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা। সেই অবরোধ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ইকোয়াস তার সদস্য দেশগুলোতে সামরিক অভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্রে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতার কারণে মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের সামরিক জান্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজেই আসেনি। জাপানকে শায়েস্তা করতে চীন রেয়ার আর্থ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার কয়লা আমদানির ওপরও তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এসব পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে শুধু তিক্ততাই বাড়িয়েছে।
এসব ঘটনা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। অর্থনৈতিক জবরদস্তির ইতিহাস ঘাটলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। টানা নিষেধাজ্ঞা দিলে আক্রান্ত দেশগুলো নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। তারা নতুন অংশীদারের খোঁজ শুরু করে। বাণিজ্যের ধরন বৈচিত্র্যময় হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাপের প্রভাব কমে যায়। ২০২২ সালের পর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তাদের বাণিজ্য এশিয়ার দিকে ঘুরিয়ে নেয়। মার্কিন শুল্কের জবাবে চীনা কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন দেশের বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। চিপের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ধাক্কা সামলাতে তারা নিজস্ব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বাড়িয়েছে। আজকের এই নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত বিশ্ব অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার মানে হলো দিনশেষে লাভ কমে যাওয়া।
নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যকারিতা এখন সত্যিই কমে যাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে যুক্তি দেওয়া হতো, নিষেধাজ্ঞার ফলাফল খুব কার্যকরী না হলেও তা অন্তত সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ভালো বিকল্প। ভেনেজুয়েলা ও ইরানে মার্কিন হামলার পর এই দাবি আর বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর বদলে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা উল্টো সহিংস সংঘাতের পথ তৈরি করে দিচ্ছে। টানা অর্থনৈতিক যুদ্ধের এই পৃথিবী আজ হোক বা কাল হোক সত্যিকারের যুদ্ধের রূপ নেবেই।
লেখক: কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং ‘দ্য ইকোনমিক ওয়েপন: দ্য রাইজ অব স্যাংশনস অ্যাজ আ টুল অব মডার্ন ওয়ার’ বইয়ের রচয়িতা।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস থেকে অনূদিত

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই প্রণালিতে চলা যেকোনো জাহাজকেই ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে দেশটি। ইরানের এই হুমকি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক ধরনের পাল্টা আঘাত। তবে এই হুমকি দেওয়ার পদ্ধতি ইরান আসলে শিখেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই। আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এই কাজ করে আসছে। মার্কিনিদের দেখানো পদ্ধতিতেই ইরান বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান চোকপয়েন্ট হরমুজ প্রণালিকে অস্ত্রে পরিণত করেছে। প্রতিপক্ষকে আলোচনা কিংবা সমঝোতায় আসতে বাধ্য করাই দেশটির প্রধান উদ্দেশ্য।
ট্রাম্প প্রশাসন এবারই প্রথম এমন পাল্টা আঘাতের মুখে পড়েনি। এর আগেও প্রতিপক্ষরা নিজেদের অর্থনৈতিক অস্ত্র দিয়ে আমেরিকাকে জবাব দিয়েছে। দ্বিতীয়বার বসে ট্রাম্প বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের হামলা চালান। তিনি বন্ধু ও শত্রু সবার ওপরই চড়া শুল্ক বসান। আমেরিকার অনেক মিত্র দেশ সেই চাপের কাছে মাথা নত করেছিল। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বাঁচাতে তারা দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সই করে। তবে সব দেশ চুপচাপ মেনে নেয়নি। চীন শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং পাল্টা আক্রমণ চালায়। ২০২৫ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতি ঘোষণা করে। জবাবে বেইজিং তাদের পরিশোধিত ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল মৃত্তিকা রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
গত শতকে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরের কয়েক দশক পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য বা মনোপলি ছিল। এখন আর সেই দিন নেই। ইরান ও চীন পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করেছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধে আমেরিকার একক আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে।
চীনের এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের ওপর বড় আঘাত হানে। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা ও গাড়ি নির্মাণ শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। এর ফলে উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য জায়গায় উৎপাদন কমে যায়। মার্কিন সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চীনের এই চাপ শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করে। তিনি অর্থনৈতিক উত্তেজনা কমাতে বাধ্য হন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক জবরদস্তির ক্ষেত্রে চীন-মার্কিন এক ধরনের যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনো সেই চুক্তি টিকে আছে বলেই মনে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে ট্রাম্প অনেক বড় ঝুঁকির দরজা খুলে দিয়েছেন। ব্যাপকহারে অর্থনৈতিক জবরদস্তি কতটা ক্ষতি করতে পারে, তা এখন পুরো বিশ্ব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বা ম্যাক্সিমাম প্রেসারের নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ শুরু করেছে। এর ফলে ইরানিরা নিজেদের অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। বিশ্বের মোট সার বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশও এই পথেই চলে। ইরান সেই সরবরাহ পথ কেটে দিয়েছে। মিসাইল, ড্রোন ও মাইন ব্যবহার করে তারা এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে।
ইরানের পাল্টা আঘাতে সৃষ্ট পরিস্থিতি একটা ব্যাপার নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এখন আপস করতে হবে। বিশেষ করে তেলের বাজারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বারবার ভাবতে হবে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ জ্বালানির দামে বিশাল এক ধাক্কা দিয়েছে। এই ধাক্কা সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কিছুদিন আগেই রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোয় উৎসব করেছিল। অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে এখন তাদের হয়তো আবারও রাশিয়ার কাছ থেকেই জ্বালানি কিনতে হবে। তেহরানের ব্যবহার করা জ্বালানি অস্ত্র ঠেকানোর জন্য মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থায়ন ও সমর্থনের অভিযোগ এনে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কাতারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়েছিল উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা। সেই অবরোধ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ইকোয়াস তার সদস্য দেশগুলোতে সামরিক অভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্রে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতার কারণে মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের সামরিক জান্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজেই আসেনি। জাপানকে শায়েস্তা করতে চীন রেয়ার আর্থ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার কয়লা আমদানির ওপরও তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এসব পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে শুধু তিক্ততাই বাড়িয়েছে।
এসব ঘটনা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। অর্থনৈতিক জবরদস্তির ইতিহাস ঘাটলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। টানা নিষেধাজ্ঞা দিলে আক্রান্ত দেশগুলো নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। তারা নতুন অংশীদারের খোঁজ শুরু করে। বাণিজ্যের ধরন বৈচিত্র্যময় হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাপের প্রভাব কমে যায়। ২০২২ সালের পর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তাদের বাণিজ্য এশিয়ার দিকে ঘুরিয়ে নেয়। মার্কিন শুল্কের জবাবে চীনা কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন দেশের বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। চিপের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ধাক্কা সামলাতে তারা নিজস্ব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বাড়িয়েছে। আজকের এই নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত বিশ্ব অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার মানে হলো দিনশেষে লাভ কমে যাওয়া।
নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যকারিতা এখন সত্যিই কমে যাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে যুক্তি দেওয়া হতো, নিষেধাজ্ঞার ফলাফল খুব কার্যকরী না হলেও তা অন্তত সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ভালো বিকল্প। ভেনেজুয়েলা ও ইরানে মার্কিন হামলার পর এই দাবি আর বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর বদলে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা উল্টো সহিংস সংঘাতের পথ তৈরি করে দিচ্ছে। টানা অর্থনৈতিক যুদ্ধের এই পৃথিবী আজ হোক বা কাল হোক সত্যিকারের যুদ্ধের রূপ নেবেই।
লেখক: কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং ‘দ্য ইকোনমিক ওয়েপন: দ্য রাইজ অব স্যাংশনস অ্যাজ আ টুল অব মডার্ন ওয়ার’ বইয়ের রচয়িতা।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস থেকে অনূদিত
.png)

একজন নেতার মৃত্যু একটি দলের জন্য শোকের ঘটনা। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও। নেতা চলে যাওয়ার পর দলটি কী করে, সেটিই প্রমাণ করে সেই নেতার উত্তরাধিকার কতটা গভীর ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপিও এমন এক পরীক্ষার সামনে। জন্মদিনে দলটি তাঁকে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধা জানাবে।
৯ ঘণ্টা আগে
দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজার বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এই ব্যবধান বিবিএসের তথ্যের মান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কৃষির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত কয়েক দশকে আমাদের কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। উন্নত জাতের ফসল, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারণ।
১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।
১২ আগস্ট ২০২৬