জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

শিশু-তথ্য সংগ্রহের ব্যবসা

বাংলাদেশের তথ্য সুরক্ষা আইন কেন মেটার গলার কাঁটা?

ফয়েজ আহমদ তৈয়ব
ফয়েজ আহমদ তৈয়ব

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৪৯
ছবি: মেটা থেকে নেওয়া

বাংলাদেশে ডিজিটাল শাসনের পথচলা এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এর অন্যতম ভিত্তি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ (পিডিপিও) ২০২৫ এবং পরবর্তী ২০২৬ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি।

এই আইনগুলো পাস করা মোটেও সহজ ছিল না, কারণ বাধা এসেছিল অনেক প্রভাবশালী জায়গা থেকে। গুগল, মেটা, মাস্টারকার্ড আর উবারের মতো বড় কোম্পানিগুলো একজোট হয়ে আপত্তি তোলায় শেষমেশ অধ্যাদেশ দুটিতে দুটি বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

প্রথমত, কোনো কোম্পানি অপরাধ করলে আগে জেল-জরিমানা দুটোরই বিধান ছিল। এখন সেখানে কারাদণ্ড তুলে দিয়ে শুধু জরিমানার নিয়ম রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি খাত এবং বিশেষ কিছু সংরক্ষিত তথ্য বাদে বাকি সব ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে ‘লোকাল ব্যাকআপ’ বা দেশীয় সার্ভারে তথ্য রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিতে হয়েছে। বড় কোম্পানিগুলো এই নিয়মটিকে তাদের জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে দেখে আসছিল।

নাবালকদের বয়স কমানোর জন্য লাগাতার লবিং

এতসব ছাড় দেওয়ার পরও, ফেসবুক (মেটা) আইনটি তৈরির আগে ও পরে অন্তত পাঁচবার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তারা প্রবলভাবে চাইছিল যাতে শিশুর আইনি বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে আনা হয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে, মার্কিন দূতাবাসের আয়োজিত আলোচনায় এবং দ্বিপাক্ষিক সভাগুলোতে বারবার তারা এই দাবি তুলেছে।

আমরা বারবার পরিষ্কার করে বলেছি যে, শিশুর বয়স নির্ধারণ করা আইসিটি বিভাগের এখতিয়ার নয়। এটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে মেটা কিন্তু কখনোই স্পষ্ট করেনি কেন এই পরিবর্তনটি তাদের জন্য এত জরুরি। ফলে আমাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। কোম্পানির পকেট ভারী করা আর সাধারণ মানুষের সুরক্ষা—এই দুইয়ের টানাটানির মাঝে কার স্বার্থ বড়, সেটাই এখন ভাববার বিষয়।

বয়স পুনর্নির্ধারণ করলে তাদের কী লাভ

শৈশবের সংজ্ঞা বদলে দেওয়ার পেছনে মেটার এত জেদ কেন? আসলে এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বাংলাদেশের বিশাল বাজার। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ থেকে ৮ কোটির মধ্যে। মেটার নিজস্ব নীতি অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট খোলার সর্বনিম্ন বয়স ১৩ বছর। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীরাই মোট ব্যবহারকারীর একটি বড় অংশ দখল করে আছে। এর হার প্রায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ।

সেই হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ লাখ কিশোর-কিশোরী সক্রিয়ভাবে ফেসবুক ব্যবহার করছে। এই শিশুদের তথ্যগুলো বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করার ফলে তারা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। তাদের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, চালচলন আর সামাজিক যোগাযোগের সব খুঁটিনাটি তথ্য এই প্ল্যাটফর্মগুলো সারাক্ষণ জমা করে রাখছে। তাই শিশুদের এসব তথ্যের নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি বন্ধ করা এবং তাদের তথ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে শক্তিশালী করার এই পুরো বিষয়টি এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদারককারী সংস্থাগুলোর চোখে, ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সের সীমাটা ধরে রাখার মানে হলো লাখ লাখ কিশোর-কিশোরীর চালচলন, ছবি আর ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর আইনের একটা শক্ত ঢাল থাকা। অন্যদিকে, বয়সের এই সীমা কমিয়ে দিলে কোম্পানিগুলো এক বিশাল সুযোগ পেয়ে যাবে। তখন তারা অনায়াসেই এই অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের পছন্দ-অপছন্দ মেপে তাদের প্রোফাইল বানাতে পারবে, তাদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন পাঠাতে পারবে এবং কোনো বাধা ছাড়াই তাদের তথ্য দিয়ে নিজেদের যন্ত্র বা মেশিন লার্নিংকে আরও তুখোড় করে তুলতে পারবে।

প্রোফাইলিং-নির্ভর অর্থনীতি

গুগল বা মেটার মতো কোম্পানিগুলোর আয়ের আসল চাবিকাঠিই হলো মানুষের ‘ডেটা প্রোফাইল’ বা স্বভাব-চরিত্রের খতিয়ান তৈরি করা। অর্থাৎ, কে কী ছবি দেখছে বা কার আচার-আচরণ কেমন—তা সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে তারা নিজেদের পকেট ভারী করে আর নতুন নতুন সার্ভিস বানায়। এখন আইনের চোখে শিশুর বয়স যদি ১৮ বছর পর্যন্ত ধরা থাকে, তবে এই কিশোর-কিশোরীদের তথ্য ঘাঁটাঘাঁটি করা, তাদের দিয়ে বিজ্ঞাপন থেকে টাকা কামানো কিংবা এআই-কে বুদ্ধিমান করার জন্য তাদের তথ্য ব্যবহার করলে কোম্পানিগুলো বড় ধরনের আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়ে যায়।

আমাদের দেশের পুরোনো আইনগুলোতে শিশুদের নিয়ে করা কন্টেন্ট বা ছবির ওপর আগে থেকেই কড়াকড়ি ছিল। সেক্ষেত্রে এমনকি মা-বাবার অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও আছে। নতুন এই সুরক্ষা আইন বা অধ্যাদেশগুলো সেই সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে তা তদারকি করার সুযোগ করে দিয়েছে। এখনকার সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ব্যবসার মূল মন্ত্রই হলো মানুষের তথ্য খুঁটিয়ে দেখা। কিন্তু এই একই কায়দা যখন অল্পবয়সীদের ওপর খাটানো হয়, তখন তা বড় ধরনের নীতিগত আর আইনি বাধার মুখে পড়ে।

বিশ্বজুড়েই এমন বিপদের অনেক নজির আছে। যেমন—অস্ট্রেলিয়ায় মেটা নিজেই স্বীকার করেছে যে, তারা মানুষের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তাদের এআই-কে বুদ্ধিমান করার কাজে লাগিয়েছে, আর ব্যবহারকারীদের এটা আটকানোর কোনো উপায়ও রাখেনি। এর ফলে ‘মিডজার্নি’র মতো ছবি বানানোর এআই প্রোগ্রামগুলোর ভাণ্ডারে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যও ঢুকে পড়েছে। এমন বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালে এক যুগান্তকারী আইন করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

আমাদের দেশের জন্য এই বিপদটা আরও বেশি। কারণ, ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার কন্টেন্ট তদারকি করা কিংবা বাংলা ভাষার নিজস্ব কোনো এআই ব্যবস্থা তৈরির পেছনে খুব একটা বিনিয়োগ নেই। এর ফলে আমাদের ছেলেমেয়েরা সাইবার হয়রানি আর তথ্য চুরির ঝুঁকির মুখে অনেক বেশি অসহায়।

আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, মেটা বিভিন্ন জায়গায় বারবার কিছু অদ্ভুত দাবি তুলেছে। তাদের দাবি ছিল—সাইবার নিরাপত্তা বা তথ্য সুরক্ষা আইনের মতো আইনগুলো থেকে হ্যাকিং, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁস কিংবা জাতীয় তথ্য চুরির মতো অপরাধের বিচার করার ধারাগুলো যেন বাদ দেওয়া হয়।

‘বাংলাদেশি এপস্টাইন’ সংকট এবং কাঠামোগত ব্যর্থতা

তথ্য সুরক্ষার আইনগুলো যে কতটা দরকারি, তা ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর সাম্প্রতিক এক তদন্তে খুব পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, ফেসবুকে একদল চক্র সুপরিকল্পিতভাবে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য আর আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান করছে। ‘বাংলাদেশি এপস্টাইন কেস’ নামে পরিচিত এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, ফেসবুক বা মেটার বর্তমান নজরদারি ব্যবস্থা আর নীতি-নিয়মগুলো কতটা ব্যর্থ। অস্ট্রেলিয়ার মতো আমাদের দেশেও এই নোংরামি এখন নৈতিকতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

এখানে একটা খটকা থেকেই যায়—শিশুদের বয়স কমানোর জন্য মেটার এই যে বারবার চাপাচাপি, এর পেছনে আসল মতলবটা কী? তারা কি আসলে জুয়া, পর্নোগ্রাফি বা বাচ্চাদের লক্ষ্য করে বানানো আপত্তিকর কন্টেন্টগুলোর ক্ষেত্রে আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে একটা ‘বিশাল ছাড়’ পেতে চাইছে? এমনকি মেটার একজন সাবেক কর্মকর্তা তো এমন দাবিও করেছেন যে, আমাদের মতো দেশগুলো যাতে তাদের ব্যবসার সামনে কোনো আইনি বাধা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তারা প্রচুর টাকা ঢালছে।

আমাদের তথ্য সুরক্ষা আইনটি ইউরোপের জিডিপিআর আইনের ধাঁচেই তৈরি। সেখানে নিয়ম হলো—কারো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে হলে বা তা দিয়ে এআই-কে বুদ্ধিমান বানাতে হলে, ব্যবহারকারীর পরিষ্কার অনুমতি নিতেই হবে। এছাড়া ফেসবুক বা মেটাকে এ দেশে তদারকির পেছনে আরও টাকা খরচ করতে হবে। কারণ বাংলা ভাষার কন্টেন্ট যাচাই করার ব্যবস্থা বর্তমানে খুবই দুর্বল। এর ফলে সাইবার অপরাধের শিকার হয়েও আমাদের দেশের মানুষ কোনো বিচার বা সমাধান পাচ্ছে না।পাশাপাশি আর্থিক জবাবদিহিতার বিষয়টিও রয়েছে। বাংলাদেশে তারা ঠিক কত টাকা আয় করে, সেই প্রশ্ন মেটা দুবার এড়িয়ে গেছে। ছদ্মনামে তথ্য আদান-প্রদান হয়তো নিখরচায় হতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে কোনো কোম্পানি যখন ব্যবসা করে মুনাফা লুটবে, তখন রাষ্ট্র অবশ্যই তার ভাগ হিসেবে কর আর ভ্যাট পাওয়ার দাবি রাখে। এই কোম্পানিগুলো কোন কোন খাত থেকে কত টাকা আয় করছে, তা জানার পুরো অধিকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর আছে।

তাছাড়া তাদের আয়ের হিসাবগুলো আলাদা করে দেখানোও খুব জরুরি। যেমন শিশুদের নিয়ে পর্নোগ্রাফি, গেম, যৌন উত্তেজক কন্টেন্ট কিংবা জুয়া ও বাজির মতো বিষয়গুলো থেকে ঠিক কত টাকা আয় হচ্ছে, তা জানার অধিকার রাষ্ট্রের আছে। এর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, শিশুদের ওপর নজরদারি (প্রোফাইলিং), কন্টেন্ট থেকে আয় এবং শিশুদের তথ্য দিয়ে এআই তৈরির ব্যবসা থেকে কত টাকা আসছে, তারও পরিষ্কার হিসাব থাকা চাই। বিশেষ করে শিশু যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য কন্টেন্ট প্রচার করে এই প্ল্যাটফর্মগুলো কত টাকা কামাচ্ছে, সেই রিপোর্ট অবশ্যই এনবিআর-কে দিতে হবে।

নিজেদের তদবিরের পেছনে পরিষ্কার কোনো কারণ না দেখানোয় এটাই বোঝা যায় যে, মেটা আসলে তাদের দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে মানুষের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি খুঁজছে। আমাদের দেশের বর্তমান আইন ও সাইবার আইনে নাবালকদের নিয়ে যেকোনো আজেবাজে কন্টেন্ট প্রচার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমন অবস্থায় শিশুদের বয়সের সীমা কমিয়ে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টাকে মা-বাবার অনুমতি আর আইনি সুরক্ষাকে ফাঁকি দেওয়ার একটা বড় পাঁয়তারা হিসেবেই দেখতে হবে।

আর্থিক স্বচ্ছতা ও তথ্য সার্বভৌমত্ব

নৈতিকতার প্রশ্নের বাইরেও এই বিতর্কের সাথে দেশের তথ্যের ওপর নিজের অধিকার এবং টাকার হিসাব দেওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। মেটা বাংলাদেশে তাদের আয়ের সঠিক অঙ্কটা সবসময়ই লুকিয়ে রাখতে চায়। আমাদের নতুন পিডিপিও ২০২৫ আইনটি ইউরোপের জিডিপিআর আইনের মতোই শক্তিশালী। এই আইন অনুযায়ী, কারো তথ্য সংগ্রহ বা ব্যবহার করতে হলে তার স্পষ্ট অনুমতি নিতেই হবে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ব্যবসা করার বিষয়টিতেও এই আইন বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ মেপে এই যে ব্যবসার জগৎ বা ‘প্রোফাইলিং অর্থনীতি’, এটি নজরে রাখার পুরো অধিকার রাষ্ট্রের আছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো যদি বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে, তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সেই আয়ের ওপর ন্যায্য কর ও ভ্যাট পাওয়ার দাবি রাখে।

এছাড়া বাংলাদেশ আর মেটার মধ্যে আরও কিছু অমীমাংসিত সমস্যা ঝুলে আছে। যেমন—শিশু নিপীড়ক চক্র আর ভুয়া ‘বট’ নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে মেটা কি আসলেও তাদের নিয়মকানুন ঠিকঠাক কাজে লাগাচ্ছে? ৮ কোটি বাংলাভাষী মানুষের অ্যাকাউন্ট সামলানোর জন্য তারা কি প্রয়োজনীয় লোকবল আর প্রযুক্তি জোগাড় করবে? বাংলাদেশে তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের জন্য তারা কি যথেষ্ট টাকা খরচ করছে? দেশের শান্তি নষ্ট করা বা সহিংসতা উসকে দেওয়ার পেছনে এই প্ল্যাটফর্মের যে দায় আছে, তা কি তারা স্বীকার করবে?

পাশাপাশি আমাদের দেশের আইনে নিষিদ্ধ জুয়া, পর্নোগ্রাফি আর অল্পবয়সীদের জন্য ক্ষতিকর গেমের বিজ্ঞাপন থেকে লাভ করা কি তারা বন্ধ করবে? আর জালিয়াতি চক্রের মিথ্যে ‘কপিরাইট ক্লেইম’ বা স্বত্ব দাবির কারণে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা যে তাদের আয় হারাচ্ছেন (যা নিয়ে এখন সিআইডি তদন্ত করছে)—এই সমস্যার কি কোনো সমাধান দেবে মেটা?

উপসংহার

মেটার মতো বড় কোম্পানির ব্যবসার স্বার্থ আর বাংলাদেশের আইনের এই লড়াই আসলে সারা বিশ্বের মানুষের ডিজিটাল অধিকার রক্ষার লড়াইয়েরই একটি অংশ। দিনশেষে প্রশ্নটি সহজ—রাষ্ট্র কি তার দেশের শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, নাকি বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যবসার কাছে তাদের পরিচয়কে পণ্য হিসেবে বিক্রি হতে দেবে? শিশুর বয়স ১৮ বছর পর্যন্ত রাখাটা কেবল কোনো আইনের মারপ্যাঁচ নয়। এই ডিজিটাল যুগে তা শিশুদের অধিকার এবং দেশের তথ্যের ওপর নিজের অধিকার বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি একটি অপরিহার্য ঢাল।

(লেখক টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক গবেষক এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাবেক বিশেষ সহকারী)

সম্পর্কিত