leadT1ad

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জোরদার হোক সমঝোতার প্রক্রিয়া

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১৯: ৫৮
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, সেটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে যাওয়ার পদক্ষেপ বলেই বিবেচিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে প্ররোচিত করে ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছিল যে ইসরায়েল, সেই দেশটি অবশ্য এর বাইরে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় ইসরায়েল সমঝোতার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে বলে অনেকের শঙ্কা। তবে ৬০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তিপত্রে উপনীত হয়েছে, সেটা অগ্রাহ্য করা ইসরায়েলের পক্ষে কঠিন হবে। অনেকের সঙ্গে আমরাও আশা করব, ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে পড়া যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে তার ঘনিষ্ঠতম মিত্র দেশটিকে সংযত রাখবে।

ইরানে যে যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল, সেটা স্পষ্টতই ছিল অন্যায় যুদ্ধ। এ কারণে বিশ্বের বিবেকবান মানুষের গভীর সহানুভূতি ও সমর্থন পেয়েছে আক্রান্ত ইরান। এমন একটি হামলা মোকাবিলায় তার দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলায় দেশটি নেতৃস্থানীয় অনেককে হারিয়ে এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েও মরণপণ লড়াই চালিয়ে গিয়ে শেষে কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে।

বিশ্ববাণিজ্যের জন্য জরুরি নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতাও তার লক্ষ্য অর্জনকে সহজ করে দেয়। এর প্রভাব পড়ে জ্বালানি তেল, সার ও ভোগ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররাও শিকার হয় মূল্যস্ফীতির। যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের দুই যুদ্ধবাজ নেতা নিজ দেশেও চাপে পড়েন ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায়। নিজ দেশে নিকট ভবিষ্যতেই তাদের মোকাবিলা করতে হবে নির্বাচন। এ অবস্থাতেই ইরানের দাবিদাওয়ার অনেকখানি মেনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সমঝোতায় যেতে হয়েছে বলে মনে হয়।

সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি মুক্ত হলে সেখান দিয়ে জ্বালানিসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যসামগ্রী আগেকার মতো পরিবাহিত হতে পারবে। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য সেটা হবে বড় ইতিবাচক ঘটনা। জ্বালানি আমদানির ওপর বিপুলভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশও এতে উপকৃত হবে। তেল, এলএনজি ও সার উৎপাদনকারী দেশগুলো এর সুফল পাবে। এ জন্য অবশ্য হরমুজ থেকে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণের কাজ সুসম্পন্ন হতে হবে। ইরান সমর্থিত হুতি মিলিশিয়াদের হাতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অপর নৌপথটি সংকটে পড়ার শঙ্কাও এখন কমবে। ইরানের ওপর বহুদিন ধরে আরোপিত বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেলসহ নিজেদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে স্বাভাবিক ব্যবসায় প্রবেশ করতে পারবে দেশটি। বাংলাদেশও চাইলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারবে। এমনিতে ইরানের সঙ্গে আমাদের রয়েছে সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক।

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক থেকে কোন পক্ষ কতটা লাভবান হবে, সে আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ধারা জোরদার হওয়ার বিষয়েও প্রত্যাশা বাড়বে। ইরানে হামলার আগে গাজায় ইসরায়েল যে আচরণ করেছে, তার ক্ষমা হয় না। ইরান যুদ্ধের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও ইসরায়েলকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে সংযত করা গেলে সেটা হবে বড় কাজ। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় নতুন উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পারলে সেটাও হবে বড় প্রাপ্তি। সমঝোতার প্রক্রিয়া শেষে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিরও পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন। আমাদের আশা, ইরান যুদ্ধের বিষময় অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে লেবানন, গাজাসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ধারা জোরদার হবে। এতে বিশ্বের শান্তিকামী সব মানুষই অনুভব করবে স্বস্তি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত