মুসলিমা জাহান সেতু

শ্রদ্ধেয় মন্ত্রী
আমার বাসা শেওড়াপাড়া। মেয়েকে নিয়ে ঈদ করতে বরিশালের গৌরনদী যাব। দিগন্ত পরিবহন নামের একটা বাস মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে শেওড়াপাড়া হয়ে বরিশাল যায়। গাড়ির মান মোটামুটি হলেও ঝামেলা এড়াতে ১৩ তারিখে ৫৫০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা দিয়ে মেয়ে আর নিজের জন্য দুটো টিকিট কাটি।
ভোগান্তি ১: এখানে দুটো টিকিটে বাড়তি গুনতে হয় ৯০০ টাকা
১৭ তারিখে যাত্রা। ভোর সাড়ে পাঁচটায় ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি, শেওড়াপাড়া গাড়ি কখন আসবে? আক্কাস নামের কাউন্টারের লোক জানান, ছয়টার মধ্যে যেন মেট্রোরেলের ৩০৫ নম্বর পিলারের কাছে উপস্থিত থাকি।
চার-চারটা ব্যাগ আর মেয়ে নিয়ে ছটার আগে নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াই। গাড়ি আর আসে না। ‘এই আসি’ বলে বলে সাড়ে সাতটা বেজে যায়। ৩ বছর ৯ মাস বয়সী একটা মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কী কষ্টের, সেটা লিখে বোঝানো মুশকিল।
অতপর গাড়ি আসে। কিন্তু দিগন্ত পরিবহণ না। সিটি বাস সার্ভিসের আলিফ গাড়ি। এতো ছোট বাস, যেটার দূরপাল্লার যাত্রার অনুমতি নেই, তাতে ছোট বাচ্চা নিয়ে যেতে আপত্তি করি। বড় বাসের ব্যবস্থা করতে বলি। বাস কর্তৃপক্ষ মানে না। পরে কয়েকযাত্রী এবং স্থানীয় কয়েকজন বাস আটকে রাখলে অবশেষে সকাল ৯টায় পদ্মা পরিবহণ নামে একটা বাস আসে।
ভোগান্তি ২: এখানে অলরেডি আমাদের তিন ঘণ্টা নষ্ট হয়েছে
গাড়ি চলার কিছুক্ষণ পরেই পল্টন মোড়ে সার্জেন্ট গাড়ি আটকায়। কারণ ঠিক জানি না। তবে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নিয়েছিল। মেয়েকে সামলাতে ব্যস্ত ছিলাম। ঢাকা থেকে গাড়ি বের হবার আগেই দিগন্ত পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে সব টিকিটের কপি সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আমি জোর করে আমার কপি রেখেছি।
যা-ই হোক, গাড়ি ভালোই চলছিল। পদ্মা সেতু পার হতেই বিকট শব্দ। ভয়ে মেয়েকে বুকে আঁকড়ে নিয়ে কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পরে দেখি বাস সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দিয়েছে। পেছনের চাকা ফেটে গেছে, মালামাল রাখার বক্স ভেঙে গেছে। এক-দেড় ঘণ্টা ধরে সেসব ঠিক করা হয়।
ভোগান্তি ৩: বড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলাম
ভোগান্তি ৪: রাস্তার মধ্যে বাচ্চা নিয়ে দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়েছিলাম
রোদে-ক্ষুধায় তখন বাসের সব বাচ্চাই কাতর। আবার যাত্রা শুরু হলো। ভাঙা পার হয়ে তেল নিতে বাস পাম্পে যায়। সেখানে আবার সামনের চাকা পাংচার হয়। সেটা ঠিক করতে করতে বেলা প্রায় তিনটা হয়ে যায়। আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে চেয়ে আর সাদকা মানত করে চারটার পরে গন্তব্যে আসি। সবাই বলাবলি করছিল যে ডিপো থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য এমন অবস্থা। না হয় এক যাত্রায় দুইবার চাকা পাংচারের ঘটনা হতো না।
ততক্ষণে আমার মেয়ে ক্ষুধায় কাহিল। শেওড়াপাড়া থেকে গৌরনদী পৌছতে আড়াই-তিন ঘণ্টা লাগে বিধায় খুব বেশি খাবার সঙ্গে ছিলো না। বাধ্য হয়ে মেয়েকে রাস্তার খোলা খাবার না দিয়ে আইসক্রিম কিনে দিই। আমার মেয়ে ঠান্ডা খাবার খেতে পারে না। ফলে ওর বুকে কফ বসে গেছে। নাক দিয়ে সর্দি পড়ছে।
ভোগান্তি ৫: মেয়ে এখন অসুস্থ। ঘেমে আমারও বুকে কফ জমেছে।
মন্ত্রী সাহেব, আমার ঈদ যাত্রা অথবা ভোগান্তি বিস্তারিত লিখলাম। সব প্রমাণাদি দিলাম। এবার দেখতে চাই কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমি সত্যি দেখতে চাই। আরও কোনো প্রমাণ দরকার হলে সরবরাহ করা যাবে।
নিবেদক
মুসলিমা জাহান সেতু, এক শিশুর মা

শ্রদ্ধেয় মন্ত্রী
আমার বাসা শেওড়াপাড়া। মেয়েকে নিয়ে ঈদ করতে বরিশালের গৌরনদী যাব। দিগন্ত পরিবহন নামের একটা বাস মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে শেওড়াপাড়া হয়ে বরিশাল যায়। গাড়ির মান মোটামুটি হলেও ঝামেলা এড়াতে ১৩ তারিখে ৫৫০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা দিয়ে মেয়ে আর নিজের জন্য দুটো টিকিট কাটি।
ভোগান্তি ১: এখানে দুটো টিকিটে বাড়তি গুনতে হয় ৯০০ টাকা
১৭ তারিখে যাত্রা। ভোর সাড়ে পাঁচটায় ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি, শেওড়াপাড়া গাড়ি কখন আসবে? আক্কাস নামের কাউন্টারের লোক জানান, ছয়টার মধ্যে যেন মেট্রোরেলের ৩০৫ নম্বর পিলারের কাছে উপস্থিত থাকি।
চার-চারটা ব্যাগ আর মেয়ে নিয়ে ছটার আগে নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াই। গাড়ি আর আসে না। ‘এই আসি’ বলে বলে সাড়ে সাতটা বেজে যায়। ৩ বছর ৯ মাস বয়সী একটা মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কী কষ্টের, সেটা লিখে বোঝানো মুশকিল।
অতপর গাড়ি আসে। কিন্তু দিগন্ত পরিবহণ না। সিটি বাস সার্ভিসের আলিফ গাড়ি। এতো ছোট বাস, যেটার দূরপাল্লার যাত্রার অনুমতি নেই, তাতে ছোট বাচ্চা নিয়ে যেতে আপত্তি করি। বড় বাসের ব্যবস্থা করতে বলি। বাস কর্তৃপক্ষ মানে না। পরে কয়েকযাত্রী এবং স্থানীয় কয়েকজন বাস আটকে রাখলে অবশেষে সকাল ৯টায় পদ্মা পরিবহণ নামে একটা বাস আসে।
ভোগান্তি ২: এখানে অলরেডি আমাদের তিন ঘণ্টা নষ্ট হয়েছে
গাড়ি চলার কিছুক্ষণ পরেই পল্টন মোড়ে সার্জেন্ট গাড়ি আটকায়। কারণ ঠিক জানি না। তবে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নিয়েছিল। মেয়েকে সামলাতে ব্যস্ত ছিলাম। ঢাকা থেকে গাড়ি বের হবার আগেই দিগন্ত পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে সব টিকিটের কপি সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আমি জোর করে আমার কপি রেখেছি।
যা-ই হোক, গাড়ি ভালোই চলছিল। পদ্মা সেতু পার হতেই বিকট শব্দ। ভয়ে মেয়েকে বুকে আঁকড়ে নিয়ে কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পরে দেখি বাস সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দিয়েছে। পেছনের চাকা ফেটে গেছে, মালামাল রাখার বক্স ভেঙে গেছে। এক-দেড় ঘণ্টা ধরে সেসব ঠিক করা হয়।
ভোগান্তি ৩: বড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলাম
ভোগান্তি ৪: রাস্তার মধ্যে বাচ্চা নিয়ে দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়েছিলাম
রোদে-ক্ষুধায় তখন বাসের সব বাচ্চাই কাতর। আবার যাত্রা শুরু হলো। ভাঙা পার হয়ে তেল নিতে বাস পাম্পে যায়। সেখানে আবার সামনের চাকা পাংচার হয়। সেটা ঠিক করতে করতে বেলা প্রায় তিনটা হয়ে যায়। আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে চেয়ে আর সাদকা মানত করে চারটার পরে গন্তব্যে আসি। সবাই বলাবলি করছিল যে ডিপো থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য এমন অবস্থা। না হয় এক যাত্রায় দুইবার চাকা পাংচারের ঘটনা হতো না।
ততক্ষণে আমার মেয়ে ক্ষুধায় কাহিল। শেওড়াপাড়া থেকে গৌরনদী পৌছতে আড়াই-তিন ঘণ্টা লাগে বিধায় খুব বেশি খাবার সঙ্গে ছিলো না। বাধ্য হয়ে মেয়েকে রাস্তার খোলা খাবার না দিয়ে আইসক্রিম কিনে দিই। আমার মেয়ে ঠান্ডা খাবার খেতে পারে না। ফলে ওর বুকে কফ বসে গেছে। নাক দিয়ে সর্দি পড়ছে।
ভোগান্তি ৫: মেয়ে এখন অসুস্থ। ঘেমে আমারও বুকে কফ জমেছে।
মন্ত্রী সাহেব, আমার ঈদ যাত্রা অথবা ভোগান্তি বিস্তারিত লিখলাম। সব প্রমাণাদি দিলাম। এবার দেখতে চাই কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমি সত্যি দেখতে চাই। আরও কোনো প্রমাণ দরকার হলে সরবরাহ করা যাবে।
নিবেদক
মুসলিমা জাহান সেতু, এক শিশুর মা
.png)

ময়মনসিংহের ত্রিশালের একটি বালুমহাল। সেখানকার অস্থায়ী টিনের কার্যালয়ে বসে কাজ করছিলেন ইজারাদারের এক কর্মচারী। হঠাৎ সেখানে দলবল নিয়ে প্রবেশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন আকস্মিক প্রবেশে কিছুটা ভড়কে যান ওই কর্মচারী।
১৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা যেন দিন দিন একটি মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে এই শহর। প্রতিদিনের নাগরিক জীবনের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার নাম এখন যানজট। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, ব্যবসায়ী—কেউই এর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
০৯ আগস্ট ২০২৬
ডন জেত্রার সঙ্গে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা হলো। আবারও হ্যান্ডশেকটা ঠিকঠাক হলো না। কারণ ‘আদিবাসী’ এই টগবগে তরুণ তাঁর ডান হাত ভাঁজ করতে পারেন না। কোনোদিন পারবেন কি না, জানা নেই। সহযোদ্ধা রূপাইয়া তঞ্চঙ্গ্যাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর হাতের এই হাল।
০৯ আগস্ট ২০২৬
২২ জুলাই ২০২৪। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত উত্তপ্ত। প্রতিদিনই আহত ও নিহতের সংবাদ সবাইকে গভীরভাবে ব্যথিত করছিল। সেদিন আমি জানতাম না পরবর্তী দুই সপ্তাহে কী ঘটতে যাচ্ছে। আমি জানতাম না রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিণতি কী হবে।
০৫ আগস্ট ২০২৬