জুলাই ছাড়া বিএনপি ক্ষমতার তাপ পেত না: ডা. শফিকুর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে, মানুষ জীবন না দিলে বিএনপি ক্ষমতার তাপ উপভোগ করতে পারত না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন, বিপ্লবের কারণে স্বদেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিপ্লব না হলে তারা দেশে ফিরে আসার চিন্তা পর্যন্ত করতে পারতেন না।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে এই সমাবেশ করা হয়।

বিএনপিকে জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তারা জুলাই ভুলে গেছে। তারা আসলে আগেই ভুলে গিয়েছিল। শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল, তখন ছুটে গিয়ে দেওয়ার সময় তাদের ছিল না। তারা ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুদিন পরে নির্বাচনের দাবি তুলে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, সুশাসন কায়েমের জন্য রাষ্ট্রের মৌলিক যেসব জায়গায় পরিবর্তন করা দরকার, প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচি, নির্বাচনী ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে। তারা যে বিরোধিতা করছে, সেই জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুটি ভোট হয়েছে। একটি তাদের পক্ষে গেছে, মেনে নিয়েছে। আরেকটি ভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি তারা মানে না। এটা লজ্জার। ৭০ শতাংশ ভোটের রায় যেদিন বাস্তবায়ন হবে, সেদিন দেশ থেকে সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।

তিনি বলেন, এখন কেউ কেউ দাবি করে অমুক আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড, অমুকের নেতৃত্বে এই আন্দোলন সফল হয়েছে। এগুলো সব ভুয়া। আমরা কারও ন্যায্য অবদানকে কখনো অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ভিড়তে পারিনি। আমাদের তরী সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়কেরা এই তরী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে, ভালোবাসতে শিখুন। তাদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না।

যে অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদী শাসনের পরিবর্তন হবে না, সেগুলো আগের স্বৈরাচারী সরকারের মতো রাখার পক্ষে বিএনপি অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সেই আওয়ামী লীগ, যারা জাতিকে নিয়ে, বিরোধী দল নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত, আজ তারা কোথায়? এখন বিএনপিও একই কাজ শুরু করেছে।

নেতাকর্মীর উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি এখান থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে মানুষের আইনি আশ্রয়ের জায়গা থানা, তার ভেতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করা হয়েছে। নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার ওপরে হামলা হয়েছে। এটি কোন বাংলাদেশ? এই বাংলাদেশ কি আপনারা চেয়েছিলেন? সন্তানদের আবার পায়ের গোড়ালি দুই টুকরা করা হোক, আপনারা চেয়েছেন? আপনাদের সন্তানদের ওপর প্রকাশ্যে দা-কিরিচ, কুড়াল আর হেলমেট দিয়ে আঘাত করা হোক, আপনারা চেয়েছিলেন? এই বাংলাদেশকে আমরা ধিক্কার জানাই। এই বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে আমরা খাতা-কলম দেখতে চাই। আমাদের সন্তানদের ওপর ছড়ি ঘুরাক– এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য দেন মিকদাদ হোসেন খান আকিবের বাবা দেলোয়ার হোসেন, শহীদ সৈয়দ মুনতাসীর রহমান আলিফের বাবা গাজিউর রহমান, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, শহীদ ফয়সাল আহমদের বাবা জাকির হোসেন, শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন, শহীদ জোবায়ের ওমর খানের বাবা জাহাঙ্গীর আহমেদ খান, আহত জুলাইযোদ্ধা রেসালাত বিন নাঈম ও কামরুল হাসান।

শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রোকেয়া বেগম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দাবি। সংসদে গিয়ে আমি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলব। জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সমস্যাগুলো তুলে ধরব।

শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম জানান, জুলাই সনদের দাড়ি, কমাসহ বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। যে সংবিধান ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়, মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়, সেই সংবিধান তারা চান না।

গণঅভ্যুত্থানে হাত হারানো আতিকুল ইসলাম বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের গণরায়কে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই রায়কে গলা টিপে হত্যা করতে চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হবে। শেখ হাসিনা পালানোর পথ পেয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে এবার সেই সুযোগও থাকবে না।

সমাবেশে সমাবেশে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

সম্পর্কিত