১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ০৮
আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে আনা সংস্কার প্রস্তাব উপেক্ষা এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী শনিবার (৪ তারিখ) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে জোটের নেতাকর্মীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গুলশানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বাসভবনে ১১ দলের এক জরুরি বৈঠক শেষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে দেনদরবার এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমাদের এই ঐক্য। বর্তমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসক বসিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে অপচেষ্টা সরকার করছে, তা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলাম। কিন্তু সরকার প্রথমে তা গ্রহণ করতে চায়নি। তারা সংস্কারের বদলে রুটিন কাজ হিসেবে সংবিধান সংশোধনী করতে চায়, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। আমরা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন ডাকার দাবি জানাচ্ছি।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ পরিচালনায় সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট থাকলেও সরকার সংসদে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। তেলের অভাবে স্কুল অনলাইন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মেধাশূন্য করার একটি পাঁয়তারা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে; প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। জনগণের সার্বভৌম অধিকার ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।’

আগামী শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছাড়াও জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৭ এপ্রিল পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে শীর্ষ পর্যায়ের আরও একটি বৈঠক হবে। এরপর দেশব্যাপী গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে।

সম্পর্কিত