সরকার জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে: চরমোনাই পীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৫৯
বক্তৃতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। সংগৃহীত ছবি

জনগণ জুলাই-পরবর্তী সময়ে যাদের হাতে দেশের ক্ষমতা দিয়েছে, তারা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তার মতে, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অনীহা প্রমাণ করেছে যে তারা দেশের জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘ভালো নেতা ও ভালো নীতি ছাড়া জাতির মুক্তি নেই। ভালো নেতা ও নীতির সমন্বয় না হলে দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বপ্ন কোনো দিন বাস্তবায়ন হবে না। দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক দূর করার জন্য ইসলামের শ্রেষ্ঠ আদর্শের বিকল্প নেই।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কালো বর্ণের লোকের নাম সাদা মিয়া রাখলে যেমন সে সাদা হয়ে যায় না, তেমনি ইসলামের নাম দিয়ে অনৈতিকতা, উচ্ছৃঙ্খলতা ও ধোঁকাবাজি করলে তা ইসলাম হয়ে যায় না। বরং ইসলামের নামে বিজাতীয় সংস্কৃতি, অনৈতিকতা ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড করা হলে তাতে ইসলাম কলঙ্কিত হয়।’

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও সহকারী মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম। প্রধান বক্তা ছিলেন যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা উত্তর করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ আতিকুর রহমান মুজাহিদ।

বিশেষ অভিনব ও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুর উদ্দিন আহমেদ অপু বলেছেন, এ দেশে চাঁদাবাজি নির্মূল করা যাবে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারকে মানুষ ক্ষমতায় এনেছে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য। যদি তাতেই তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকারের কাজটা কী?’

তিনি আরও বলেন, এই সরকার বলেছিল এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন মিল-কারখানা বন্ধ করে দিয়ে তারা কর্মসংস্থান সংকুচিত করছে।

মহাসচিব আরও বলেন, ‘বর্তমানে সংসদে কার্যকরী কোনো বিরোধী দল নেই। জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা সরকারের তল্পিবাহকে পরিণত হয়েছেন। তারা সংসদে কুসুম কুসুম বিরোধিতা করেন, কিন্তু জনগণের স্বার্থে কথা বলেন না। সংসদে অনেক অপ্রয়োজনীয় আলোচনা হয় কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে শক্ত অবস্থানে নেই বিরোধী দল। তবে মাঠের বিরোধী দল হিসেবে আমরা কার্যকরী ভূমিকা পালন করব ইনশাআল্লাহ।’

সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, ‘একটি দল ইসলামের নাম দিয়ে যে কর্মকাণ্ড করছে, তাতে ইসলামের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আমরা তাদের আহ্বান জানাই, সঠিক ইসলামের চর্চা করুন। ইসলামের নামে মনগড়া মতবাদের চর্চা বন্ধ করুন।’

আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, ‘ইসলামী যুব আন্দোলনের কর্মীরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক জনশক্তি। জুলাইয়ে যুব আন্দোলন জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদকে রুখে দাঁড়িয়েছিল।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত