স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৬: ৪২
স্ট্রিম গ্রাফিক

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল গোছাচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচনে দলটি একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় নেতাদের দলের পদ অথবা জনপ্রতিনিধি– দুটির যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে।

গত শনিবার (২৫ জুলাই) বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর জেলা, মহানগর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে রংপুর বিভাগের অন্য তিন জেলা– দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের নেতাদের সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। তৃণমূল সুসংগঠিত, গতিশীল ও শক্তিশালী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে বাকি জেলার নেতাদের সঙ্গেও বসবেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অর্ধ শতাধিক আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রসঙ্গ আনেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সব ধরনের কোন্দল ও বিভক্তি ঝেড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। দলীয় প্রতীক না থাকলেও প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই কাজ করেন, তা নিশ্চিত করতে তৃণমূল নেতাদের প্রতিও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির নেতারা জানান, ইউনিয়ন নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব উপজেলা কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার অধীনে থাকা বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের মতামত ও জনপ্রিয়তাকে প্রার্থিতার মানদণ্ড করতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হলে জেলা কমিটির সাহায্য নিতে হবে। সেখানেও সুরাহা না হলে কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। যেকোনো মূল্যে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে হবে।

জানতে চাইলে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ স্ট্রিমকে বলেন, স্থানীয় রাজনীতির নানা কৌশল থাকে। একেক জায়গায় একেক কৌশল কাজে লাগে। একক প্রার্থী বাছাইয়ে আমরা সেসব কৌশল কাজে লাগাব। নিজেদের মধ্যে আলোচনা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দলীয় প্রধান আমাদের দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে আমরা ইমেজ, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নেব। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন– দল এবং সরকার যেন একাকার হয়ে না যায়। আমরা ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করছি।

দলীয় পদ অথবা জনপ্রতিনিধির চেয়ার

তৃণমূলের রাজনীতিতে দলের পাশাপাশি অঞ্চল, গোষ্ঠী, পরিবার, পরিচিতিসহ নানা ফ্যাক্টর কাজ করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনীতিতে বড় অংশ প্রভাবশালী পরিবার থেকে আসা। ফলে অনেক সময় দল বা কেন্দ্র থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরই জেরে অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই বৈঠকে উপস্থিত তিন নেতা স্ট্রিমকে জানান, ইউনিয়ন, পৌরসভা বা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য বিদ্রোহী ঠেকাতে এবার নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকার ও দলকে আলাদা রাখা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটের শীর্ষ দলীয় পদ কিংবা নির্বাচনের প্রার্থী– যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে, সেই পথ এবার বন্ধ। আমাদের চেয়ারম্যান স্পষ্ট বলেছেন– ‘প্রশাসনকে প্রভাবিত করা যাবে না। আমাদের জনগণের কাছে গিয়ে তাদের ভালোবাসা নিয়ে ভোটে জয়লাভ করতে হবে’। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলব।

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে গেলে অন্য কিছু কাজ করে না। মানুষ নির্বাচনমুখী হলে, তাদের আটকানো কঠিন। আমরা একক প্রার্থী নিশ্চিতে এবার কঠোর। আশা করছি, শেষ পর্যন্ত সফল হব।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত