সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশ। সংগৃহীত ছবি

সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে মিছিল করেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। পরে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সমাবেশে শেষ হয়।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল জাবের সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের

দাবি জানান। এই দাবি আদায়ে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি।

এর আগে বেলা ৩টা থেকে শাহবাগ মোড়ে ‘জুলাইয়ের জজবা জমায়েত’ নামে কর্মসূচি করছিল ইনকিলাব মঞ্চ। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বিকেলে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবরে তাৎক্ষণিকভাবে মিছিল করা হয়।

সমাবেশে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘শেখ হাসিনার গুম-খুনকে বৈধতা দিয়েছেন সাহাবুদ্দিন। ৫ আগস্টের পর তাঁকে অপসারণ করে বিচারের দাবি জানানো হলেও, বিএনপি অগ্রাহ্য করেছে। আমরা চাই, তাঁর বিচার করা হোক। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।’

সাহাবুদ্দিনকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ এবং ‘ফ্যাসিস্ট’ শেখ হাসিনার সহযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাহাবুদ্দিন ২০২৪ সালের গণ্যঅভুত্থানে শহীদদের মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারবেন না। তাঁর নীরবতার কারণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন দিন আরও বেশি ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির নীরবতার কারণেই দেশে ডামি নির্বাচন হয়েছে।’

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মোহাম্মদ উমায়ের স্ট্রিমকে বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতির কারণে দেশে ডামি নির্বাচন হয়েছে। তিনি দেশের প্রধান দায়িত্বশীলদের একজন হয়েও হাসিনার গুম-খুনের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি।’ ইনকিলাব মঞ্চ মামলা করবে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের কাজ মামলা করা না। আমরা সবার আগে তাঁর বিচার দাবিতে প্রতিবাদ জানালাম। এখন দেশে নির্বাচিত সরকার আছে। তাদের কাছে আমাদের দাবি, ফ্যাসিস্টের এই দোসরকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’

মোহসেন হাসান নামের বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় এই লোক ফ্যাসিস্ট হাসিনার পায়ের ধুলো নিতে চাইতেন। তাঁকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গণ্যঅভ্যুত্থানের পর দেখেছি অনেকেই সেইফ এক্সিট পেয়েছেন। এই খুনি যেন সেই সুযোগ না পান, তাঁর যেন বিচার হয়, সরকারের কাছে আমাদের দাবি একটাই।’

মিছিলে রাকসুর জিএস সালাহ উদ্দিন আম্মারসহ ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ যথেষ্ঠ নয়, বিচার করতে হবে: মামুনুল হক

সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ যথেষ্ঠ নয়; তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শুক্রবার দলের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে একথা জানান তিনি।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে মানুষ স্বস্তি অনুভব করছে জানিয়ে নেতারা বলেন, শুধু পদত্যাগের মাধ্যমে তাঁর দায় শেষ হয়ে যায় না। তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে উত্থাপিত সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

তাঁরা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার, সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার এবং জনগণের অধিকার হরণে জড়িত সব ব্যক্তি ও সহযোগীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ধারাবাহিকভাবে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল।

এতে বলা হয়, সে সময় বিএনপি দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি, বরং তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আজ বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের পর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে– এই পদত্যাগের পেছনে কেবল নীতিগত কারণ কাজ করেছে, নাকি এর সঙ্গে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও জড়িত।

খেলাফত মজলিসের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে সাহাবুদ্দিন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। একদিকে তিনি পদত্যাগপত্র না পাওয়ার কথা বলেছেন। পরে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে এমন স্ববিরোধী বক্তব্য তাঁর নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

তাঁরা বলেন, সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচারিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের মানুষ কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা গোপন সমীকরণ নয়, বরং ন্যায়বিচার চায়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত