অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনাই লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৩: ০৯
রাজধানীর একটি হোটেলে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্ট্রিম ছবি

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে দেশ সংকটময় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য প্রকৃত সমস্যা তৈরি করেছে। এ ছাড়া বিগত দিনে লুণ্ঠন ও অর্থপাচারের কারণে দেশ এখন টিকে থাকার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এখন তাদের প্রধান কাজ অর্থনৈতিক অবস্থা সুশৃঙ্খল করা এবং রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা।

দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির উপযোগী উপায়ে সংবিধান সংশোধনে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলগুলো ইতোমধ্যে জুলাই সনদে সই করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা।

দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যাপক বেকারত্ব সমস্যা রয়েছে। বিনিয়োগের অভাব এবং ব্যাংকিং খাত প্রায় ধ্বংসের মুখে। চ্যালেঞ্জ অনেক হলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড, ইমাম-পুরোহিত ও গির্জার ফাদারদের ভাতা, খাল খনন কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো ইতোমধ্যে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

বিএনপি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ চায় জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই লক্ষ্যেই সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সাঁওতাল, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তারা একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সহনশীল ও লড়াকু। আমি বিশ্বাস করি, এই লড়াকু জনতা একটি শোষণমুক্ত নতুন সমাজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’

সেমিনারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক পরিবর্তন, অর্থনীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নীতিগত করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত