ফায়েজুর সৈকত

কী যে একটা টাইম কাটাইতেছি আমরা! সারা দুনিয়ায় যুদ্ধ লাইগা আছে। ইভেন কি যারা সরাসরি যুদ্ধ করতেছে না, তারাও শান্তিতে নাই। এক ধরনের ক্রনিক টেনশনে আছে কখন কার মিসাইল ঘাড়ে আইসা পড়ে!
ঠিক এইরকম একটা পিওর ওয়ার টাইমে পল থমাস অ্যান্ডারসন (ওরফে পিটিএ) বানাইলেন ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। ফিল্মটা দেখার সময় একটা রিয়েল লাইফ ওয়ার ফিলিং পাইলাম। অলটাইম একটা অস্থিরতা, অথচ আমরা হাত-পা শক্ত কইরা একদম নাম্ব হইয়া থাকি। ফিল্মের নামটাও খুব ইন্টারেস্টিং ! ফাইটের পরে আবার ফাইট। রিসেন্ট ওয়ার্ল্ড পলিটিক্সের সাথে এর চেয়ে রেলিভেন্ট আর কিছু হইতে পারে না। অন্তত ইউএস আর তার ভাই-ব্রাদারদের কাছে এটা ফেভারিট হওয়ারই কথা!

১৬ মার্চ ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতছে ছবিটা। সেরা ডিরেক্টরের পুরস্কার বগলদাবা করছেন দ্য গ্রেট পিটিএ। এরপর থিকাই মনে হইতেছিল কেন একজন মুভি লাভারের জন্য এই সিনেমাটা মাস্ট ওয়াচ। চলেন লেখাটা পড়তে পড়তে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ট্রাই করি।
এইটা আমাদের নাম্ব রিয়েলিটির গল্প
পল থমাস অ্যান্ডারসনের ফিল্ম জেনারেলি শুধু গল্পকেন্দ্রিক হয় না; বরং একটা টাইম, সেই টাইমের মেন্টালিটি আর একটা পলিটিকাল সিচুয়েশন তৈরি করে। এখানেও তিনি সেইটা করেছেন। ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ শুরুর দিকে লাগে একটা অ্যাকশন-থ্রিলার বা ব্ল্যাক কমেডি টাইপের ফিল্ম, কিন্তু আরেকটু আগাইলে বোঝা যায় এইটা মূলত পাওয়ার, আইডিওলজি, ভায়োলেন্স আর মানুষের ভেতরের কনফ্লিক্টের গল্প।
আমরা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বা টিভিতে যুদ্ধের খবর দেখি, হাজার হাজার মাইল দূরে মিসাইল পড়ার, মানুষ মরার গল্প শুনি আমরা তখন কী করি? আসলে কিছুই করতে পারি না। এক ধরনের হেল্পলেসনেস থেকে আমরা হাত-পা শক্ত করে বইসা থাকি, যেনোবা আমাদের ফিলিংসগুলা ভোঁতা বা নাম্ব হয়া গেছে। এই যে আমরা সবাই একটা নাম্ব রিয়েলিটির ভেতর দিয়ে যাইতেছি, আমাদের এই নাম্ব রিয়েলিটির গল্পটাই পিটিএ এই ফিল্মের থ্রুতে পর্দায় তুইলা ধরার ট্রাই করছেন।

পিটিএর ক্যারেক্টারেরা অলওয়েজ এই অস্থিরতার ভেতরে থাকে। এই সিনেমার মেইন ক্যারেক্টার বব ফার্গুসন (লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও) সারাক্ষণ একটা সারভেইল্যান্স ট্রমাতে ডরে অস্থির হয়ে থাকে। তার এই ব্যক্তিগত টেনশনটা কি আসলে দুনিয়া জুইড়া আমাদের সবার না? বব ফার্গুসন এক সময় বিপ্লবী ছিল, এখন সে আন্ডারগ্রাউন্ডে। তার প্রতিটা মুভমেন্ট, সিক্রেট কোড ইউজ করা– সবকিছুর ভেতরে এক ধরনের ডেসপারেশন আছে।
আপনে আমি যে সারাদিন ফোনের স্ক্রিনে যুদ্ধের খবর দেইখা নাম্ব হয়ে থাকি, আমাদের ভেতরের ঐ অস্থিরতাটারে এই ফিল্মে রিপ্রেজেন্ট করতেছে প্রটাগনিস্ট বব ফার্গুসন। ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ দেইখা মনে হইছে বর্তমান দুনিয়াটা যেন আসলে একটা মস্ত বড় মেইজ, আর আমরা সবাই পাগলের মতো দৌড়াইতেছি। কেন? জাস্ট একটু টিকে থাকার জন্য।
পার্সোনাল লাইফে পলিটিক্সের অ্যাগ্রেশন
এই সিনেমাটার আরেকটা পয়েন্ট হইতেছে এর পলিটিক্যাল প্যারাডক্স। আমরা মনে করি রাজনীতি বা যুদ্ধ মানে বর্ডারের কাহিনি, কিন্তু পিটিএ দেখাইছেন এটা কীভাবে আপনার ঘরের ড্রয়িংরুম, এমনকি আপনার সন্তানের মেন্টালিটি পর্যন্ত দখল কইরা নেয়।
বব ফার্গুসন এক সময় রেজিম চেঞ্জ করতে চাইছিলো, বিপ্লব করতে চাইছিল। সেই প্রজেক্ট ফেইল করার পর সে এখন তার মেয়েরে নিয়া আন্ডারগ্রাউন্ডে। সে তার মেয়েরে সারাক্ষণ কন্ট্রোলে রাখে, সিক্রেট কোড শেখায় – যাতে সে এই সিস্টেমের ভেতর সারভাইভ করতে পারে। সে তার মেয়েরে একটা দক্ষ মেইজ রানার বানাইতে চায়। কিন্তু ট্র্যাজেডিটা খেয়াল করেন! সিস্টেমের হাত থেকে বাঁচাইতে গিয়া বব নিজেই তার মেয়ের ওপর আরেকটা ছোটখাটো ডিক্টেটরশিপ চাপায়া দিতেছে।
এখানেই মুভিটা একটা ভয়ংকর প্রশ্ন তোলে। বাবার পাস্ট ডিফিট আর ট্রমা কি মেয়ের বর্তমানরে নিয়ন্ত্রণ করার লাইসেন্স দেয়? ববের মাইয়া বাপের এই সেইফ প্রিজন ভাইঙ্গা নিজের মতো স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়, লুকায়ে ফোন চালায় আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চায় – যা তারে শেষ পর্যন্ত বিপদে ফেলে।
দুনিয়াতে যখন বড় বড় পলিটিকাল কনফ্লিক্ট হয়, তার সবচেয়ে বড় হিসাবটা আম পাবলিকরে চুকাইতে হয় তাদের পার্সোনাল লাইফ দিয়া। আপনার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা, আপনার সন্তানের শৈশব – সবকিছুই রাষ্ট্রের ক্ষমতা আর প্রতিশোধের রাজনীতির মেইজে আটকা পইড়া যায়। পিটিএ এই লেয়ারটা এত ক্রুয়েলভাবে দেখাইছেন যে, আপনি ভাবতে বাধ্য হইবেন – আপনি কি আসলেই আপনার জীবনের ডিসিশন নিতেছেন, নাকি কোনো এক অদৃশ্য যুদ্ধের মেইজে আটকা পইড়া আছেন?
পাওয়ারের ক্রুয়েলিটি আর বিপ্লবের স্কার
এই ফিল্মের আরও দুইটা ক্যারেক্টার নিয়া আলাপ করতে চাই। তাদের একজন কর্নেল লকজো (শন পেন) । লকজো হইলো পাওয়ার পলিটিক্সের সেই আইকনিক অ্যান্ড কোল্ড রিফ্লেকশন। এই নিঠুর বর্ণবাদী কর্নেলের কাছে যুদ্ধ হইলো ক্ষমতা ধইরা রাখার একটা উপায়, যার জন্য সে নিজের মাইয়ারে পর্যন্ত খুন করতে চায়। লকজোরে দেখলে আজকের দুনিয়ার অনেক পলিটিক্যাল রিয়েলিটির কথা মনে পড়ে। শন পেন এই ক্যারেক্টারটা ব্রিলিয়ান্টলি প্লে কইরা সাইড ক্যারেক্টার হিসেবে অস্কার জিতে নিছেন।

আরেকটা ক্যারেক্টার পারফিডিয়া (টিয়ানা টেইলর) । পারফিডিয়া ক্যারেক্টারটা বিপ্লবের আরেকটা অন্ধকার দিকরে আমাদের সামনে নিয়া আসে। সে বিপ্লবের তাড়নায় নিজের সংসার-সন্তান রাইখা চইলা যায়। কিন্তু বিপ্লব কি সব সময় মুক্তি আনে, নাকি এর থিকা আবার নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম হয়? ইতিহাসের দিকে চাইলে দেখা যায়, অনেক সময় একটা যুদ্ধ শেষ হয় শুধু আরেকটা যুদ্ধের রাস্তা বানায়া দেওয়ার জন্য।

একদিকে পার্সোনাল লাইফের ফাইট, অন্যদিকে গ্লোবাল পলিটিক্সের রিয়েলিটি- পিটিএ এই লুপটারেই এই সিনেমাতে ডিসকভার করার ট্রাই করছেন। ১৯৯০ সালে পাব্লিশ হওয়া টমাস পিনচনের নভেল ‘ভাইনল্যান্ড’ থিকা ইন্সপায়ার হইয়া সিনেমাটা বানাইছেন বইলা জানতে পারলাম। অনেকেই বলতেছেন রিসেন্ট টাইমের ইউএস, এজ এ কান্ট্রি যেসমস্ত ক্রাইসিসের ভিতর দিয়া যাইতেছে এই সিনেমাতে তার প্রায় সবটাই উইঠা আসছে গ্রেট ফিল্মমেকিং মাস্টারস্ট্রোকে। ইউএস নিয়া আমার এত মাথাব্যথা নাই। কিন্তু ডিক্যাপ্রিও, দেল তরো আর শন পেনের মতো গ্রেট অ্যাক্টরদের নিয়া আমার ইমোশন আছে। এই তিনজনরে এক সিনেমায় পিটিএ’র ডিরেকশনে কাজ করতে দেখাও একটা এক্সপেরিয়েন্স ! হয়তো স্রেফ এই একটা কারণেই ফিল্ম বাফদের বলবো, অস্কার-টস্কার, হাইপ-টাইপ পাশ কাটায়ে চালু চালু সিনেমাটা দেখে ফেলেন।

কী যে একটা টাইম কাটাইতেছি আমরা! সারা দুনিয়ায় যুদ্ধ লাইগা আছে। ইভেন কি যারা সরাসরি যুদ্ধ করতেছে না, তারাও শান্তিতে নাই। এক ধরনের ক্রনিক টেনশনে আছে কখন কার মিসাইল ঘাড়ে আইসা পড়ে!
ঠিক এইরকম একটা পিওর ওয়ার টাইমে পল থমাস অ্যান্ডারসন (ওরফে পিটিএ) বানাইলেন ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। ফিল্মটা দেখার সময় একটা রিয়েল লাইফ ওয়ার ফিলিং পাইলাম। অলটাইম একটা অস্থিরতা, অথচ আমরা হাত-পা শক্ত কইরা একদম নাম্ব হইয়া থাকি। ফিল্মের নামটাও খুব ইন্টারেস্টিং ! ফাইটের পরে আবার ফাইট। রিসেন্ট ওয়ার্ল্ড পলিটিক্সের সাথে এর চেয়ে রেলিভেন্ট আর কিছু হইতে পারে না। অন্তত ইউএস আর তার ভাই-ব্রাদারদের কাছে এটা ফেভারিট হওয়ারই কথা!

১৬ মার্চ ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতছে ছবিটা। সেরা ডিরেক্টরের পুরস্কার বগলদাবা করছেন দ্য গ্রেট পিটিএ। এরপর থিকাই মনে হইতেছিল কেন একজন মুভি লাভারের জন্য এই সিনেমাটা মাস্ট ওয়াচ। চলেন লেখাটা পড়তে পড়তে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ট্রাই করি।
এইটা আমাদের নাম্ব রিয়েলিটির গল্প
পল থমাস অ্যান্ডারসনের ফিল্ম জেনারেলি শুধু গল্পকেন্দ্রিক হয় না; বরং একটা টাইম, সেই টাইমের মেন্টালিটি আর একটা পলিটিকাল সিচুয়েশন তৈরি করে। এখানেও তিনি সেইটা করেছেন। ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ শুরুর দিকে লাগে একটা অ্যাকশন-থ্রিলার বা ব্ল্যাক কমেডি টাইপের ফিল্ম, কিন্তু আরেকটু আগাইলে বোঝা যায় এইটা মূলত পাওয়ার, আইডিওলজি, ভায়োলেন্স আর মানুষের ভেতরের কনফ্লিক্টের গল্প।
আমরা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বা টিভিতে যুদ্ধের খবর দেখি, হাজার হাজার মাইল দূরে মিসাইল পড়ার, মানুষ মরার গল্প শুনি আমরা তখন কী করি? আসলে কিছুই করতে পারি না। এক ধরনের হেল্পলেসনেস থেকে আমরা হাত-পা শক্ত করে বইসা থাকি, যেনোবা আমাদের ফিলিংসগুলা ভোঁতা বা নাম্ব হয়া গেছে। এই যে আমরা সবাই একটা নাম্ব রিয়েলিটির ভেতর দিয়ে যাইতেছি, আমাদের এই নাম্ব রিয়েলিটির গল্পটাই পিটিএ এই ফিল্মের থ্রুতে পর্দায় তুইলা ধরার ট্রাই করছেন।

পিটিএর ক্যারেক্টারেরা অলওয়েজ এই অস্থিরতার ভেতরে থাকে। এই সিনেমার মেইন ক্যারেক্টার বব ফার্গুসন (লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও) সারাক্ষণ একটা সারভেইল্যান্স ট্রমাতে ডরে অস্থির হয়ে থাকে। তার এই ব্যক্তিগত টেনশনটা কি আসলে দুনিয়া জুইড়া আমাদের সবার না? বব ফার্গুসন এক সময় বিপ্লবী ছিল, এখন সে আন্ডারগ্রাউন্ডে। তার প্রতিটা মুভমেন্ট, সিক্রেট কোড ইউজ করা– সবকিছুর ভেতরে এক ধরনের ডেসপারেশন আছে।
আপনে আমি যে সারাদিন ফোনের স্ক্রিনে যুদ্ধের খবর দেইখা নাম্ব হয়ে থাকি, আমাদের ভেতরের ঐ অস্থিরতাটারে এই ফিল্মে রিপ্রেজেন্ট করতেছে প্রটাগনিস্ট বব ফার্গুসন। ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ দেইখা মনে হইছে বর্তমান দুনিয়াটা যেন আসলে একটা মস্ত বড় মেইজ, আর আমরা সবাই পাগলের মতো দৌড়াইতেছি। কেন? জাস্ট একটু টিকে থাকার জন্য।
পার্সোনাল লাইফে পলিটিক্সের অ্যাগ্রেশন
এই সিনেমাটার আরেকটা পয়েন্ট হইতেছে এর পলিটিক্যাল প্যারাডক্স। আমরা মনে করি রাজনীতি বা যুদ্ধ মানে বর্ডারের কাহিনি, কিন্তু পিটিএ দেখাইছেন এটা কীভাবে আপনার ঘরের ড্রয়িংরুম, এমনকি আপনার সন্তানের মেন্টালিটি পর্যন্ত দখল কইরা নেয়।
বব ফার্গুসন এক সময় রেজিম চেঞ্জ করতে চাইছিলো, বিপ্লব করতে চাইছিল। সেই প্রজেক্ট ফেইল করার পর সে এখন তার মেয়েরে নিয়া আন্ডারগ্রাউন্ডে। সে তার মেয়েরে সারাক্ষণ কন্ট্রোলে রাখে, সিক্রেট কোড শেখায় – যাতে সে এই সিস্টেমের ভেতর সারভাইভ করতে পারে। সে তার মেয়েরে একটা দক্ষ মেইজ রানার বানাইতে চায়। কিন্তু ট্র্যাজেডিটা খেয়াল করেন! সিস্টেমের হাত থেকে বাঁচাইতে গিয়া বব নিজেই তার মেয়ের ওপর আরেকটা ছোটখাটো ডিক্টেটরশিপ চাপায়া দিতেছে।
এখানেই মুভিটা একটা ভয়ংকর প্রশ্ন তোলে। বাবার পাস্ট ডিফিট আর ট্রমা কি মেয়ের বর্তমানরে নিয়ন্ত্রণ করার লাইসেন্স দেয়? ববের মাইয়া বাপের এই সেইফ প্রিজন ভাইঙ্গা নিজের মতো স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়, লুকায়ে ফোন চালায় আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চায় – যা তারে শেষ পর্যন্ত বিপদে ফেলে।
দুনিয়াতে যখন বড় বড় পলিটিকাল কনফ্লিক্ট হয়, তার সবচেয়ে বড় হিসাবটা আম পাবলিকরে চুকাইতে হয় তাদের পার্সোনাল লাইফ দিয়া। আপনার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা, আপনার সন্তানের শৈশব – সবকিছুই রাষ্ট্রের ক্ষমতা আর প্রতিশোধের রাজনীতির মেইজে আটকা পইড়া যায়। পিটিএ এই লেয়ারটা এত ক্রুয়েলভাবে দেখাইছেন যে, আপনি ভাবতে বাধ্য হইবেন – আপনি কি আসলেই আপনার জীবনের ডিসিশন নিতেছেন, নাকি কোনো এক অদৃশ্য যুদ্ধের মেইজে আটকা পইড়া আছেন?
পাওয়ারের ক্রুয়েলিটি আর বিপ্লবের স্কার
এই ফিল্মের আরও দুইটা ক্যারেক্টার নিয়া আলাপ করতে চাই। তাদের একজন কর্নেল লকজো (শন পেন) । লকজো হইলো পাওয়ার পলিটিক্সের সেই আইকনিক অ্যান্ড কোল্ড রিফ্লেকশন। এই নিঠুর বর্ণবাদী কর্নেলের কাছে যুদ্ধ হইলো ক্ষমতা ধইরা রাখার একটা উপায়, যার জন্য সে নিজের মাইয়ারে পর্যন্ত খুন করতে চায়। লকজোরে দেখলে আজকের দুনিয়ার অনেক পলিটিক্যাল রিয়েলিটির কথা মনে পড়ে। শন পেন এই ক্যারেক্টারটা ব্রিলিয়ান্টলি প্লে কইরা সাইড ক্যারেক্টার হিসেবে অস্কার জিতে নিছেন।

আরেকটা ক্যারেক্টার পারফিডিয়া (টিয়ানা টেইলর) । পারফিডিয়া ক্যারেক্টারটা বিপ্লবের আরেকটা অন্ধকার দিকরে আমাদের সামনে নিয়া আসে। সে বিপ্লবের তাড়নায় নিজের সংসার-সন্তান রাইখা চইলা যায়। কিন্তু বিপ্লব কি সব সময় মুক্তি আনে, নাকি এর থিকা আবার নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম হয়? ইতিহাসের দিকে চাইলে দেখা যায়, অনেক সময় একটা যুদ্ধ শেষ হয় শুধু আরেকটা যুদ্ধের রাস্তা বানায়া দেওয়ার জন্য।

একদিকে পার্সোনাল লাইফের ফাইট, অন্যদিকে গ্লোবাল পলিটিক্সের রিয়েলিটি- পিটিএ এই লুপটারেই এই সিনেমাতে ডিসকভার করার ট্রাই করছেন। ১৯৯০ সালে পাব্লিশ হওয়া টমাস পিনচনের নভেল ‘ভাইনল্যান্ড’ থিকা ইন্সপায়ার হইয়া সিনেমাটা বানাইছেন বইলা জানতে পারলাম। অনেকেই বলতেছেন রিসেন্ট টাইমের ইউএস, এজ এ কান্ট্রি যেসমস্ত ক্রাইসিসের ভিতর দিয়া যাইতেছে এই সিনেমাতে তার প্রায় সবটাই উইঠা আসছে গ্রেট ফিল্মমেকিং মাস্টারস্ট্রোকে। ইউএস নিয়া আমার এত মাথাব্যথা নাই। কিন্তু ডিক্যাপ্রিও, দেল তরো আর শন পেনের মতো গ্রেট অ্যাক্টরদের নিয়া আমার ইমোশন আছে। এই তিনজনরে এক সিনেমায় পিটিএ’র ডিরেকশনে কাজ করতে দেখাও একটা এক্সপেরিয়েন্স ! হয়তো স্রেফ এই একটা কারণেই ফিল্ম বাফদের বলবো, অস্কার-টস্কার, হাইপ-টাইপ পাশ কাটায়ে চালু চালু সিনেমাটা দেখে ফেলেন।

আমাদের মরা মরা সিনেমা হলগুলো ভরা হয় ঈদে, অপেক্ষাকৃত কম আবর্জনা দিয়া। এর একটা কারণ হইলো, আমাদের আসলে দলবল নিয়া যাওয়ার জায়গা কম, তার উপর ইন্ডাস্ট্রি যা দিতেছে, তার বাইরে অপশনও নাই, আমরা তাই অগত্যাই একেকটা হাবিজাবি সিনেমারে হিট বানাই বক্স অফিসে।
২ দিন আগে
ল্যাংটা শব্দটার মধ্যে একটা অস্বস্তি আছে। একটা মধ্যবিত্ত ট্যাবু আছে। আর ইন্টারনেটের একটা নিয়ম হচ্ছে যেখানে একটু ট্যাবুর গন্ধ আছে, সেইটাই দ্রুত জনপ্রিয় হয়।
৩ দিন আগে
বাস্তব দুনিয়া লজিকে চললেও ইন্টারনেটের দুনিয়া তেমন লজিক গুনে না। কিন্তু রেগুলার লাইফে আমরা যে পরিমাণ প্রেশারে থাকি, যত স্ট্রেস আমাদের ওপর দিয়া যায়, তাতে অনেক সময় নেট দুনিয়ার ইলজিক্যাল আর মিনিংলেস ব্যাপারস্যাপার আমাদের স্ট্রেস রিলিফের সুযোগ কইরা দেয়।
৬ দিন আগে
সালটা ২০২১। ঘরের স্পিকারে ফুল ভলিউমে দোজা ক্যাটের ‘বস বিচ’ বাজতেছে । আয়নার সামনে দাঁড়ায়ে আমার বোন চোখে গাঢ় কাজল, আর ঠোঁটে হাই পিগমেন্টেড কালো লিপস্টিক দিয়ে সাজগোজ করছে। মা একবার রুমে উঁকি দিয়ে খুবই বিরক্ত স্বরে জিজ্ঞেস বললেন, ‘ঠোঁট কেন কালা হবে?’
৯ দিন আগে