স্পোর্টস ডেস্ক

টানটান উত্তেজনা, লাল কার্ডের নাটকীয়তা আর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের চোখ ধাঁধানো গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সিংহাসন কেড়ে নিয়েছে স্পেন। রোববার (১৯ জুলাই), নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার দর্শকের সামনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল স্প্যানিশরা।
এমন থ্রিলিং ম্যাচে আর্জেন্টিনার এমন অসহায় আত্মসমর্পণের কারণ কী? স্পেনই বা কী কৌশলে এভাবে বোতলবন্দি করে রাখল মেসি অ্যান্ড কোং-কে? উত্তরটাও অতটা জটিল নয়।
ফুটবলবোদ্ধারা বলছেন, মেসিকে বোতলবন্দি করে রাখাই ছিল স্পেনের ফাইনাল জয়ের প্রথম ও প্রধান চাবিকাঠি। পুরো ম্যাচজুড়েই মিডফিল্ডে মেসিকে চারপাশ থেকে ব্লক করে রেখেছিলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা, ফলে বল পায়ে আক্রমণে উঠতেই পারেননি এলএমটেন।
ম্যাচজুড়ে স্পেনের দারুন পাসিং গেমের কারণে মেসি নিচে নেমে ডিফেন্সকে সাহায্য করা বা বল কেড়ে কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়ার মতো কোনো সুযোগই পাননি। মাঝমাঠে তাঁকে এভাবে আটকে রাখার ফল হাতেনাতে দেখা গেছে স্কোরশিটেও, ম্যাচের প্রায় ১১০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্পেনের গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেনি। চলতি বিশ্বকাপে অতিরিক্ত মাত্রায় মেসি-নির্ভরতা আর তাঁর গোল-কন্ট্রিবিউশন না থাকাটাই এই ম্যাচে আলবেসেলেস্তেদের হারের অন্যতম প্রধান কারণ।
আর্জেন্টিনার ওপর দ্বিতীয় ধাক্কাটা এসেছে ইনজুরি থেকে। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, স্পেনের ক্রমাগত আক্রমণের মুখে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স লাইনে ততই চিড় ধরতে শুরু করে। আর্জেন্টাইন রক্ষণের অন্যতম ভরসা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ম্যাচের মাঝপথে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরেক তারকা ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোও ইনজুরির কারণে সাবস্টিটিউট হয়ে গেলে আর্জেন্টিনার রক্ষণ পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে পড়ে। স্পেনের খেলোয়াড়রা এই সুযোগটাকেই একের পর এক আক্রমণে কাজে লাগাতে থাকেন।
আর্জেন্টাইন ডিফেন্স যখন জোড়াতালি দিয়ে টিকে থাকার লড়াই করছিল, ঠিক তখনই তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ে (৯০+৩ মিনিটে) স্পেনের পাউ কুবার্সিকে মারাত্মক এক ফাউল করে বসেন তিনি। এতেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সঙ্গে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি, ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
ক্লান্ত ও ১০ জনের আর্জেন্টাইন রক্ষণ শেষ পর্যন্ত স্পেনের অলআউট অ্যাটাকের সামনে টিকতে পারেনি। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর বাড়ানো ক্রস ডি-বক্সের ব্যাক পোস্টে পেয়ে নিকো উইলিয়ামস দারুণ এক হেডে বল ফেরত পাঠান পেনাল্টি বক্সের ঠিক মাঝখানে। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের চাপে আর্জেন্টিনার রক্ষণের কেউই তখন সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। সম্পূর্ণ আনমার্কড অবস্থায় থাকা বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস জোরালো শটে এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই এক গোলের লিড ধরে রেখেই নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ম্যাচ শেষে উল্লাসে মাতে স্পেন।
ম্যাচে যে স্পেনের দারুণ দাপট ছিল, সেটি শুধু পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টাইন গোলপোস্টে ২০টি শট নিয়ে ১১টিই লক্ষ্যে রেখেছে, যেখানে আর্জেন্টিনার শট মোটে তিনটি, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না।
বল দখলেও আলবিসেলেস্তেদের চেয়ে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা। লা রোহাদের ৬৮ ভাগ সময় বল দখলে রাখার বিপক্ষে মেসিরা বল দখলে রাখতে পেরেছেন মোটে ৩২ শতাংশ সময়ে। স্পেনের ৮০৩টি পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনার ৪৪৫ পাস, সবকিছুতেই স্পষ্ট ছিল স্প্যানিশদের নিয়ন্ত্রণ।
স্পেন ৯টি কর্নার আদায় করলেও আর্জেন্টিনার পেয়েছে মোটে চারটি। তবে ফাউলের সংখ্যা ও কার্ড পাওয়ায় এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনাই। ম্যাচে ২৪টি ফাউল করে পাঁচ হলুদ কার্ডের সঙ্গে একটি লাল কার্ড জুটেছে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ভাগ্যে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অর্জনের নাম এমি মার্তিনেজ। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার বক্সে স্প্যানিশ আক্রমণের ঝড়ের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি তো ম্যাচ শেষে বলেই ফেলেছেন, ‘শুধু মার্তিনেজের অসামান্য দক্ষতায় অন্তত ৬ গোলের ব্যবধানে হার থেকে বেঁচে গেছে আর্জেন্টিনা।’
মেসির নিষ্ক্রিয়তা, রক্ষণের ভাঙন আর শেষে লাল কার্ড— এই তিনের যোগফলেই বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার, আর ১৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নিল স্পেন।

টানটান উত্তেজনা, লাল কার্ডের নাটকীয়তা আর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের চোখ ধাঁধানো গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সিংহাসন কেড়ে নিয়েছে স্পেন। রোববার (১৯ জুলাই), নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার দর্শকের সামনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল স্প্যানিশরা।
এমন থ্রিলিং ম্যাচে আর্জেন্টিনার এমন অসহায় আত্মসমর্পণের কারণ কী? স্পেনই বা কী কৌশলে এভাবে বোতলবন্দি করে রাখল মেসি অ্যান্ড কোং-কে? উত্তরটাও অতটা জটিল নয়।
ফুটবলবোদ্ধারা বলছেন, মেসিকে বোতলবন্দি করে রাখাই ছিল স্পেনের ফাইনাল জয়ের প্রথম ও প্রধান চাবিকাঠি। পুরো ম্যাচজুড়েই মিডফিল্ডে মেসিকে চারপাশ থেকে ব্লক করে রেখেছিলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা, ফলে বল পায়ে আক্রমণে উঠতেই পারেননি এলএমটেন।
ম্যাচজুড়ে স্পেনের দারুন পাসিং গেমের কারণে মেসি নিচে নেমে ডিফেন্সকে সাহায্য করা বা বল কেড়ে কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়ার মতো কোনো সুযোগই পাননি। মাঝমাঠে তাঁকে এভাবে আটকে রাখার ফল হাতেনাতে দেখা গেছে স্কোরশিটেও, ম্যাচের প্রায় ১১০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্পেনের গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেনি। চলতি বিশ্বকাপে অতিরিক্ত মাত্রায় মেসি-নির্ভরতা আর তাঁর গোল-কন্ট্রিবিউশন না থাকাটাই এই ম্যাচে আলবেসেলেস্তেদের হারের অন্যতম প্রধান কারণ।
আর্জেন্টিনার ওপর দ্বিতীয় ধাক্কাটা এসেছে ইনজুরি থেকে। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, স্পেনের ক্রমাগত আক্রমণের মুখে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স লাইনে ততই চিড় ধরতে শুরু করে। আর্জেন্টাইন রক্ষণের অন্যতম ভরসা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ম্যাচের মাঝপথে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরেক তারকা ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোও ইনজুরির কারণে সাবস্টিটিউট হয়ে গেলে আর্জেন্টিনার রক্ষণ পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে পড়ে। স্পেনের খেলোয়াড়রা এই সুযোগটাকেই একের পর এক আক্রমণে কাজে লাগাতে থাকেন।
আর্জেন্টাইন ডিফেন্স যখন জোড়াতালি দিয়ে টিকে থাকার লড়াই করছিল, ঠিক তখনই তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ে (৯০+৩ মিনিটে) স্পেনের পাউ কুবার্সিকে মারাত্মক এক ফাউল করে বসেন তিনি। এতেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সঙ্গে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি, ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
ক্লান্ত ও ১০ জনের আর্জেন্টাইন রক্ষণ শেষ পর্যন্ত স্পেনের অলআউট অ্যাটাকের সামনে টিকতে পারেনি। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর বাড়ানো ক্রস ডি-বক্সের ব্যাক পোস্টে পেয়ে নিকো উইলিয়ামস দারুণ এক হেডে বল ফেরত পাঠান পেনাল্টি বক্সের ঠিক মাঝখানে। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের চাপে আর্জেন্টিনার রক্ষণের কেউই তখন সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। সম্পূর্ণ আনমার্কড অবস্থায় থাকা বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস জোরালো শটে এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই এক গোলের লিড ধরে রেখেই নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ম্যাচ শেষে উল্লাসে মাতে স্পেন।
ম্যাচে যে স্পেনের দারুণ দাপট ছিল, সেটি শুধু পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টাইন গোলপোস্টে ২০টি শট নিয়ে ১১টিই লক্ষ্যে রেখেছে, যেখানে আর্জেন্টিনার শট মোটে তিনটি, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না।
বল দখলেও আলবিসেলেস্তেদের চেয়ে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা। লা রোহাদের ৬৮ ভাগ সময় বল দখলে রাখার বিপক্ষে মেসিরা বল দখলে রাখতে পেরেছেন মোটে ৩২ শতাংশ সময়ে। স্পেনের ৮০৩টি পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনার ৪৪৫ পাস, সবকিছুতেই স্পষ্ট ছিল স্প্যানিশদের নিয়ন্ত্রণ।
স্পেন ৯টি কর্নার আদায় করলেও আর্জেন্টিনার পেয়েছে মোটে চারটি। তবে ফাউলের সংখ্যা ও কার্ড পাওয়ায় এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনাই। ম্যাচে ২৪টি ফাউল করে পাঁচ হলুদ কার্ডের সঙ্গে একটি লাল কার্ড জুটেছে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ভাগ্যে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অর্জনের নাম এমি মার্তিনেজ। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার বক্সে স্প্যানিশ আক্রমণের ঝড়ের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি তো ম্যাচ শেষে বলেই ফেলেছেন, ‘শুধু মার্তিনেজের অসামান্য দক্ষতায় অন্তত ৬ গোলের ব্যবধানে হার থেকে বেঁচে গেছে আর্জেন্টিনা।’
মেসির নিষ্ক্রিয়তা, রক্ষণের ভাঙন আর শেষে লাল কার্ড— এই তিনের যোগফলেই বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার, আর ১৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নিল স্পেন।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিশ্বজয়ের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আনন্দে মেতে উঠেছে লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ইয়ামাল। একই রাতে হাজার মাইল দূরের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও দেখা গেছে ফিলিস্তিনি শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
১২ ঘণ্টা আগে
স্প্যানিশ ফরওয়ার্ড নিকো উইলিয়ামস বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবময় অর্জনকে ব্রাজিলের নেইমারকে উৎসর্গ করেছেন। বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও ফুটবলে নিজের প্রেরণা ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারকে ভুললেন না স্পেনের উইঙ্গার।
১৪ ঘণ্টা আগে
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ফাইনালের এই মহামঞ্চে গোলপোস্ট থেকে আক্রমণ ভাগ, সব অংশের খেলোয়ারদেরই ছিল দাপট।
১৬ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পুরস্কারে ছিল স্পেনেরই জয়জয়কার। সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারই উঠেছে স্পেনের তারকাদের হাতে। তবে গোলের মঞ্চে সবাইকে পেছনে ফেলে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
২০ ঘণ্টা আগে