কাজী মাকতাবার পান্থ

সব রূপকথার সমাপ্তিটা ঠিক ট্রফি জিতে হয় না। কিছু রূপকথার সমাপ্তি ঘটে চোখের কোণে জমে থাকা জল, গ্যালারির নীরবতা আর বুকের ভেতর এক অদ্ভুত গর্ব রেখে। তাই হয়তো সব বিদায় কান্না দিয়ে মাপা যায় না।
মরক্কোর গল্পটিও যেন ঠিক তেমনই; যে গল্পের শেষ বাঁশি বাজে, কিন্তু শেষ হয় না তার অনুপ্রেরণা। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতের ম্যাচের স্কোরবোর্ড হয়তো বলবে, ফ্রান্সের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে মরক্কো। কিন্তু ইতিহাস বলবে, মরক্কো লড়াই করেছে বুক চিতিয়ে, একদমই ভয়ডরহীনভাবে।
এই তো বেশি দিন আগের কথাও নয়, একসময় এই দলকে আসলে কেউই ভয় পেত না। বিশ্বকাপের ড্রয়ে মরক্কোর নাম উঠলে বড় দলগুলোর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে স্বস্তির হাসি যেন ফুটে উঠত। কেউ হয়তো তখনো ভাবেনি, উত্তর আফ্রিকার প্রান্তের ছোট্ট এই দেশটি একদিন বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
সময়ের কাটায় তারপর এলো ২০২২ সাল। কাতারের মরুভূমিতে মরক্কো যেন নিজের নতুন পরিচয় নতুন করে লিখল। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিল, বেলজিয়ামকে হারিয়ে দিল, কানাডাকে পরাজিত করে গ্রুপসেরা হলো। তারপর শুরু হলো নতুন ইতিহাস লেখার অধ্যায়।
শেষ ষোলোতে সামনে ছিল স্পেন; যে দল বল দখল আর ‘টিকিটাকা’ দিয়ে পৃথিবীকে মুগ্ধ করে। ১২০ মিনিট ধরে স্পেন বল নিজেদের পায়ে রাখল, কিন্তু মরক্কো ধরে রাখল হৃদয়। টাইব্রেকারে ইয়াসিন বুনুর দুই হাত আর আশরাফ হাকিমির ‘পানেঙ্কা’ কিক যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিল—রূপকথা হয়তো সত্যিও হতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে অপেক্ষায় ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। সেদিনও সবাই ভাবছিল, এবার বুঝি গল্প শেষ। কিন্তু ইউসেফ এন-নেসিরির শূন্যে ভেসে নেওয়া সেই হেড যেন আকাশ ছুঁয়ে বলেছিল—আফ্রিকার দেশগুলোরও স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। মরক্কো শুধু সেদিন পর্তুগালকে হারায়নি, বরং তৈরি করেছিল এক নতুন ইতিহাস। প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়েছিল দেশটি। যদিও সেমিফাইনালে এসে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
সেদিন ম্যাচে পরাজিত হলেও মরক্কো একটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো আফ্রিকার হৃদস্পন্দনে পরিণত হয়েছিল। তারপর কেটে গেল চার বছর। রূপকথার গল্প যেন শেষ হয়নি, বরং সেটি পরিণত হয়েছে কোনো শিল্পীর অভ্যাসে।
ম্যাচের পর ম্যাচ, বছরের পর বছর ‘হার’ শব্দটাকে ভুলে গিয়েছিল আটলাস লায়ন্সরা। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারির পর টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল দলটি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আন্ডারডগ হয়ে আর তারা আসেনি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে শুরু করা তাদের যাত্রাটি আরও রঙিন হয় শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে। এরপর স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা আবারও পৌঁছে যায় শেষ আটে।
আবারও স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল সেই একই প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। অনেক চেষ্টা, অনেক দৌড়, ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ সব সেভ আর অনেক সাহসের পরও শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে থেমে গেল মরক্কোর যাত্রা। সেই সঙ্গে শেষ হলো টানা ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত অভিযাত্রাও।
মনে প্রশ্ন আসতে পারে—সত্যিই কি তারা হেরে গেল? উত্তরটা হয়তো ‘না’ হবে। যখন কোনো দেশ পুরো একটি মহাদেশকে বিশ্বাস করাতে থাকে যে বিশ্বকাপের মঞ্চেও তাদের সমান জায়গা আছে; যখন পরাজয়ের দিনেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন প্রতিপক্ষ তাদের সম্মান জানায়, তখন সেই দলকে পরাজিত বলা যায় না।
রাত শেষ হলে মরুভূমির বালিতে পায়ের ছাপগুলো মুছে যায়। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এঁকে যাওয়া কিছু পদচিহ্ন কখনোই মুছে যায় না। আগামী বিশ্বকাপের কোনো এক রাতে, আফ্রিকার কোনো এক শিশুর পায়ে বল গড়াবে হয়তো এই বিশ্বাস নিয়ে—‘যদি মরক্কো পারে, আমরাও পারব।’

সব রূপকথার সমাপ্তিটা ঠিক ট্রফি জিতে হয় না। কিছু রূপকথার সমাপ্তি ঘটে চোখের কোণে জমে থাকা জল, গ্যালারির নীরবতা আর বুকের ভেতর এক অদ্ভুত গর্ব রেখে। তাই হয়তো সব বিদায় কান্না দিয়ে মাপা যায় না।
মরক্কোর গল্পটিও যেন ঠিক তেমনই; যে গল্পের শেষ বাঁশি বাজে, কিন্তু শেষ হয় না তার অনুপ্রেরণা। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতের ম্যাচের স্কোরবোর্ড হয়তো বলবে, ফ্রান্সের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে মরক্কো। কিন্তু ইতিহাস বলবে, মরক্কো লড়াই করেছে বুক চিতিয়ে, একদমই ভয়ডরহীনভাবে।
এই তো বেশি দিন আগের কথাও নয়, একসময় এই দলকে আসলে কেউই ভয় পেত না। বিশ্বকাপের ড্রয়ে মরক্কোর নাম উঠলে বড় দলগুলোর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে স্বস্তির হাসি যেন ফুটে উঠত। কেউ হয়তো তখনো ভাবেনি, উত্তর আফ্রিকার প্রান্তের ছোট্ট এই দেশটি একদিন বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
সময়ের কাটায় তারপর এলো ২০২২ সাল। কাতারের মরুভূমিতে মরক্কো যেন নিজের নতুন পরিচয় নতুন করে লিখল। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিল, বেলজিয়ামকে হারিয়ে দিল, কানাডাকে পরাজিত করে গ্রুপসেরা হলো। তারপর শুরু হলো নতুন ইতিহাস লেখার অধ্যায়।
শেষ ষোলোতে সামনে ছিল স্পেন; যে দল বল দখল আর ‘টিকিটাকা’ দিয়ে পৃথিবীকে মুগ্ধ করে। ১২০ মিনিট ধরে স্পেন বল নিজেদের পায়ে রাখল, কিন্তু মরক্কো ধরে রাখল হৃদয়। টাইব্রেকারে ইয়াসিন বুনুর দুই হাত আর আশরাফ হাকিমির ‘পানেঙ্কা’ কিক যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিল—রূপকথা হয়তো সত্যিও হতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে অপেক্ষায় ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। সেদিনও সবাই ভাবছিল, এবার বুঝি গল্প শেষ। কিন্তু ইউসেফ এন-নেসিরির শূন্যে ভেসে নেওয়া সেই হেড যেন আকাশ ছুঁয়ে বলেছিল—আফ্রিকার দেশগুলোরও স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। মরক্কো শুধু সেদিন পর্তুগালকে হারায়নি, বরং তৈরি করেছিল এক নতুন ইতিহাস। প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়েছিল দেশটি। যদিও সেমিফাইনালে এসে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
সেদিন ম্যাচে পরাজিত হলেও মরক্কো একটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো আফ্রিকার হৃদস্পন্দনে পরিণত হয়েছিল। তারপর কেটে গেল চার বছর। রূপকথার গল্প যেন শেষ হয়নি, বরং সেটি পরিণত হয়েছে কোনো শিল্পীর অভ্যাসে।
ম্যাচের পর ম্যাচ, বছরের পর বছর ‘হার’ শব্দটাকে ভুলে গিয়েছিল আটলাস লায়ন্সরা। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারির পর টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল দলটি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আন্ডারডগ হয়ে আর তারা আসেনি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে শুরু করা তাদের যাত্রাটি আরও রঙিন হয় শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে। এরপর স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা আবারও পৌঁছে যায় শেষ আটে।
আবারও স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল সেই একই প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। অনেক চেষ্টা, অনেক দৌড়, ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ সব সেভ আর অনেক সাহসের পরও শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে থেমে গেল মরক্কোর যাত্রা। সেই সঙ্গে শেষ হলো টানা ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত অভিযাত্রাও।
মনে প্রশ্ন আসতে পারে—সত্যিই কি তারা হেরে গেল? উত্তরটা হয়তো ‘না’ হবে। যখন কোনো দেশ পুরো একটি মহাদেশকে বিশ্বাস করাতে থাকে যে বিশ্বকাপের মঞ্চেও তাদের সমান জায়গা আছে; যখন পরাজয়ের দিনেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন প্রতিপক্ষ তাদের সম্মান জানায়, তখন সেই দলকে পরাজিত বলা যায় না।
রাত শেষ হলে মরুভূমির বালিতে পায়ের ছাপগুলো মুছে যায়। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এঁকে যাওয়া কিছু পদচিহ্ন কখনোই মুছে যায় না। আগামী বিশ্বকাপের কোনো এক রাতে, আফ্রিকার কোনো এক শিশুর পায়ে বল গড়াবে হয়তো এই বিশ্বাস নিয়ে—‘যদি মরক্কো পারে, আমরাও পারব।’
.png)

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ডারউইনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হবে দুই দলের প্রথম টেস্ট। ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যাওয়ায় বাংলাদেশের একাদশে দেখা যেতে পারে সদ্য চোট কাটিয়ে ফেরা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন দাসকে।
৪ ঘণ্টা আগে
ফুটবল সম্রাট পেলের ক্লাবে নাম লেখালেন বাংলাদেশের শমিত সোম। চলতি ইউএসএল লিগ ওয়ানের বাকি মৌসুমের জন্য শমিতকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক কসমস।
৬ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে নামছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ওভালে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হলেও সেটা নিয়ে ভাবছেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। বরং নাহিদ রানার অনুপস্থিতি তাঁকে ভাবাচ্ছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
ডারউইনে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়ার চেনা সেই ভয়ংকর পেস ত্রয়ী । অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড—তিনজনই আছেন অস্ট্রেলিয়ার একাদশে, তাঁদের সঙ্গে আছেন স্পিনার নাথান লায়ন।
১৬ ঘণ্টা আগে