গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট

গাজীপুরে থমকে আছে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বিপর্যয়ের শঙ্কা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
টঙ্গী (গাজীপুর)

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৫৫
গাজীপুরে গ্যাসনির্ভর ৮০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে গ্যাসনির্ভর ৮০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।

টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরীসহ গাজীপুর সদর ও কালিয়াকৈরের বিভিন্ন কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন থমকে আছে। কোনো কোনো কারখানায় চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি শফিউল আলম জানান, গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ৮০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক মালিক শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ জেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯৭৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে ৬২০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে ৩৫০ মেগাওয়াটের মতো। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

বিদ্যুতের এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্পোৎপাদনে। ইয়ান নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হাসান বলেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও কমে গেছে।

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বারের পরিচালক ও স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। উৎপাদন ব্যাহত হলে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।’

এদিকে তিতাস গ্যাস গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. গোলাম ফারুক জানান, জেলা ও মহানগরে দৈনিক প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট।

সফিপুরের গোমতী টেক্সটাইলে গ্যাসের চাপ না থাকায় টেক্সটাইল, ডাইং ও নিটিং সেকশন বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘কারখানার লাইনে গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। প্রথম দিকে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি কিনে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও পরে তা আর সম্ভব হয়নি। গত ১৯ জুলাই থেকে কারখানা বন্ধ রয়েছে।’

মৌচাক এলাকার সাদমা ফ্যাশন ওয়্যার লিমিটেডে গ্যাস সংকটে উৎপাদন ৩০ শতাংশে নেমেছে। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা বলেন, উৎপাদন চালাতে কমপক্ষে চার পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। অথচ কোনো কোনো সময় এক পিএসআইও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকছে না।

কোনো কোনো কারখানা বাড়তি ব্যয়ে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কোনাবাড়ীর তুসুকা গ্রুপের পরিচালক তারেক হাসান জানান, পাঁচটি জেনারেটর চালিয়ে কারখানা সচল রেখেছেন তারা।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ তৈরি পোশাক শিল্পের।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর গাজীপুরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এমএম মামুন-অর-রশিদ বলেন, গ্যাস সংকটে ঠিক কতটি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই তথ্য তাদের কাছে নেই।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

গাজীপুরে থমকে আছে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বিপর্যয়ের শঙ্কা