উত্তরাধিকার সূত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছি: অর্থ উপদেষ্টা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২৩: ৪২
বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বিগত সরকারের আমলের একটি লুটপাট হওয়া ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি তাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। এই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়ন করছে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে এবং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন করে দরিদ্র হওয়া প্রায় ৫০ থেকে ৯৫ লাখ মানুষের সুরক্ষায় জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং বার্ধক্যকালীন ভাতা—সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি জানান, কৃষকদের জন্য একটি বিশেষ ‘ভিসা কার্ড’ চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাঁরা সরাসরি তফসিলি ব্যাংক থেকে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তিতুমীর আরও বলেন, সরকার বয়ানের রাজনীতিতে নয়, বরং জনগণের প্রকৃত অধিকার নিশ্চিতে বিশ্বাসী। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বাজেট বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কোঅপারেশন কোরিন থিভোজ বলেন, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষের কল্যাণের ওপরই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে। বাংলাদেশকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে সুইজারল্যান্ড, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন একত্রে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা অবকাঠামো নির্মাণ প্রকৃত উন্নয়ন নয়। উন্নয়নকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। তিনি বৈষম্যবিরোধী নীতি, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, গত কয়েক দশকে অর্থনীতি এগোলেও প্রবৃদ্ধির গুণগত মান নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি নারীদের অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতি এবং তাঁদের ক্ষমতায়নে আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বক্তারা একমত হন যে, বিভাজনের বাইরে এসে সব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।

সম্পর্কিত