গাছ থেকে আম পাড়ায় পিঠে চোর লিখে ছাত্রদের ঘোরালেন প্রধান শিক্ষক!

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২৩: ২৫
চুরির অপবাদে শিক্ষার্থীদের শাস্তির প্রতীকী দৃশ্য। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি

বিদ্যালয়ের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ায় মারধরের পর শিক্ষার্থীদের পিঠে চোর লিখে ঘুরানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এ সময় তাদের গলায় জুতার মালাও দেন তিনি।

বগুড়া সদরের বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। কোমলমতীদের এমন অপমান করার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগমের শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের কয়েকটি গাছে অনেক আম রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল গাছ থেকে আম পাড়ে তিন ছাত্র। পরদিন বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম ছাত্রদের অফিসে ডেকে নেন। প্রত্যেককে বেত দিয়ে চারবার আঘাত করেন তিনি। এরপর কাগজে ‘আমচোর’ লিখে প্রত্যেকের পিঠে সেঁটে জুতার মালা গলায় পরিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ঘুরিয়ে শাস্তি দেন গোল সাহানারা।

বিষয়টি জানতে পেরে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হন। পরে গতকাল শনিবার স্থানীয় শালিসে হাজির হয়ে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চান। এই সালিশে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ মো. আবু রায়হানও উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া সদরের বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া সদরের বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

সরেজমিন রোববার বিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের পাঠদান করতে দেখা যায়। তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ছুটি নিয়েছেন। শিক্ষক মেহেদী হাসান জানান, ঘটনার সময় তিনি ক্লাসে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে শিক্ষার্থীদের গলা থেকে জুতার মালা খুলে ফেলেন এবং প্রধান শিক্ষক কাজটি ভালো করেননি বলে জানান তিনি। অবশ্য নিজের ভুল বুঝতে পেরে প্রধান শিক্ষক ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানান মেহেদী হাসান।

ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী জানায়, প্রথমে তাদের ডেকে বেত্রাঘাত করেন প্রধান শিক্ষক। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের জুতা-স্যান্ডেল দিয়ে মালা বানিয়ে গলায় দিয়ে আমচোর লেখা কাগজ পিঠে লাগিয়ে সব ক্লাস ঘোরানো হয়।

বুজুর্গধামা এলাকার অভিভাবক সামছুল আলম ও মাহবুব হোসেন জানান, শিশুরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের গাছের আম খাওয়া তো দোষের কিছু না। দোষ হলেও তাদের এভাবে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। প্রধান শিক্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগমের নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর বলেন, ‘শিশুরা ভুল করে আম পাড়তে পারে। সেজন্য এমন শাস্তি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিদ্যালয়ের প্রধানসহ কয়েকজনকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত