বন্ধ কারখানা চালুতে ২০ হাজার কোটি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিল ব্যবহারের গাইডলাইন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ২১: ৩৭
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে সরকার। এই অর্থের আবর্তনশীল (রিভলভিং) প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের তহবিল ব্যবহারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে এই-সংক্রান্ত সার্কুলার পাঠিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার বিস্তারিত রূপরেখা জানানো হয়েছে।

গত ৪ জুন এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ এবং আংশিক সচল শিল্প-সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবাখাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ গঠন করা তথ্য জানায়।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল, প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বন্ধ কল-কারখানা সচলের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কম সুদে ঋণের জন্য বিশেষ এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩)– এর সার্কুলারে বলা হয়, ‘ক্লোজড ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিস সেক্টর ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম (বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়তা প্রাক-অর্থায়ন তহবিল)’ শীর্ষক তিন বছর মেয়াদি আবর্তনশীল তহবিলের অর্থের উৎস হবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য।

স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই বিআরপিডি-৩-এর সঙ্গে একটি ‘অংশগ্রহণ চুক্তি’ সই করতে হবে। নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পাওয়ার পর, ব্যাংকগুলো চূড়ান্ত গ্রাহকদের (ঋণগ্রহীতা) ঋণ বিতরণের আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ নির্দিষ্ট ফরমেটে এই প্রাক-অর্থায়ন সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, যেসব ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য পুনঃঅর্থায়ন (রি-ফাইন্যান্স) বা প্রাক-অর্থায়ন (প্রি-ফাইন্যান্স) স্কিম থেকে চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) সুবিধা নিচ্ছেন, নতুন করে আবেদনের আগে তাদের প্রকৃত প্রয়োজনের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।

সার্কুলারে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর জন্য সাধারণ নথিপত্রের পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাছ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও প্রতিবেদন সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর মধ্যে রয়েছে– ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত ঘোষণা, যেখানে নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা কখনো অর্থ পাচার, জালিয়াতি, তহবিলের ভিন্ন খাতে ব্যবহার বা ঋণের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না; গ্রাহকের উৎপাদন বা সেবা দেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি সনদপত্র; সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও রাজস্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন; এবং প্রতি প্রান্তিকে (তিন মাস পরপর) ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সরজমিনে কারখানা পরিদর্শনের অঙ্গীকার ও পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।

নীতিমালা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক (কোয়ার্টার) শেষ হওয়ার পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের একটি ত্রৈমাসিক বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে বলে সার্কলারে উল্লেখ রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত