আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস
কাজী নিশাত তাবাসসুম

বাংলাদেশে হাতি, ডলফিন, শকুন, বনরুই কিংবা সামুদ্রিক কাছিমের মতো বহু প্রাণী এখন হুমকির মুখে। বন উজাড়, নদী দূষণ, অবৈধ শিকার, পাহাড় কাটা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের জীববৈচিত্র্য দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে প্রণয়ন করে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন। আইনটির লক্ষ্য হলো দেশের প্রাণী, উদ্ভিদ, অণুজীব ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ করা এবং জীবসম্পদের ব্যবহার যেন টেকসইভাবে হয় তা নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে আগে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে আইন থাকলেও জীববৈচিত্র্যকে সামগ্রিকভাবে রক্ষার জন্য আলাদা কাঠামো ছিল না। ২০১৭ সালের এই আইন সেই ঘাটতি পূরণ করে। এটি মূলত জাতিসংঘের কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়।
আইন অনুযায়ী, জীববৈচিত্র্য বলতে শুধু বন্য প্রাণী নয়, উদ্ভিদ, অণুজীব, বন, নদী, জলাভূমি, পাহাড়, কৃষিজ সম্পদসহ পুরো প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটি প্রাণী বিলুপ্ত হলে শুধু সেই প্রাণীটিই হারায় না, পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিবেশবিদদের মতে, জীববৈচিত্র্য হলো মানুষের খাদ্য, ওষুধ, কৃষি উৎপাদন, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এটি শুধু পরিবেশের বিষয় নয়, অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গেও জড়িত।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭-তে মোট ৫১টি ধারা রয়েছে, যা ৯টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো জীবসম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় জীববৈচিত্র্য কমিটি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, বিরল ও বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও বিদেশে জীবসম্পদ স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ।
আইন অনুযায়ী, দেশের ভেতরের জীবসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট জিনগত সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশের জীবসম্পদ ব্যবহার, গবেষণা বা বিদেশে নিতে পারবে না।
এই আইনের অধীনে একটি জাতীয় জীববৈচিত্র্য কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। এই কমিটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গবেষণা, নীতি প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়।
আইনে স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও জীবসম্পদের ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেয়, তাহলে লাভের অংশ তাদের সঙ্গে ভাগ করার নীতিও এতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে আইনটি মূলত বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণে বেশি গুরুত্ব দেয়। সরকার চাইলে কোনো এলাকা বা প্রজাতিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করতে পারে। এছাড়া জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে সরকারকে।
বিদেশি ব্যক্তি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জীবসম্পদ নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে সরকারের অনুমতি লাগবে। অনুমতি ছাড়া জিনগত উপাদান বিদেশে নেওয়া বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইনের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো শাস্তি ও জরিমানা বিধান করা। এ আইনে বলা হয়েছে, বিপন্ন বা হুমকির মুখে থাকা প্রজাতি ধ্বংস, হত্যা, সংগ্রহ, পাচার বা তাদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত করা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আইনের ৪১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যা বিপন্ন প্রজাতির টিকে থাকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, বা কোনো সংরক্ষিত পরিবেশগত এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে, তবে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনটি আরও কঠোরভাবে বলে যে এই ধরনের অপরাধে শুধু ব্যক্তি নয়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। ফলে বিপন্ন প্রজাতি ধ্বংসকে শুধু পরিবেশগত ক্ষতি নয়, বরং একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, যার শাস্তি যথেষ্ট কঠোর।
তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণ, নজরদারির সীমাবদ্ধতা এবং জনবল সংকটের কারণে আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে বন্য প্রাণী সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন এনজিও সংস্থার।
বাংলাদেশে আইন থাকা সত্ত্বেও এখনও বন্য প্রাণী হত্যা, বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা ও নদী দূষণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। উদাহরণ হিসেবে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাতি হত্যার ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। বিদ্যুতায়িত ফাঁদ, বনভূমি সংকোচন ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হাতির মৃত্যু বাড়ছে। একইভাবে শকুন বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে, নদীতে ডলফিনের সংখ্যা কমছে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও নানা চাপে রয়েছে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব বলেন, ‘বাংলাদেশে বন্য প্রাণী সুরক্ষায় আইন থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ তুলনামূলক কম। এর অন্যতম কারণ হলো কোনো বন্য প্রাণী হত্যা বা নিধনের ঘটনা ঘটলে সেই মামলার তদন্ত ও পরিচালনার দায়িত্ব মূলত বন বিভাগকেই নিতে হয়।
কিন্তু দেশে বন বিভাগের পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা এখনও সীমিত। ফলে অনেক ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, অপরাধী শনাক্তকরণ ও আইনের কঠোর প্রয়োগ সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এ ক্ষেত্রে শুধু বন বিভাগ নয় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।’
বাংলাদেশ বিশ্বের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির সদস্য। ফলে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিও রয়েছে দেশের। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য রক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন গবেষকেরা।
তাঁদের মতে, জীববৈচিত্র্য হারালে শুধু প্রাণী বা বনই হারাবে না, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ও মানুষের জীবনযাত্রাও হুমকিতে পড়বে। তাই উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার সময় পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বনভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমছে। পরিবেশবিদদের মতে, এই পরিস্থিতিতে জীববৈচিত্র্য আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে বহু প্রজাতি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে শুধু পরিবেশের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের টিকে থাকা, অর্থনীতি, কৃষি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্নও। আর সেই কারণেই বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য আইন এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে হাতি, ডলফিন, শকুন, বনরুই কিংবা সামুদ্রিক কাছিমের মতো বহু প্রাণী এখন হুমকির মুখে। বন উজাড়, নদী দূষণ, অবৈধ শিকার, পাহাড় কাটা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের জীববৈচিত্র্য দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে প্রণয়ন করে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন। আইনটির লক্ষ্য হলো দেশের প্রাণী, উদ্ভিদ, অণুজীব ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ করা এবং জীবসম্পদের ব্যবহার যেন টেকসইভাবে হয় তা নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে আগে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে আইন থাকলেও জীববৈচিত্র্যকে সামগ্রিকভাবে রক্ষার জন্য আলাদা কাঠামো ছিল না। ২০১৭ সালের এই আইন সেই ঘাটতি পূরণ করে। এটি মূলত জাতিসংঘের কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়।
আইন অনুযায়ী, জীববৈচিত্র্য বলতে শুধু বন্য প্রাণী নয়, উদ্ভিদ, অণুজীব, বন, নদী, জলাভূমি, পাহাড়, কৃষিজ সম্পদসহ পুরো প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটি প্রাণী বিলুপ্ত হলে শুধু সেই প্রাণীটিই হারায় না, পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিবেশবিদদের মতে, জীববৈচিত্র্য হলো মানুষের খাদ্য, ওষুধ, কৃষি উৎপাদন, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এটি শুধু পরিবেশের বিষয় নয়, অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গেও জড়িত।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭-তে মোট ৫১টি ধারা রয়েছে, যা ৯টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো জীবসম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় জীববৈচিত্র্য কমিটি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, বিরল ও বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও বিদেশে জীবসম্পদ স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ।
আইন অনুযায়ী, দেশের ভেতরের জীবসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট জিনগত সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশের জীবসম্পদ ব্যবহার, গবেষণা বা বিদেশে নিতে পারবে না।
এই আইনের অধীনে একটি জাতীয় জীববৈচিত্র্য কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। এই কমিটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গবেষণা, নীতি প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়।
আইনে স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও জীবসম্পদের ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেয়, তাহলে লাভের অংশ তাদের সঙ্গে ভাগ করার নীতিও এতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে আইনটি মূলত বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণে বেশি গুরুত্ব দেয়। সরকার চাইলে কোনো এলাকা বা প্রজাতিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করতে পারে। এছাড়া জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে সরকারকে।
বিদেশি ব্যক্তি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জীবসম্পদ নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে সরকারের অনুমতি লাগবে। অনুমতি ছাড়া জিনগত উপাদান বিদেশে নেওয়া বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইনের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো শাস্তি ও জরিমানা বিধান করা। এ আইনে বলা হয়েছে, বিপন্ন বা হুমকির মুখে থাকা প্রজাতি ধ্বংস, হত্যা, সংগ্রহ, পাচার বা তাদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত করা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আইনের ৪১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যা বিপন্ন প্রজাতির টিকে থাকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, বা কোনো সংরক্ষিত পরিবেশগত এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে, তবে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনটি আরও কঠোরভাবে বলে যে এই ধরনের অপরাধে শুধু ব্যক্তি নয়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। ফলে বিপন্ন প্রজাতি ধ্বংসকে শুধু পরিবেশগত ক্ষতি নয়, বরং একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, যার শাস্তি যথেষ্ট কঠোর।
তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণ, নজরদারির সীমাবদ্ধতা এবং জনবল সংকটের কারণে আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে বন্য প্রাণী সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন এনজিও সংস্থার।
বাংলাদেশে আইন থাকা সত্ত্বেও এখনও বন্য প্রাণী হত্যা, বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা ও নদী দূষণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। উদাহরণ হিসেবে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাতি হত্যার ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। বিদ্যুতায়িত ফাঁদ, বনভূমি সংকোচন ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হাতির মৃত্যু বাড়ছে। একইভাবে শকুন বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে, নদীতে ডলফিনের সংখ্যা কমছে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও নানা চাপে রয়েছে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব বলেন, ‘বাংলাদেশে বন্য প্রাণী সুরক্ষায় আইন থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ তুলনামূলক কম। এর অন্যতম কারণ হলো কোনো বন্য প্রাণী হত্যা বা নিধনের ঘটনা ঘটলে সেই মামলার তদন্ত ও পরিচালনার দায়িত্ব মূলত বন বিভাগকেই নিতে হয়।
কিন্তু দেশে বন বিভাগের পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা এখনও সীমিত। ফলে অনেক ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, অপরাধী শনাক্তকরণ ও আইনের কঠোর প্রয়োগ সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এ ক্ষেত্রে শুধু বন বিভাগ নয় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।’
বাংলাদেশ বিশ্বের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির সদস্য। ফলে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিও রয়েছে দেশের। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য রক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন গবেষকেরা।
তাঁদের মতে, জীববৈচিত্র্য হারালে শুধু প্রাণী বা বনই হারাবে না, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ও মানুষের জীবনযাত্রাও হুমকিতে পড়বে। তাই উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার সময় পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বনভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমছে। পরিবেশবিদদের মতে, এই পরিস্থিতিতে জীববৈচিত্র্য আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে বহু প্রজাতি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে শুধু পরিবেশের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের টিকে থাকা, অর্থনীতি, কৃষি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্নও। আর সেই কারণেই বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য আইন এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
.png)

টানা তিন বছর তিন মাস বঙ্গভবনে কাটানোর পর অবশেষে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁর মেয়াদের অবসান ঘটে।
২৪ জুলাই ২০২৬
গত কয়েক দিন ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাষ্ট্রপতির চেয়ার ছেড়ে দিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে তুলে ধরে এরই মধ্যে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্পিকার।
২৪ জুলাই ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি শুধু আরেকটি মৌসুমি আবহাওয়ার ঘটনা নয়; আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি বাজার ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
২৩ জুলাই ২০২৬
প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট নিয়ে বৈশ্বিক র্যাংকিং প্রকাশিত হয়। কোথাও বলা হয়, সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী, আবার কোথাও দেখা যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত শীর্ষে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থানও বিভিন্ন সূচকে কিছুটা ভিন্ন দেখা যায়।
২৩ জুলাই ২০২৬