leadT1ad

এক্সপ্লেইনার

যুদ্ধে কে জিতল, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১৭: ৩৬
এআই জেনারেটেড ছবি

প্রায় চার মাসের যুদ্ধ। হাজারো মানুষের প্রাণহানি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা। এরপর আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছেন। তারপরও ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়—এই যুদ্ধে আসলে কে জিতল?

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বলছে, তারা ইরানের সামরিক শক্তি ভেঙে দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তারা শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে এবং প্রতিপক্ষকে নিজেদের শর্তে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে। সেই আলোচনা ওয়াশিংটনের সর্বোচ্চ প্রত্যাশাও পূরণ করতে পারেনি। প্রাথমিক চুক্তির পর পারমাণবিক ইস্যুতে আরও আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধের ফলাফল কোনো পক্ষের নিরঙ্কুশ বিজয় নয়। বরং এটি এমন এক ব্যয়বহুল অচলাবস্থা, যেখানে উভয় পক্ষই কিছু অর্জন করেছে, আবার অনেক কিছু হারিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক এটিকে ‘কস্টলি স্ট্যালমেট’ বা ব্যয়বহুল অচলাবস্থা বলছেন। কেউ কেউ আবার ইরানের অর্জনকে ‘পাইরিক বিজয়’ বা চরম মূল্য দিয়ে অর্জিত সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করছেন।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মতে, কে জয়ী আর কে পরাজিত, তা নির্ভর করে সাফল্যের সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে তার ওপর। যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনের লক্ষ্য শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা থেকে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের দিকেও গড়ায়। অন্যদিকে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ—যেকোনো মূল্যে শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা।

সেই বিবেচনায় বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করেন, ইরান এখন পর্যন্ত তার লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। তাদের মতে, ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে দেশটির শাসনব্যবস্থা এখনো অটুট রয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব ধরে রাখার কারণে ভবিষ্যতে যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার শর্ত নির্ধারণেও ইরান উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সাফল্য-ব্যর্থতা

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তি এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নৌ প্রতিরক্ষার ৮০ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজার পাঁচশর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয় হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের বিমানবাহিনী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

নৌবাহিনীর বড় অংশও ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮২ শতাংশ অকার্যকর হয়ে গেছে। হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথিদের নিয়ে গঠিত ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক যুদ্ধ শুরুর আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা যুদ্ধে সীমিত ভূমিকা রাখতে পেরেছে। যুদ্ধের পর তাদের পুনরায় অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের সক্ষমতা আরও কমে গেছে।

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন ‘পূর্ণ বিজয়’। তাঁর লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন অথবা অন্তত আরও ‘যৌক্তিক’ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে তিনি চেয়েছিলেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের অবসান ঘটাতে।

কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোও আগের মতোই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পরে ট্রাম্প এটিকে ‘নতুন নেতৃত্বের’ উত্থান বলে উল্লেখ করলেও অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, কঠোরপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশটি এখনো এক বছরেরও কম সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত ৬০ দিনের আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

অনেকের মতে, এই আলোচনা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বা জেসিপিওএর কিছু উপাদান আবার ফিরিয়ে আনতে পারে। অথচ সেই চুক্তিকে ট্রাম্প একসময় ‘ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং পরে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারও করে নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া মূলত যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু একই সঙ্গে ইরান নতুন এক কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে। দেশটি এখন নিজেকে কার্যত এই প্রণালির ‘প্রহরী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৬০ দিনের আলোচনা শেষে পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে ফি বা টোল আরোপের চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ১৫ জুন এক সম্পাদকীয়তে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ড লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চার মাসব্যাপী ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানো প্রাথমিক চুক্তি অবশ্যই স্বাগতযোগ্য। তবে এটি কিছু কঠিন বাস্তবতাও সামনে এনেছে। তাদের ভাষায়, ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করে বড় ধরনের ভুল করেছিলেন। সামরিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক—সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় মতে, সামগ্রিক বিচারে চার মাসের এই যুদ্ধে কৌশলগতভাবে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির প্রশ্নে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়া এবং জেসিপিওএর মতো কোনো কাঠামোয় ফেরার সম্ভাবনা ট্রাম্পের জন্য এক ধরনের পিছু হটার সমান।

রয়টার্সের এক বিশ্লেষণেও একই প্রশ্ন তোলা হয়— ট্রাম্প আদৌ তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন কি না। সেখানে বলা হয়, ইরান সামরিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার সময়সীমায় খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিষয়টিও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হয়নি।

ইরানের দৃষ্টিকোণ: টিকে থাকা ও নতুন প্রভাব, কিন্তু চড়া মূল্যে

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধের চিত্রটি ভিন্ন। দেশটি ভয়াবহ আঘাত সহ্য করলেও রাষ্ট্র হিসেবে টিকে গেছে। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মধ্যে বড় কোনো বিভক্তি দেখা যায়নি। ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের প্রভাবের মধ্যেই শাসনব্যবস্থা টিকে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য এক নতুন প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করেছে। অনেক বিশ্লেষক একে ‘অর্থনৈতিক পারমাণবিক অস্ত্র’ বলছেন। এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে। দেশটি পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ বা পিজিএসএ গঠন করেছে এবং ৬০ দিনের আলোচনা শেষে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি বা টোল আরোপের ইঙ্গিতও দিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতি, তেল বিক্রির ছাড়, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিষয়ে ৬০ দিনের আলোচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের ওপর একতরফাভাবে শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং তেহরান আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

ফরেন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ইরানবিষয়ক পরিচালক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক আলোচক নেট সোয়ানসন লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তখন তেহরানের সরকার ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানগুলোর একটিতে। কিন্তু ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং দুই মাসের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র অটুট অবস্থায় টিকে আছে। বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং তারা নতুন ধরনের প্রতিরোধক্ষমতা ও কৌশলগত শক্তি অর্জন করেছে।

তাঁর মতে, সরলভাবে বললে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধও হেরেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আলোচনাও হেরেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি তেহরান অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে হরমুজে বাড়তি টোল বা ফি আরোপের পথে হাঁটে, তাহলে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং যুদ্ধের পরের শান্তিটা হারাতে পারে।

ফরেন পলিসিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যারি এস ট্রুম্যান ইনস্টিটিউটের গবেষণা ফেলো এবং শালেম কলেজের প্রভাষক মেনাহেম মেরহাভি লিখেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজিত করতে পারেনি, আবার ইসলামি প্রজাতন্ত্রও ভেঙে পড়েনি। ফলে এই যুদ্ধ থেকে ইরান না বিজয়ী হিসেবে বেরিয়েছে, না পরাজিত হিসেবে। দেশটি তার দীর্ঘদিনের নেতা হারিয়েছে, কৌশলগত নিরাপত্তার ধারণা হারিয়েছে এবং প্রক্সি নীতির বিশ্বাসযোগ্যতার বড় অংশ নষ্ট হয়েছে। তবে তারা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছে এবং যথেষ্ট সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।

তাঁর ভাষায়, এটি চরম মূল্য দিয়ে অর্জিত বিজয় বা এমন সাফল্য, যা শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতির কারণ হয়। কারণ টিকে থাকলেও সামনে ইরানকে বৈধতা ও শাসনক্ষমতার গভীর সংকটের মুখোমুখি হতে হবে, বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর জনগণ যদি সরকারের ব্যর্থতাগুলো আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যে শাসনব্যবস্থা দেশকে এত বড় সংকটের মধ্যে ফেলেছে, সেই ব্যবস্থার ওপর জনগণ আবার আস্থা রাখবে কি না। লেখকের মতে, যুদ্ধ টিকে থাকার চেয়ে এই আস্থা পুনর্গঠন করাই ইরানের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।

বৃহত্তর প্রভাব এবং আসন্ন ঝুঁকি

এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি এখনো ঝুঁকির মুখে। অন্তর্বর্তী সমঝোতা যুদ্ধবিরতির কাঠামো নির্ধারণ করলেও হরমুজ প্রণালির প্রশাসন, পারমাণবিক কর্মসূচির যাচাই, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ এখনো রয়ে গেছে।

যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক ক্ষোভের মধ্যে রাজনৈতিক বৈধতা পুনর্গঠন, প্রক্সি নীতির ব্যর্থতা মোকাবিলা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে জনগণের বাড়তি প্রত্যাশা সামাল দেওয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও কৌশলগত ব্যয়, মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধে কোনো নিরঙ্কুশ বিজয়ী নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও কৌশলগতভাবে তারা শেষ পর্যন্ত এমন এক সমঝোতায় পৌঁছেছে, যেখানে ইরানের স্থিতিস্থাপকতা ও প্রভাব পুরোপুরি ভাঙা যায়নি। অন্যদিকে ইরান টিকে থাকার লড়াইয়ে জয়ী হলেও মানবিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভয়াবহ মূল্য দিয়েছে। দেশটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও এখনো অনিশ্চিত।

তাই বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ এই যুদ্ধকে এমন এক ‘পরাজয়-পরাজয়’ পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন, যা দেখিয়ে দিয়েছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সব লক্ষ্য অর্জন করা যায় না। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের বাস্তবতায় অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী কৌশল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই যুদ্ধ তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আগামী ৬০ দিনের আলোচনা এবং চুক্তির বাস্তবায়নই ঠিক করে দেবে, এই নাজুক শান্তি টিকে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতের আরেকটি সংঘাতের বীজ বপন করবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত