আল জাজিরার বিশ্লেষণ/ইরানকে চাপে রাখতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল, কতটা সফল হবেন তিনি

লেখা:
লেখা:
উসাইদ সিদ্দিকী

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ০১
ছবি: আল জাজিরা থেকে নেওয়া
ছবি: আল জাজিরা থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে সম্ভবত ইরানকে চাপে রাখার নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গত শুক্রবার যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর কঠোরভাবে আঘাত হেনে এর জবাব দেব।’ এর কিছুক্ষণ আগে ইরানের লারাক দ্বীপে আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটন হয়তো নতুন একটি ‘যুদ্ধ নয়, শান্তিও নয়’ কৌশলের দিকে এগোচ্ছে। এই কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না জড়িয়ে মাঝেমধ্যে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাবে।

তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কী নতুন কৌশল নিয়েছেন? আর যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী কতদিন এই কৌশল ধরে রাখতে পারবে?

লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা কেন

সোমবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলগত বন্দর বান্দার আব্বাসের কাছে লারাক দ্বীপে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটন জানায়, মার্কিন বাহিনী ইরানের দুটি রকেট লঞ্চার ধ্বংস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এসব লঞ্চার ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ইরানের লারাক দ্বীপ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের লারাক দ্বীপ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এরপর ইরান জর্ডানে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম থাকা দুটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জর্ডান জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করেছে। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।’

এদিকে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও হামলা বন্ধ করলে ইরান যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য ওয়াশিংটনকে জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও জানান তিনি। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।

তবে ওই চুক্তির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। চুক্তির ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে। সোমবারের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো দুই পক্ষ সরাসরি হামলায় জড়াল। এতে সংঘাত আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার দিকে ফিরে যেতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নতুন করে লড়াই শুরু হলেও এর অর্থ এই নয় যে সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেবে। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখন ‘অত্যন্ত ভালো’। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ইরানের আর্থিক ব্যবস্থা, সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার মানে এই নয় যে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব না। পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা আমরা দেখব,’ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সংঘাতের মধ্যে যেভাবে বদলেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪০ দিন ধরে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়, যা পরে আরও বাড়ানো হয়। জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। এতে যুদ্ধবিরতির কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয় এবং আরও বিস্তৃত শান্তি আলোচনা চালানোর জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়। তবে এমওইউতে বেশ কিছু বিষয় অস্পষ্ট ছিল।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটন হয়তো নতুন একটি ‘যুদ্ধ নয়, শান্তিও নয়’ কৌশলের দিকে এগোচ্ছে। এই কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না জড়িয়ে মাঝেমধ্যে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাবে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর কার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এর জেরেই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতাটি ভেঙে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এরপর জুলাইয়ে ইরানের ওপর আবারও হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালায়।

তবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন আবার কৌশল পরিবর্তন করেছে। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর বদলে এখন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনও ভূমিকা রেখেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এমন দাবি অস্বীকার করে বলেছে, তাদের অস্ত্রের মজুত শেষ হয়নি। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের আর্থিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে এই চাপ প্রয়োগ করা হবে।

বেসেন্ট জানান, ইরানের আয়ের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে তেল খাতও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে ৬০টি ‘প্রতিষ্ঠানের’ ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্যান্য দেশ ও কোম্পানিকেও সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা গৌণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

সোমবার বেসেন্ট বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা প্রমাণ করে যে দেশটির অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ছে। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ইরান এখন সামরিক হামলার মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো ইতোমধ্যে ইরানের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তবে বেসেন্টের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি। তিনি বলেন, ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দাবি সঠিক নয়।

সংবাদ সম্মেলনে হেম্মাতি বলেন, ‘আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলতে চাই, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র কি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ কৌশলের দিকে এগোচ্ছে? বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই এমন এক অনিশ্চিত অবস্থার দিকে যাচ্ছে, যেখানে স্থায়ী সমাধানের পথ দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

কোনো পক্ষই এখনই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরতে চাইছে না বলে মনে হচ্ছে । তবে নিজেদের স্বার্থ হুমকির মুখে পড়েছে মনে করলে দুই পক্ষই সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত এমন প্রমাণ ইতোমধ্যে মিলেছে।

সোমবার অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে ইরানের ওপর মাঝে মাঝে সামরিক হামলা চালানোর কৌশল বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিক্ষিপ্ত সামরিক হামলার পরিকল্পনায় এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন মেলেনি।

যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চালু হতে দেয়নি তেহরান। কখনো কখনো যেসব জাহাজকে তারা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ মনে করছে, শুধু সেগুলোকেই পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান দাবি করছে। ইরান অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোর দিকে মাঝেমধ্যে রকেট ছুড়ছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করছেন, মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার করে দিচ্ছে। সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভেঙে যাওয়ার পর জুলাইয়ে ইরানের ওপর আবারও হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরান জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তারা আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে রাজি নয়। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান এখন পর্যন্ত শুধু ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি বলেন, ‘কোনো দেশে নিয়মিত বোমা হামলা চালানো মানেই একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। এর অন্য কোনো নাম নেই।’ তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক, অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক কোনো পথেই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা থেকে সরে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থায়ী যুদ্ধের পথ বেছে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

পারসির মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘চরম পরাজয়’ কারণ যুদ্ধ শুরুর সময় ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, এই যুদ্ধ চার দিনের বেশি স্থায়ী হবে না। ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার কাঠামোতে পৌঁছেছে তারা। তবে ইরানের এক কর্মকর্তা ইসমাইলি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়।’ তিনি বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়’ এবং এর মধ্যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে চায়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু যুদ্ধের সময় তা কমে দৈনিক গড়ে মাত্র সাতটিতে দাঁড়িয়েছে। মোরতাজাভি বলেন, ‘অর্থনৈতিক চাপের কাছে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না।’ তাঁর মতে, উভয় পক্ষ হয়তো মনে করছে তারা পরিস্থিতির উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। কিন্তু প্রতিবার নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও বড় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আর কত দিন ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যেতে পারবে, সেটিও এখন অনিশ্চিত। হামলার সংখ্যা কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে এমন জল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক মূল্যও দিতে হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। দেশে তাঁর জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ট্রাম্পের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অবস্থান কোথায়

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান হিসেবে। তবে এখন দুই মিত্র দেশের অগ্রাধিকারে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। গত মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও বলেছেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যদিও ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এপ্রিলের প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েল এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র একবার ইরানে হামলা চালিয়েছে। তবে জুনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ইসরায়েল বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার এখন যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে বের করা। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের কারণে তৈরি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে চায় ওয়াশিংটন। বিশেষ করে নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের গবেষক ত্রিতা পারসি বলেছেন, দুই মিত্র দেশের স্বার্থ এখন আর এক জায়গায় নেই। তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকাল ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’

(আলজাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত