স্ট্রিম প্রতিবেদক

ফেসবুকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী খরচ বাঁচাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো উপনির্বাচন হবে না (১, ২)। একই সঙ্গে ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতের প্রার্থীই ওই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।
তবে স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি ভুয়া। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এমন কোনো মন্তব্য করেছেন বা নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যেভাবে ছড়াল
প্রচারিত ফটোকার্ডটির উৎস খুঁজতে গিয়ে ‘Gujob Tv-গুজব টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২১ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে প্রকাশিত একটি পোস্টপাওয়া যায়। ফটোকার্ডটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়, নির্বাচনী খরচ বাঁচাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন হবে না এবং আগের নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া জামায়াতের প্রার্থীকে সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে।
পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেখানে ব্যঙ্গাত্মক ফটোকার্ড, কাল্পনিক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন দাবি প্রকাশ করা হয়ে থাকে (১, ২, ৩, ৪)।
তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসন নিয়ে তৈরি ফটোকার্ডটি পরে একাধিক ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ধরনের স্যাটায়ার বা প্যারোডির উল্লেখ ছাড়াই প্রচার করা হয়। (১, ২, ৩)
ফলে স্যাটায়ারধর্মী পেজ থেকে প্রকাশিত কনটেন্টটি পরবর্তী প্রচারে বাস্তব ঘটনা ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নামে বানানো বক্তব্য
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘নির্বাচনী খরচ বাঁচাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো উপনির্বাচন হবে না’, ‘জামায়াত প্রার্থী এমপি’ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নামসহ বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমন কোনো বক্তব্য দিয়েছেন—এমন সংবাদ, ভিডিও, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন বাতিল বা আগের নির্বাচনের দ্বিতীয় প্রার্থীকে সংসদ সদস্য ঘোষণার কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
আসনটি শূন্য, হবে উপনির্বাচন
ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করলে সেদিন থেকে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি উপনির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘যেহেতু আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, এখন আমরা আইন-বিধি দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকায় বেশি সময় না নিয়ে দ্রুত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্যটি ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীকে এমপি করার সুযোগ নেই
প্রচারিত দাবিতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতের প্রার্থীকে উপনির্বাচন ছাড়াই ওই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে আসনটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
কিন্তু আগের নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য ঘোষণা করার কোনো বিধান এতে নেই। নির্বাচন কমিশনারের ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের বক্তব্যও প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

ফেসবুকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী খরচ বাঁচাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো উপনির্বাচন হবে না (১, ২)। একই সঙ্গে ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতের প্রার্থীই ওই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।
তবে স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি ভুয়া। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এমন কোনো মন্তব্য করেছেন বা নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যেভাবে ছড়াল
প্রচারিত ফটোকার্ডটির উৎস খুঁজতে গিয়ে ‘Gujob Tv-গুজব টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২১ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে প্রকাশিত একটি পোস্টপাওয়া যায়। ফটোকার্ডটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়, নির্বাচনী খরচ বাঁচাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন হবে না এবং আগের নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া জামায়াতের প্রার্থীকে সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে।
পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেখানে ব্যঙ্গাত্মক ফটোকার্ড, কাল্পনিক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন দাবি প্রকাশ করা হয়ে থাকে (১, ২, ৩, ৪)।
তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসন নিয়ে তৈরি ফটোকার্ডটি পরে একাধিক ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ধরনের স্যাটায়ার বা প্যারোডির উল্লেখ ছাড়াই প্রচার করা হয়। (১, ২, ৩)
ফলে স্যাটায়ারধর্মী পেজ থেকে প্রকাশিত কনটেন্টটি পরবর্তী প্রচারে বাস্তব ঘটনা ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নামে বানানো বক্তব্য
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘নির্বাচনী খরচ বাঁচাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো উপনির্বাচন হবে না’, ‘জামায়াত প্রার্থী এমপি’ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নামসহ বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমন কোনো বক্তব্য দিয়েছেন—এমন সংবাদ, ভিডিও, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন বাতিল বা আগের নির্বাচনের দ্বিতীয় প্রার্থীকে সংসদ সদস্য ঘোষণার কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
আসনটি শূন্য, হবে উপনির্বাচন
ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করলে সেদিন থেকে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি উপনির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘যেহেতু আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, এখন আমরা আইন-বিধি দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকায় বেশি সময় না নিয়ে দ্রুত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্যটি ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীকে এমপি করার সুযোগ নেই
প্রচারিত দাবিতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতের প্রার্থীকে উপনির্বাচন ছাড়াই ওই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে আসনটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
কিন্তু আগের নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য ঘোষণা করার কোনো বিধান এতে নেই। নির্বাচন কমিশনারের ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের বক্তব্যও প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
.png)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী’ শিরোনামে একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে এক্সেও। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটাই নতুন বাংল
