মাহজাবিন নাফিসা

১৯৭৮ সালের শেষভাগ। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে কিছুটা দূরেই এক শান্ত, প্রায় অচেনা গ্রাম নফল-লে শাতো। এখানে প্রতিদিন ভিড় জমছে সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী আর দূরদেশ থেকে আসা ইরানি প্রবাসীদের। কিন্তু এই ভিড় কোনো সাধারণ রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে নয়। এই গ্রামে বসেই নির্বাসিত এক ধর্মীয় নেতা দূরবর্তী একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করছিলেন। সেই নেতা ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি।
খোমেনির রাজনৈতিক নির্বাসনের শুরু ১৯৬৪ সালে। তখন ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরোধিতার কারণে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি ইরাকের নাজাফে ছিলেন। সেখানে ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক দর্শন গড়ে তোলেন খোমেনি।
কিন্তু ১৯৭৮ সালে এই পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরানে শাহবিরোধী আন্দোলন তীব্র হতে থাকলে, শাহের চাপে তৎকালীন ইরাকের সাদ্দাম সরকার খোমেনিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। প্রথমে কুয়েতে প্রবেশের চেষ্টা করেন খোমেনি। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সে আশ্রয় নেন।
এই সিদ্ধান্তই ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দেয়।
তার আগে আমাদের একটু ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাসের পেছনে। হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারক ইরানিরা মূলত শিয়া অনুসারী। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ১২তম ইমাম (ইমাম মাহদি) ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে শিশুকালে আত্মগোপন করেন। তিনি কেয়ামতের আগে ফিরে এসে পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। এই ‘ফিরে আসার’ প্রতীক্ষাই এই ধারার শিয়াদের মূল চালিকাশক্তি। ফলে সেসময় শিয়া আলেমরা রাজনীতি থেকে দূরে চলে যান। একে বলা হয় ‘মহা নীরবতার কাল’। তাদের ধারণা ছিল, ইমাম মাহদি যেহেতু নেই তাই দুনিয়ার কোনো সরকারই বৈধ নয়। এসময় তারা ধর্মীয় দিকে মনোযোগ দেন।
এই হাজার বছরের নীরবতাকে চুরমার করে দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। ১৯৭০-এর দশকে নির্বাসিত জীবনে তিনি এক যুগান্তকারী এক প্রশ্ন তোলেন—‘ইমাম মাহদি ফিরে না আসা পর্যন্ত কি মুসলমানরা অবিচার আর জুলুমের শিকার হতেই থাকবে?’
এর সমাধানেই তিনি এমন এক ব্যবস্থা আনেন, যেখানে ইমামের ছায়ায় একজন সুযোগ্য আলেম দেশ পরিচালনা করবেন। এখান থেকেই পরবর্তীতে ‘সুপ্রিম লিডার’ ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফ্রান্সে এসে খোমেনি প্যারিসের অদূরে ছোট গ্রাম নেফল-লে-শাতোতে বসবাস শুরু করেন। এখানে এসে তিনি এমন এক সুবিধা পান, যা ইরাকে কখনোই সম্ভব ছিল না। তা হলো বিশ্বের গণমাধ্যমের সরাসরি প্রবেশাধিকার।
প্রতিদিন তাঁর বাড়ির সামনে প্রচুর সাংবাদিক আসতেন। তিনি নিয়মিত সাক্ষাৎকার দিতেন, লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করতেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাঁর বক্তব্য অডিও ক্যাসেট আকারে ইরানে পাঠানো হতো। এই ক্যাসেটগুলো গোপনে মসজিদ, বাজার ও জনসমাবেশে ছড়িয়ে পড়ত। এর ফলে বিস্ময়করভাবে শারীরিকভাবে হাজার মাইল দূরে থেকেও খোমেনি ইরানের বিপ্লবের কেন্দ্রীয় নেতায় পরিণত হন।

অনেকেই বিস্মিত হন, ফ্রান্সের ছোট এক গ্রামের ছোট একটি বাড়িতে থেকে তিনি কীভাবে পাল্টে দিয়েছিলেন একটি দেশের ভবিষ্যৎ, উৎখাত করেছিলেন হাজার বছরের রাজতন্ত্রকে। নেফল-লে-শাতোর ছোট্ট গ্রামটি ছিল এক বিপ্লবের নীরব সদর দপ্তর, যেখানে নির্বাসিত এক ধর্মীয় নেতা মিডিয়ার শক্তিকে ব্যবহার করে হাজার মাইল দূরের একটি রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করেছিলেন।
ফ্রান্সে থাকার সময়ে খোমেনির বক্তব্যগুলো ছিল সুপরিকল্পিত এবং বহুমাত্রিক। প্রথমত, তিনি বারবার ঘোষণা করেন যে শাহের পতন অবশ্যম্ভাবী। এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান আন্দোলনকারীদের মধ্যে মনোবল বাড়িয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, তিনি একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, তবে এর কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন না। এই অস্পষ্টতাই ছিল তার বড় কৌশল।
তৃতীয়ত, তিনি লিবারেল, বামপন্থী এবং জাতীয়তাবাদী— সব ধরনের বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে আপাত ঐক্যের বার্তা দেন। এতে করে তাঁর নেতৃত্বে একটি বিস্তৃত জোট গড়ে ওঠে।
কিন্তু এই ঐক্য কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা নয় বরং ছিল একটি কৌশল, যা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ফ্রান্স সরকার খোমেনিকে থাকার অনুমতি দেয়, কারণ তিনি সরাসরি সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। এছাড়াও তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু বাস্তবে, এই স্বাধীনতাই তাঁকে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দেয়, যেখান থেকে তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব পরিচালনা করতে পারেন।
১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। তীব্র জনঅসন্তোষ ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে শাহ ইরান ত্যাগ করে মিশরে চলে যান। এতে রাষ্ট্রক্ষমতায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়। এই শূন্যতাই খোমেনির জন্য সুযোগ তৈরি করে। ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, খোমেনি প্যারিস থেকে ইরানে ফেরেন। তিনি এয়ার ফ্রান্সে ফ্লাইট-৪৭২১ এ করে তেহরানে পৌঁছান। তাঁর আগমনের দৃশ্য ছিল অভূতপূর্ব। লাখো মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমে আসে। এত মানুষ তাঁকে অভিবাদন জানাতে বিমানবন্দরের বাইরে হাজির হয়েছিল যে দেখে মনে হয়েছিল এত বড় জমায়েত বিশ্বে আর কোনোদিন কোথাও হয়নি। এটি শুধু একজন নেতার প্রত্যাবর্তন ছিল না— এটি ছিল এক যুগের সমাপ্তি এবং আরেক যুগের সূচনা।
তেহরানে পৌঁছে খোমেনি সরাসরি যান বেহেশ্ত-এ জাহরা কবরস্থানে, যেখানে তিনি বিপ্লবে নিহতদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এই ভাষণেই তিনি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা দেন। তিনি শাহের সরকারকে অবৈধ বলেন এবং ঘোষণা করেন, তিনিই নতুন সরকার গঠন করবেন। এভাবে তিনি সরাসরি ক্ষমতা দাবি করেন।
এরপর খোমেনি দ্রুতই মেহদি বাজারগানকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এটি ছিল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার ফলে বিপ্লবের বিভিন্ন অংশকে আপাতভাবে একত্র রাখা যায়। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে শুরু করে ধর্মীয় নেতৃত্বের হাতে।
১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯-এ সেনাবাহিনী নিরপেক্ষতা ঘোষণা করলে রাজতন্ত্র সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বিপ্লব সফল হয়, এবং ইরান একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যায়।
একই বছর মার্চের শেষে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে প্রশ্ন ছিল— রাজতন্ত্র থাকবে, নাকি ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র’ হবে? প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট পড়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে।
এরপর ১৯৭৯ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়।
তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, এপি, গার্ডিয়ান, হিস্টোরি ডটকম ও ব্রিটানিকা

১৯৭৮ সালের শেষভাগ। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে কিছুটা দূরেই এক শান্ত, প্রায় অচেনা গ্রাম নফল-লে শাতো। এখানে প্রতিদিন ভিড় জমছে সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী আর দূরদেশ থেকে আসা ইরানি প্রবাসীদের। কিন্তু এই ভিড় কোনো সাধারণ রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে নয়। এই গ্রামে বসেই নির্বাসিত এক ধর্মীয় নেতা দূরবর্তী একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করছিলেন। সেই নেতা ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি।
খোমেনির রাজনৈতিক নির্বাসনের শুরু ১৯৬৪ সালে। তখন ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরোধিতার কারণে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি ইরাকের নাজাফে ছিলেন। সেখানে ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক দর্শন গড়ে তোলেন খোমেনি।
কিন্তু ১৯৭৮ সালে এই পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরানে শাহবিরোধী আন্দোলন তীব্র হতে থাকলে, শাহের চাপে তৎকালীন ইরাকের সাদ্দাম সরকার খোমেনিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। প্রথমে কুয়েতে প্রবেশের চেষ্টা করেন খোমেনি। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সে আশ্রয় নেন।
এই সিদ্ধান্তই ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দেয়।
তার আগে আমাদের একটু ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাসের পেছনে। হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারক ইরানিরা মূলত শিয়া অনুসারী। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ১২তম ইমাম (ইমাম মাহদি) ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে শিশুকালে আত্মগোপন করেন। তিনি কেয়ামতের আগে ফিরে এসে পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। এই ‘ফিরে আসার’ প্রতীক্ষাই এই ধারার শিয়াদের মূল চালিকাশক্তি। ফলে সেসময় শিয়া আলেমরা রাজনীতি থেকে দূরে চলে যান। একে বলা হয় ‘মহা নীরবতার কাল’। তাদের ধারণা ছিল, ইমাম মাহদি যেহেতু নেই তাই দুনিয়ার কোনো সরকারই বৈধ নয়। এসময় তারা ধর্মীয় দিকে মনোযোগ দেন।
এই হাজার বছরের নীরবতাকে চুরমার করে দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। ১৯৭০-এর দশকে নির্বাসিত জীবনে তিনি এক যুগান্তকারী এক প্রশ্ন তোলেন—‘ইমাম মাহদি ফিরে না আসা পর্যন্ত কি মুসলমানরা অবিচার আর জুলুমের শিকার হতেই থাকবে?’
এর সমাধানেই তিনি এমন এক ব্যবস্থা আনেন, যেখানে ইমামের ছায়ায় একজন সুযোগ্য আলেম দেশ পরিচালনা করবেন। এখান থেকেই পরবর্তীতে ‘সুপ্রিম লিডার’ ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফ্রান্সে এসে খোমেনি প্যারিসের অদূরে ছোট গ্রাম নেফল-লে-শাতোতে বসবাস শুরু করেন। এখানে এসে তিনি এমন এক সুবিধা পান, যা ইরাকে কখনোই সম্ভব ছিল না। তা হলো বিশ্বের গণমাধ্যমের সরাসরি প্রবেশাধিকার।
প্রতিদিন তাঁর বাড়ির সামনে প্রচুর সাংবাদিক আসতেন। তিনি নিয়মিত সাক্ষাৎকার দিতেন, লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করতেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাঁর বক্তব্য অডিও ক্যাসেট আকারে ইরানে পাঠানো হতো। এই ক্যাসেটগুলো গোপনে মসজিদ, বাজার ও জনসমাবেশে ছড়িয়ে পড়ত। এর ফলে বিস্ময়করভাবে শারীরিকভাবে হাজার মাইল দূরে থেকেও খোমেনি ইরানের বিপ্লবের কেন্দ্রীয় নেতায় পরিণত হন।

অনেকেই বিস্মিত হন, ফ্রান্সের ছোট এক গ্রামের ছোট একটি বাড়িতে থেকে তিনি কীভাবে পাল্টে দিয়েছিলেন একটি দেশের ভবিষ্যৎ, উৎখাত করেছিলেন হাজার বছরের রাজতন্ত্রকে। নেফল-লে-শাতোর ছোট্ট গ্রামটি ছিল এক বিপ্লবের নীরব সদর দপ্তর, যেখানে নির্বাসিত এক ধর্মীয় নেতা মিডিয়ার শক্তিকে ব্যবহার করে হাজার মাইল দূরের একটি রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করেছিলেন।
ফ্রান্সে থাকার সময়ে খোমেনির বক্তব্যগুলো ছিল সুপরিকল্পিত এবং বহুমাত্রিক। প্রথমত, তিনি বারবার ঘোষণা করেন যে শাহের পতন অবশ্যম্ভাবী। এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান আন্দোলনকারীদের মধ্যে মনোবল বাড়িয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, তিনি একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, তবে এর কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন না। এই অস্পষ্টতাই ছিল তার বড় কৌশল।
তৃতীয়ত, তিনি লিবারেল, বামপন্থী এবং জাতীয়তাবাদী— সব ধরনের বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে আপাত ঐক্যের বার্তা দেন। এতে করে তাঁর নেতৃত্বে একটি বিস্তৃত জোট গড়ে ওঠে।
কিন্তু এই ঐক্য কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা নয় বরং ছিল একটি কৌশল, যা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ফ্রান্স সরকার খোমেনিকে থাকার অনুমতি দেয়, কারণ তিনি সরাসরি সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। এছাড়াও তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু বাস্তবে, এই স্বাধীনতাই তাঁকে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দেয়, যেখান থেকে তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব পরিচালনা করতে পারেন।
১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। তীব্র জনঅসন্তোষ ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে শাহ ইরান ত্যাগ করে মিশরে চলে যান। এতে রাষ্ট্রক্ষমতায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়। এই শূন্যতাই খোমেনির জন্য সুযোগ তৈরি করে। ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, খোমেনি প্যারিস থেকে ইরানে ফেরেন। তিনি এয়ার ফ্রান্সে ফ্লাইট-৪৭২১ এ করে তেহরানে পৌঁছান। তাঁর আগমনের দৃশ্য ছিল অভূতপূর্ব। লাখো মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমে আসে। এত মানুষ তাঁকে অভিবাদন জানাতে বিমানবন্দরের বাইরে হাজির হয়েছিল যে দেখে মনে হয়েছিল এত বড় জমায়েত বিশ্বে আর কোনোদিন কোথাও হয়নি। এটি শুধু একজন নেতার প্রত্যাবর্তন ছিল না— এটি ছিল এক যুগের সমাপ্তি এবং আরেক যুগের সূচনা।
তেহরানে পৌঁছে খোমেনি সরাসরি যান বেহেশ্ত-এ জাহরা কবরস্থানে, যেখানে তিনি বিপ্লবে নিহতদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এই ভাষণেই তিনি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা দেন। তিনি শাহের সরকারকে অবৈধ বলেন এবং ঘোষণা করেন, তিনিই নতুন সরকার গঠন করবেন। এভাবে তিনি সরাসরি ক্ষমতা দাবি করেন।
এরপর খোমেনি দ্রুতই মেহদি বাজারগানকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এটি ছিল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার ফলে বিপ্লবের বিভিন্ন অংশকে আপাতভাবে একত্র রাখা যায়। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে শুরু করে ধর্মীয় নেতৃত্বের হাতে।
১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯-এ সেনাবাহিনী নিরপেক্ষতা ঘোষণা করলে রাজতন্ত্র সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বিপ্লব সফল হয়, এবং ইরান একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যায়।
একই বছর মার্চের শেষে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে প্রশ্ন ছিল— রাজতন্ত্র থাকবে, নাকি ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র’ হবে? প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট পড়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে।
এরপর ১৯৭৯ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়।
তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, এপি, গার্ডিয়ান, হিস্টোরি ডটকম ও ব্রিটানিকা

১৯৭৯ সালের ১ এপ্রিল। ইরানের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিন। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। পতন ঘটে রেজা শাহ পাহলভির শাসনের। এই রাজনৈতিক বাকবদলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে ইরানের সংস্কৃতিতে। বিশেষ করে ইরানের চলচ্চিত্র জগতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আসে।
৪ ঘণ্টা আগে
১৯৬৯ সালের জুলাই। মানব ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত একটি বাক্য ভেসে আসে চাঁদের মাটি থেকে— ‘একজন মানুষের জন্য ছোট ধাপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য বিশাল এক পদক্ষেপ।’ নীল আর্মস্ট্রংয়ের সেই প্রথম পদচিহ্ন, মানবজাতির এক নতুন ইতিহাস। তবে, এই ঘটনাটি শুধু প্রযুক্তির জয় ছিল না, ছিল এক রাজনৈতিক সময়ের প্রতীক।
৫ ঘণ্টা আগে
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব কেবল ইসলামপন্থীদের একক কোনো লড়াই ছিল না। শাহের পতন ঘটাতে বামপন্থী ও সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিলেন। রাজতন্ত্রের পতন নিশ্চিত হওয়ার পর সবাই একটি নতুন ও স্বাধীন ইরানের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে যখন ইসলামি প্রজাতন্ত্
১১ ঘণ্টা আগে
‘আমি চাই না আপনারা আমাকে দেখেন, মানুষ খুশি থাকলে আমিও খুশি’— অত্যন্ত সাধারণ এই জীবনবোধের অধিকারী কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চরের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম তাজুর। তিনি আজ ইন্টারনেটে এক পরিচিত নাম।
১ দিন আগে