আজ শহীদ আসাদ দিবস
তামান্না আনজুম

১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি, সোমবার। ছাত্র বিক্ষোভের চতুর্থ দিন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ডাকা ধর্মঘট ঠেকাতে সরকার জারি করে ১৪৪ ধারা। সেই ধারা ভঙ্গ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলায় এসে জড়ো হন। দুপুর ১২টার দিকে এক সংক্ষিপ্ত সভা শেষে প্রায় দশ হাজার ছাত্রছাত্রী ক্ষিপ্রগতিতে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান পুরান ঢাকার দিকে। ওই মিছিলে গুলি করে পুলিশ। মুহূর্তে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান। পরে আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল শুরু করে ছাত্র-জনতা।
ওই সময়ের কবি শামসুর রাহমান লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিত—‘আসাদের শার্ট’। এই কবিতার পেছনের গল্প জানতে একসময় শামসুর রাহমানের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন সাংবাদিক দীপংকর গৌতম। তিনি কবির আত্মজীবনী কালের ধূলোয়সহ কয়েকটি বই সম্পাদনার কাজ করছিলেন। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়—
সেই সময় শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক। ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাস্তায় নামে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তারা সভা করে, মিছিল বের করে। পুলিশ ও ইপিআরের বড় বাহিনী সেই মিছিলে আক্রমণ চালায়। অনেক ছাত্র আহত হয়, অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ২০ জানুয়ারি ছাত্রজনতা আবারও রাস্তায় নামে, এবার আরও বড় শক্তি নিয়ে। তারা পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। সংঘর্ষে একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটে। কাঁদানে গ্যাস কাজ করছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন থেকে বিশাল এক শোভাযাত্রা বেরিয়ে পড়ে—শহীদ মিনার হয়ে মেডিকেল কলেজের দিকে।
সেই মিছিলেই গুলি চালানো হয়। শামসুর রাহমান তখন বাসায় ছিলেন। সেখানেই তিনি খবর পান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আসাদুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। মেডিকেল কলেজের সামনেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা আসাদের লাশ নিজেদের দখলে নেয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়। একসময় আসাদের গায়ের শার্ট খুলে নেয় তারা।
কিছু সময় পর গুলিস্তান এলাকায় হাঁটতে হাঁটতে শামসুর রাহমান দেখেন এমন একটি দৃশ্য, যা তাঁকে স্থির থাকতে দেয়নি। একটি লাঠির মাথায় ঝুলছে রক্তে ভেজা শার্ট। ছাত্র আর সাধারণ মানুষ সেটি নিয়ে মিছিল করছে। শার্টটি আসাদের। কোনো স্লোগানের চেয়েও সেই দৃশ্য ছিল বেশি উচ্চকণ্ঠ।
দৃশ্যটি তাঁকে ভেতর থেকে ক্ষতবিক্ষত করে। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। অফিসে পৌঁছে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বারান্দায় বারবার হাঁটেন তিনি, কোনো দিকে মন বসে না। শেষ পর্যন্ত সেই অস্থিরতা থেকেই জন্ম নেয় শব্দ। কাগজ-কলম হাতে নিয়ে বসেন তিনি। লিখে ফেলেন সেই বিখ্যাত কবিতা—আসাদের শার্ট।

১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি, সোমবার। ছাত্র বিক্ষোভের চতুর্থ দিন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ডাকা ধর্মঘট ঠেকাতে সরকার জারি করে ১৪৪ ধারা। সেই ধারা ভঙ্গ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলায় এসে জড়ো হন। দুপুর ১২টার দিকে এক সংক্ষিপ্ত সভা শেষে প্রায় দশ হাজার ছাত্রছাত্রী ক্ষিপ্রগতিতে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান পুরান ঢাকার দিকে। ওই মিছিলে গুলি করে পুলিশ। মুহূর্তে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান। পরে আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল শুরু করে ছাত্র-জনতা।
ওই সময়ের কবি শামসুর রাহমান লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিত—‘আসাদের শার্ট’। এই কবিতার পেছনের গল্প জানতে একসময় শামসুর রাহমানের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন সাংবাদিক দীপংকর গৌতম। তিনি কবির আত্মজীবনী কালের ধূলোয়সহ কয়েকটি বই সম্পাদনার কাজ করছিলেন। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়—
সেই সময় শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক। ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাস্তায় নামে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তারা সভা করে, মিছিল বের করে। পুলিশ ও ইপিআরের বড় বাহিনী সেই মিছিলে আক্রমণ চালায়। অনেক ছাত্র আহত হয়, অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ২০ জানুয়ারি ছাত্রজনতা আবারও রাস্তায় নামে, এবার আরও বড় শক্তি নিয়ে। তারা পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। সংঘর্ষে একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটে। কাঁদানে গ্যাস কাজ করছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন থেকে বিশাল এক শোভাযাত্রা বেরিয়ে পড়ে—শহীদ মিনার হয়ে মেডিকেল কলেজের দিকে।
সেই মিছিলেই গুলি চালানো হয়। শামসুর রাহমান তখন বাসায় ছিলেন। সেখানেই তিনি খবর পান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আসাদুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। মেডিকেল কলেজের সামনেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা আসাদের লাশ নিজেদের দখলে নেয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়। একসময় আসাদের গায়ের শার্ট খুলে নেয় তারা।
কিছু সময় পর গুলিস্তান এলাকায় হাঁটতে হাঁটতে শামসুর রাহমান দেখেন এমন একটি দৃশ্য, যা তাঁকে স্থির থাকতে দেয়নি। একটি লাঠির মাথায় ঝুলছে রক্তে ভেজা শার্ট। ছাত্র আর সাধারণ মানুষ সেটি নিয়ে মিছিল করছে। শার্টটি আসাদের। কোনো স্লোগানের চেয়েও সেই দৃশ্য ছিল বেশি উচ্চকণ্ঠ।
দৃশ্যটি তাঁকে ভেতর থেকে ক্ষতবিক্ষত করে। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। অফিসে পৌঁছে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বারান্দায় বারবার হাঁটেন তিনি, কোনো দিকে মন বসে না। শেষ পর্যন্ত সেই অস্থিরতা থেকেই জন্ম নেয় শব্দ। কাগজ-কলম হাতে নিয়ে বসেন তিনি। লিখে ফেলেন সেই বিখ্যাত কবিতা—আসাদের শার্ট।

কেনিয়ার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক শহর হলো নাকুরু। রাজধানী নাইরোবি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো সাতসকালে। তখন ভোরের প্রথম আলো শহরের কংক্রিটের ভবনগুলোতে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল গ্রামীণ জীবনের চমৎকার সব দৃশ্য। কেউ গরুর চামড়া মাথায় নিয়ে বাজারে যাচ্ছে, কারও হাতে সবজিভর্তি ব
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতের আলোকচিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং লেন্সের জাদুকর রঘু রাই আর নেই। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রোস্টেট এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর প
৬ ঘণ্টা আগে
আমাদের রান্নাঘরের অনেক জিনিসই প্লাস্টিকের তৈরি। তাই সহজেই এগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তবে আমরা চাইলেই খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি কমানো সম্ভব। রান্নাঘরে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।
১০ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
১ দিন আগে